প্রভাত রিপোর্ট: শিল্প, বাণিজ্য ও বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, চামড়া শিল্পখাতের সার্বিক উন্নয়নে স্বল্প ও দীর্ঘ-উভয় মেয়াদেই কার্যকর করণীয় নির্ধারণ করা হয়েছে। বিসিক ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে নীতিগত সহযোগিতাসহ এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সব ধরনের সহায়তা দেওয়া হবে। রবিবার (১৭ মে) মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ‘চামড়া শিল্পখাতের উন্নয়নে সুপারিশ প্রদান ও কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের লক্ষ্যে গঠিত টাস্কফোর্স’র ৯ম সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। সভায় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ওবায়দুর রহমান, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব আবদুর রহমান খান, বেপজার নির্বাহী পরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ মোয়াজ্জেম হোসেনসহ টাস্কফোর্সের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার চামড়া শিল্পের ওপর যথেষ্ট গুরুত্ব দিচ্ছে। আমরা একটি চামড়াও নষ্ট হতে দেব না উল্লেখ করে তিনি বলেন, পশু জবাই থেকে শুরু করে চামড়া বাজারজাতকরণ পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়াকে একটি সুশৃঙ্খল ব্যবস্থার আওতায় আনা হবে। এতে চামড়া খাতকে দেশের অন্যতম বড় আয়ের উৎসে পরিণত করা সম্ভব হবে। তিনি আরও বলেন, চামড়া সংরক্ষণের সুবিধা বাড়াতে হবে, যাতে কাঁচা চামড়া নষ্ট না হয়।
পাশাপাশি চামড়া শিল্পকে লাভজনক খাতে রূপান্তর করতে কেন্দ্রীয় বর্জ্য পরিশোধনাগার (সিইটিপি) আধুনিকায়ন এবং আন্তর্জাতিক মানের কমপ্লায়েন্স নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।
মন্ত্রী জানান, কোরবানির ঈদে পশুর চামড়া এতিমখানাসহ বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে পাঠানো হয়। এজন্য চামড়া সঠিকভাবে ছাড়ানো, সংরক্ষণ ও মানসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও করা হয়েছে।
সভায় বিটিএর প্রতিনিধির অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে চামড়া ব্যবসায়ীদের সহজ শর্তে ব্যাংক ঋণ দেওয়ার বিষয়ে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ ও বাংলাদেশ ব্যাংককে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। একইসঙ্গে এ খাতের ব্যবসায়ীদের দ্রুত আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতি অনুরোধ জানান মন্ত্রী। এ ছাড়া সাভারের ট্যানারি শিল্পে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং চামড়া শিল্পনগরীর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।