• সোমবার, ১৮ মে ২০২৬, ০৯:২৬ অপরাহ্ন
Headline
র‍্যাবকে শক্তিশালী করতে হচ্ছে নতুন আইন : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ৩ লাখ কোটি টাকার নতুন এডিপি পাস, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যে বাড়তি বরাদ্দ নতুন নথি ফাঁস: ইমরান খানকে সরাতে কলকাঠি নেড়েছিল যুক্তরাষ্ট্র স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলগুলোর সহযোগিতা চান সিইসি বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ইতিহাসে নতুন এক অধ্যায় লিখলেন মুশফিক সিঙ্গাপুরে নির্মাণাধীন ভবনে দুর্ঘটনা: কালিয়াকৈরের যুবক নিহত চাঁদ দেখা গেছে, দেশে ঈদুল আজহা ২৮ মে ১১৯ কোটি টাকা আত্মসাৎ: দুদকের মামলায় নতুন করে মাসুদ উদ্দিন গ্রেফতার ৯৫ বার পেছাল রিজার্ভ চুরির মামলার প্রতিবেদন দুর্নীতি ও মানিলন্ডারিং: নুরুল মজিদ-পলক-এনামুলের স্ত্রীর আয়কর নথি জব্দের নির্দেশ

ম্যাগনেট পিলারের আশায় সর্বস্বান্ত : প্রক্সি আসামি রিমান্ডে

Reporter Name / ২ Time View
Update : সোমবার, ১৮ মে, ২০২৬

প্রভাত রিপোর্ট: কথিত ‘ম্যাগনেট পিলার’ পাওয়ার আশায় এক ব্যবসায়ীর নগদ ও স্বর্ণালংকারসহ প্রায় ২০ কোটি টাকা এবং আরও ১৫ কোটি টাকার জমি প্রতারণার মাধ্যমে আত্মসাতের মামলায় আত্মসমর্পণ করে কারাগারে যান আসামি শারমিন আক্তার একা। সেই আসামি প্রকৃত আসামি কিনা, তা যাচাই করতে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ড চেয়েছে পুলিশ। সোমবার (১৮ মে) মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উত্তরা পূর্ব থানার উপ-পরিদর্শক মাহবুবুল আলম এ আবেদন করেন। এদিন আসামিকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। দুপুরে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দীনের আদালতে তোলা হয় তাকে। শুনানি সময় আসামি পক্ষে অ্যাডভোকেট মো. আলমগীর হোসাইন আদালতকে জানান, এই আসামি আসল আসামি নন। তিনি আসল আসামির পক্ষে প্রক্সি দিয়েছেন। এরপর আদালত বলেন, এটা গর্হিত অপরাধ। নথি দেখে পরে রিমান্ড আদেশ দেন ।
আদালত সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘ ৩০ বছরেরও বেশি সময় হংকংয়ে কাটানো ব্যবসায়ী আজিজুল আলম কথিত ‘ম্যাগনেট পিলার’ পাওয়ার আশায় নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকারসহ প্রায় ২০ কোটি টাকা এবং আরও ১৫ কোটি টাকা মূল্যের জমি ‘কালো জাদু’র খপ্পরে পরে হারিয়েছেন বলে কথিত এক ফকিরসহ ২৪ জনের বিরুদ্ধে প্রতারণার মামলা দায়ের করেন। প্রতারণার এ মামলায় প্রধান আসামি মো. মাজহারুল ইসলাম সোহেল ফকিরের স্ত্রী এজাহারনামীয় ৩ নম্বর আসামি শারমিন আক্তার একা ও ১৪ নম্বর আসামি লাইলী শাহনাজ খুশি (একার মা) ওরফে মুন্নি গত ১২ মে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আইনজীবীর মাধ্যমে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন। ওইদিন আদালত তাদের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। পরবর্তীতে ১৪ মে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উত্তরা পূর্ব থানার উপ-পরিদর্শক মাহবুবুল আলম আসামিদের দশ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। রিমান্ড শুনানিকালে মামলার বাদী পক্ষের আইনজীবী আদালতকে পৃথক আবেদন দিয়ে জানান, কাঠগড়ায় আসামি শারমিন আক্তার একা প্রকৃত পক্ষে আসামি নন। পরে আদালত তদন্ত কর্মকর্তাকে আসামি শনাক্ত করে ৩ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য নির্দেশ দেন।
তবে আসামি জেল হাজতে আটক থাকায় আসামি প্রকৃত পক্ষে শারমিন আক্তার একা কিনা তা যাচাইয়ের জন্য আসামির এনআইডি, পাসর্পোট, শিক্ষাগত সনদপত্র ও ফিঙ্গার প্রিন্ট সংগ্রহ করার জন্য আদালতের কাছে রবিবার সাত দিনের সময় চান মামলার তদন্ত কর্মকর্তা। এবং আসামিকে রিমান্ডে নিয়ে এসে জিজ্ঞাসাবাদ করতে সোমবার পাঁচ দিনের রিমান্ডে চেয়ে আবেদন করা হয়।
মামলার অভিযোগে এ ব্যবসায়ী উল্লেখ করেছেন, ২০২৪ সালের জানুয়ারি মাসে মিজান নামে এক ব্যক্তির মাধ্যমে এই চক্রের সঙ্গে পরিচয় হয় ওই ব্যবসায়ীর। চক্রের সদস্যরা তাকে জানায়, তাদের কাছে অলৌকিক ক্ষমতার প্রাচীন ম্যাগনেট পিলার আছে, যা বিদেশে ১০০ বিলিয়ন ডলারে বিক্রি সম্ভব। প্রধান আসামি সোহেল ফকির তার সুন্নতি লেবাস ও চটকদার কথায় ব্যবসায়ীর বিশ্বাস অর্জন করেন।
তার দাবি, বিশ্বাস অর্জনের পর তাকে বিভিন্ন কুফরি কালাম ও ‘শয়তানের নিশ্বাস’ ব্যবহার করে হিপনোটাইজ করা হয়। তাকে বিভিন্ন সময় মিষ্টি ও পানীয়র সঙ্গে নেশাজাতীয় দ্রব্য খাইয়ে তার মস্তিষ্ক বিকল করে দেয়া হতো। এরপর থেকে তিনি চক্রটির অনুগত হয়ে পড়েন। ভুক্তভোগী জানান, মাঝেমধ্যেই ‘হযরত তৈয়ব আহম্মেদ চিশতী’ নামে জিনের বাদশা পরিচয় দিয়ে তাকে ফোন করা হতো। জিনের বাদশা তাকে বলতেন, ‘বাবা তুই তো দুনিয়ার বাদশা, আখিরাতেরও বাদশা হয়ে গেছিস। তুই ১০০ বিলিয়ন ডলারের মালিক হবি।’ এ ছাড়া তাকে দামি গাড়ি, বাড়ি এবং আমেরিকা যাওয়ার প্রলোভনও দেয়া হয়। জিনের মা সেজেও তাকে ফোন করে মোহগ্রস্ত করে রাখা হত। জিনের বাদশার ভয় দেখিয়ে ও সম্মোহন করে ২০২৪ সালের জুন থেকে ২০২৫ সালের মে মাস পর্যন্ত আসামিরা কয়েক দফায় মোট ১৫ কোটি টাকা আত্মসাৎ করে। একপর্যায়ে ব্যবসায়ীর অফিসের ভল্টে রাখা মা ও স্ত্রীর ব্যবহৃত ২০০ ভরি স্বর্ণালংকারও নিয়ে যায় তারা, যার বাজারমূল্য প্রায় ৫ কোটি টাকা। এরপর উত্তরখান এলাকায় তার মালিকানাধীন ২৭.১৫ কাঠা জমির (বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ১৪-১৬ কোটি টাকা) দলিলে জোরপূর্বক স্বাক্ষর করিয়ে নেয় আসামিরা।
ভুক্তভোগী দাবি করেন, তাকে সোহেল ফকিরের অফিসে ডেকে নিয়ে নেশাজাতীয় মিষ্টি খাওয়ানো হত। দীর্ঘদিন তাকে এক ধরনের ঘোরের মধ্যে রাখা হয়েছিল। ওষুধের প্রভাব এবং জাদু-টোনার প্রভাবে তিনি তাদের সব কথাই শুনতেন। পরবর্তীতে তিনি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করেন। সবকিছু বুঝতে পেরে আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গে পরামর্শ করে রাজধানীর উত্তরা পূর্ব থানায় প্রতারণার অভিযোগ এনে ২৪ জনকে আসামি করে গত মাসে মামলা দায়ের করেন। আসামিদের মধ্যে উল্লেখযোগ্যরা হলেন- মাজহারুল ইসলাম সোহেল ফকির (৩৮), তার স্ত্রী শারমিন আক্তার একা (৩৫), দুই ভাই ভাই মো. সবুজ, রুবেল, শাশুড়ি লাইলী শাহনাজ খুশি (একার মা) ওরফে মুন্নি, জনৈক নাজমুল হাসান, এ আর রাসেল।


আপনার মতামত লিখুন :
More News Of This Category