• মঙ্গলবার, ০২ জুন ২০২৬, ০৬:৩০ অপরাহ্ন

সিদ্ধান্ত পাল্টে সংলাপে ফিরল ইরান, ট্রাম্প বললেন—‘দ্রুতগতিতে’ আলোচনা চলছে

Reporter Name / ৮ Time View
Update : মঙ্গলবার, ২ জুন, ২০২৬

প্রভাত ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার কূটনৈতিক আলোচনা আবার সঠিক পথে ফিরেছে। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত আঞ্চলিক একটি সূত্র সিএনএনকে এ তথ্য জানিয়েছে। এর আগে সোমবার ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ জানায়, লেবাননে নির্বিচার ইসরায়েলি হামলার প্রতিবাদে ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনা স্থগিত করেছে তেহরান। তবে এ বিষয়ে ভিন্ন বার্তা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি দাবি করেছেন, দুই দেশের মধ্যকার আলোচনা স্থগিত হয়নি, বরং তা ‘দ্রুতগতিতে’ এগিয়ে চলছে।
ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনা স্থগিত করা প্রসঙ্গে তাসনিমের প্রতিবেদনে বলা হয়, লেবাননে ইসরায়েলের শাসকগোষ্ঠীর অব্যাহত হামলা ও যুদ্ধবিরতির অন্যতম শর্ত হিসেবে লেবাননকে অন্তর্ভুক্ত রাখার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তেহরান এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ইরানের মতে, লেবাননসহ সব ফ্রন্টেই যুদ্ধবিরতির শর্ত লঙ্ঘিত হয়েছে। প্রতিবাদে ইরানের আলোচক দল ওয়াশিংটনের সঙ্গে ‘মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে আলোচনা এবং তথ্য আদান–প্রদান বিনিময়’ স্থগিত করছে।
এরপর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে চলমান আলোচনা বা দর–কষাকষি বন্ধ হয়ে গেলে তিনি কোনো তোয়াক্কা করবেন না। ট্রাম্প আরও বলেন, তিনি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও হিজবুল্লাহর একজন নেতার সঙ্গে কথা বলেছেন। তাঁরা পরস্পরের ওপর হামলা চালানো বন্ধ করবেন।
তাসনিম নিউজ জানায়, ইরান গাজা ও লেবাননে ইসরায়েলি হামলা বন্ধের পাশাপাশি লেবানন থেকে ইসরায়েলের সেনা সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে। একই সঙ্গে বলেছে, এসব বিষয়ে ইরান ও প্রতিরোধযোদ্ধাদের অবস্থানে সন্তুষ্টি না আসা পর্যন্ত কোনো আলোচনা হবে না।
তাসনিমের প্রতিবেদনে বলা হয়, তেহরান এবং এ অঞ্চলে তাদের মিত্র গোষ্ঠীগুলো এখন হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া ও অন্যান্য ফ্রন্টকে সক্রিয় করার বিষয়টি এজেন্ডায় রেখেছে। এর মধ্যে লোহিত সাগরের দক্ষিণ প্রান্তে অবস্থিত বাব আল-মান্দেব প্রণালিও রয়েছে।
লেবাননে ইসরায়েলি অভিযানের কথা উল্লেখ করে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি গতকাল এক্সে লিখেছেন, ‘একটি ফ্রন্টে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অর্থ সব ফ্রন্টে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন। যেকোনো লঙ্ঘনের পরিণতির জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল দায়ী।’
সোমবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। দুই দেশের নাজুক যুদ্ধবিরতির মধ্যেই এ পাল্টাপাল্টি হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা ছড়িয়েছে।
ইরানের প্রধান আলোচক ও দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোতে অবরোধ বজায় রেখে ও লেবাননে ইসরায়েলের হামলা না থামিয়ে স্পষ্টভাবেই চুক্তি লঙ্ঘন করছে। প্রতিটি পছন্দেরই একটা মূল্য আছে; আর সেই মূল্যটা একসময় চুকানোই লাগে।
এদিকে আল–জাজিরার খবরে বলা হয়, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সিএনবিসিকে বলেছেন, ‘সত্যি বলতে, এগুলো (ইরানের সঙ্গে চলমান আলোচনা) শেষ হয়ে গেলেও আমার কিছু আসে যায় না। আমি মোটেও পরোয়া করি না।’
ট্রাম্প জানান, নেতানিয়াহুর সঙ্গে তাঁর ‘অত্যন্ত ফলপ্রসূ’ ফোনালাপ হয়েছে। বৈরুতে কোনো সেনা পাঠানো হবে না এবং যে সেনারা রওনা হয়েছিলেন, তাঁদের ইতিমধ্যে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে।’ তিনি আরও জানান, হিজবুল্লাহর সঙ্গেও তাঁর ‘খুব ভালো কথা’ হয়েছে। হিজবুল্লাহ ও ইসরায়েল পরস্পরের ওপর হামলা চালাবে না। অবশ্য এ বিষয়ে ইসরায়েল বা হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, সোমবার ভোরে কুয়েতে মোতায়েন মার্কিন সেনাদের লক্ষ্য করে এ হামলা চালানো হয়। তবে ক্ষেপণাস্ত্র দুটি প্রতিহত করা হয়েছে। এতে কোনো মার্কিন সেনা হতাহত হননি। অন্যদিকে কুয়েত ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) এ হামলার দায় স্বীকার করে বলেছে, ইরানের সিরিক দ্বীপে হামলার জন্য কুয়েতের যে ঘাঁটি ব্যবহার করা হয়েছিল, তারা সেটি লক্ষ্য করেই এ প্রতিশোধমূলক হামলা চালিয়েছে।
এ ঘটনার পর আঞ্চলিক রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ শুরু হয়েছে। কুয়েতে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের হামলার নিন্দা জানিয়েছে সৌদি আরব। এক বিবৃতিতে সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একে কুয়েতের সার্বভৌমত্ব ও আন্তর্জাতিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন বলে আখ্যা দিয়েছে। তবে ইরান এ হামলাকে বৈধ আত্মরক্ষা বলে দাবি করে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লেখেন, যেসব আঞ্চলিক ঘাঁটি ব্যবহার করে ইরানের ওপর হামলা চালানো হচ্ছে, সেগুলোতে পাল্টা আঘাত করার আইনি অধিকার তেহরানের রয়েছে। কোনো দেশের ভূখণ্ড যেন অন্য দেশের বিরুদ্ধে আগ্রাসনে ব্যবহৃত না হয়, তা নিশ্চিত করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এ হামলায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নিন্দার সমালোচনা করে একে ‘ভণ্ডামি’ বলে আখ্যা দেন ইসমাইল বাঘাই।
আঞ্চলিক উত্তেজনা প্রশমনে যুক্তরাষ্ট্র একটি নতুন রোডম্যাপ বা পথনকশা নিয়ে কাজ করছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে গত ৪৮ ঘণ্টায় পৃথক বৈঠক করেছেন। নতুন পথনকশা অনুযায়ী হিজবুল্লাহ ইসরায়েলে সব ধরনের হামলা বন্ধ করবে এবং বিনিময়ে ইসরায়েল বৈরুতে আর কোনো হামলা চালাবে না। তবে ইরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, লেবাননে স্থায়ী যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো চুক্তি চূড়ান্ত হবে না।


আপনার মতামত লিখুন :
More News Of This Category