• বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬, ০৯:২১ অপরাহ্ন

ডিএসসিসির ৬৩ ওয়ার্ডে মশার ঘনত্ব বেশি, ২৭ ওয়ার্ড ডেঙ্গুর ঝুঁকিতে

Reporter Name / ৩ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬

প্রভাত রিপোর্ট: ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মোট ৭৫টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৬৩টিতে মশার ঘনত্ব নির্দিষ্ট সূচকের চেয়ে বেশি, যা ডেঙ্গু রোগের ক্ষেত্রে ঝুঁকিপূর্ণ। এডিস মশার লার্ভার ঘনত্ব অনুযায়ী ২৭টি ওয়ার্ড সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। ডিএসসিসি এলাকায় এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া রোগের বিস্তার রোধে করা এক জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে। গত ১২ মে থেকে ২৩ মে পর্যন্ত মোট ১২ দিন এ জরিপ পরিচালিত হয়। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) ডিএসসিসির নগরভবনে জরিপের ফল তুলে ধরেন সংস্থাটির প্রশাসক আবদুস সালাম।
জরিপের ফলাফলে বলা হয়, পরিদর্শন করা ২ হাজার ২৩৮টি বাড়ির মধ্যে ২৮১টি বাড়িতে এডিস মশার লার্ভা ও পিউপা (লার্ভার পরের স্তর) পাওয়া গেছে। তার মধ্যে বহুতল ভবনে ৩৫ দশমিক ২৩ শতাংশ, স্বতন্ত্র বাড়িতে ২৭ দশমিক ৭৬ শতাংশ, নির্মাণাধীন বাড়িতে ১৭ দশমিক ৪৪ শতাংশ এবং সেমিপাকা বাড়িতে ১৪ দশমিক ৫৯ শতাংশ লার্ভা পাওয়া যায়।
ডিএসসিসির ৭৫টি ওয়ার্ডের প্রতিটি থেকে ৩০টি করে মোট ২ হাজার ২৫০টি বাড়িকে নমুনা হিসেবে নেওয়া হয়েছে। সম্পূর্ণ দৈবচয়ন ও বৈজ্ঞানিক উপায়ে পরিচালিত এই ১২ দিনব্যাপী জরিপে ডিএসসিসি ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার মোট ৩৬ জন মাঠকর্মী অংশ নেন।
ডিএসসিসির জনসংযোগ বিভাগ জানায়, ডাটা সংগ্রহের নির্ভুলতা নিশ্চিত করতে আধুনিক ‘কবো টুলবক্স’ ব্যবহৃত হয়। জরিপ শেষে ব্ৰেটো ইনডেক্স, হাউজ ইনডেক্স, কনটেইনার ইনডেক্স এবং পিউপা ইনডেক্স এর মাধ্যমে ফলাফল প্রকাশ করা হয়, যা ভবিষ্যতে ডেঙ্গুর ‘হটস্পট’ চিহ্নিত করা হয়।
জরিপের ফলাফলে দেখা যায়, মশার প্রজননক্ষেত্র হিসেবে প্লাস্টিকের ড্রামে ৮.৮৯ শতাংশ, মেঝেতে জমানো পানিতে ১২.২৬ শতাংশ এবং বালতিতে জমানো পানিতে ১০.৩৪ শতাংশ চিহ্নিত হয়েছে।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন জানায়, ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু সরকারি উদ্যোগই যথেষ্ট নয় বরং নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ, বাসাবাড়ি ও কর্মস্থলের আশপাশ পরিষ্কার রাখা এবং সপ্তাহে অন্তত একদিন জমে থাকা পরিষ্কার পানি অপসারণের অভ্যাস গড়ে তোলাও অত্যন্ত জরুরি।
এ প্রেক্ষাপটে গণমাধ্যমের মাধ্যমে সঠিক তথ্য ও সচেতনতামূলক বার্তা জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে সংবাদকর্মীদের সহযোগিতা বিশেষভাবে প্রত্যাশিত। নগরবাসীর সহযোগিতা, গণমাধ্যমের ইতিবাচক ভূমিকা এবং সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে একটি ডেঙ্গুমুক্ত, নিরাপদ ও স্বাস্থ্যকর ঢাকা গড়ে তোলা সম্ভব হবে বলে আমরা আশাবাদী।
জরিপে প্রাপ্ত ফলাফলের ভিত্তিতে আগামী ৬ জুন ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া রোগ প্রতিরোধে সচেতনতামূলক শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে। ধানমন্ডি রবীন্দ্র সরোবর থেকে পর্যায়ক্রমে বাকি অঞ্চলগুলোতেও এই কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে। পাশাপাশি আগামী ৭ জুন থেকে ডেঙ্গুর অধিক ঝুঁকিপূর্ণ ২৭টি ওয়ার্ডে স্বাস্থ্য বিভাগ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সমন্বয়ে ৫ দিনব্যাপী বিশেষ ক্র্যাশ প্রোগ্রাম গ্রহণ করা হয়েছে। পরবর্তী সপ্তাহে বাকি মাঝারি ঝুঁকিপূর্ণ ৩৬টি ওয়ার্ডেও ৫ দিনব্যাপী বিশেষ ক্র্যাশ প্রোগ্রাম পরিচালনা করা হবে।


আপনার মতামত লিখুন :
More News Of This Category