• সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ০৮:৫১ অপরাহ্ন
Headline
পাথরঘাটায় প্রবাসী ১০ লক্ষাধিক টাকা ও স্বর্ণালংকার আত্মসাত, জীবিত স্বামীকে মৃত দেখিয়ে অন্যত্র বিয়ে! পিরোজপুরে বিশ্ব প্রবীণ নির্যাতন প্রতিরোধ সচেতনতা দিবস পালন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তির সমঝোতায় নাখোশ ইরানের কট্টরপন্থীরা বিহারে খান স্যারের কোচিং সেন্টারে হামলাকারি নেপালে অস্বাভাবিক মৃত্যু ট্রাম্পের জন্মদিনে হোয়াইট হাউসে ‘খাঁচায় লড়াই’-এর আয়োজন, সমালোচনা অর্থনীতিতে ধাক্কা, যুক্তরাজ্যে কমছে স্থায়ী কর্মী নিয়োগ ইরান–যুক্তরাষ্ট্র চুক্তিকে স্বাগত বিশ্বনেতাদের নিউজিল্যান্ডে একটি ফলের দোকানে অর্ধেক হলুদ–অর্ধেক লাল, এ কেমন আপেল যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তিচুক্তিকে ‘কৌশলগত পরাজয়’ হিসেবে দেখছেন ইসরায়েলি ডানপন্থীরা যুক্তরাষ্ট্রে ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনায় চালক ও ১১ যাত্রীর সবাই নিহত
আজ বিশ্বব্যাপী শিশু শ্রম প্রতিরোধ দিবস

শিশু শ্রম নয়, শিক্ষাই হোক প্রতিটি শিশুর অধিকার

Reporter Name / ৩৯ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ১১ জুন, ২০২৬

……………..নজরুল ইসলাম……………..

প্রতি বছর ১২ জুন বিশ্বব্যাপী শিশু শ্রম প্রতিরোধ দিবস পালিত হয়। এ দিবস আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, শিশুদের স্থান কর্মক্ষেত্রে নয়; তাদের স্থান বিদ্যালয়ে, খেলাধুলায়, সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে এবং নিরাপদ পারিবারিক পরিবেশে। “কোনো শিশুকে শ্রমে নয়, শিক্ষায় ও সৃজনশীল বিকাশে সম্পৃক্ত করি”—এই অঙ্গীকারই হতে পারে একটি মানবিক ও উন্নত সমাজ গঠনের ভিত্তি।
শিশু শ্রম একটি বৈশ্বিক সমস্যা হলেও উন্নয়নশীল দেশগুলোতে এর প্রভাব বেশি। দারিদ্র্য, শিক্ষার সুযোগের অভাব, পারিবারিক অসচেতনতা এবং সামাজিক বৈষম্যের কারণে অনেক শিশু অল্প বয়সেই শ্রমবাজারে প্রবেশ করতে বাধ্য হয়। কেউ কাজ করে হোটেল-রেস্তোরাঁয়, কেউ কারখানায়, কেউবা গৃহকর্মী হিসেবে। ফলে তাদের শৈশব, শিক্ষা ও স্বাভাবিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয়।
শিশু শ্রম শুধু একটি শিশুর ভবিষ্যৎ নষ্ট করে না, এটি একটি দেশের মানবসম্পদ উন্নয়নকেও ব্যাহত করে। যে শিশু আজ বিদ্যালয়ে থাকার কথা, সে যদি শ্রমে নিয়োজিত হয়, তাহলে আগামী দিনে সে দক্ষ ও সচেতন নাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠার সুযোগ হারায়। এর ফলে দারিদ্র্যের চক্রও দীর্ঘস্থায়ী হয়।
বাংলাদেশে শিশু শ্রম নিরসনে সরকার, বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা এবং আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান কাজ করছে। আইনগতভাবে ঝুঁকিপূর্ণ কাজে শিশু নিয়োগ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তবুও বাস্তবতার কারণে এখনও অনেক শিশু শ্রমে জড়িত রয়েছে। তাই শুধু আইন প্রণয়ন যথেষ্ট নয়; এর কার্যকর বাস্তবায়ন এবং সামাজিক গণসচেতনতা বৃদ্ধি জরুরি।
শিশুদের শ্রম থেকে ফিরিয়ে আনতে হলে সবার আগে শিক্ষাকে সহজলভ্য ও আকর্ষণীয় করতে হবে। বিদ্যালয়ে ঝরে পড়া রোধ, দরিদ্র পরিবারের জন্য সহায়তা বৃদ্ধি এবং শিশুদের জন্য নিরাপদ বিনোদন ও সৃজনশীল বিকাশের সুযোগ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। পরিবার, শিক্ষক, স্থানীয় প্রশাসন, গণমাধ্যম এবং সমাজের সচেতন নাগরিকদের সম্মিলিত উদ্যোগ ছাড়া শিশু শ্রম নির্মূল করা সম্ভব নয়।
বিশ্ব শিশু শ্রম প্রতিরোধ দিবসে আমাদের প্রত্যেকের অঙ্গীকার হওয়া উচিত—কোনো শিশুকে শ্রমে নিযুক্ত করব না এবং শিশু শ্রম দেখলে প্রতিবাদ করব। প্রতিটি শিশুর হাতে বই, খাতা ও স্বপ্ন তুলে দেওয়ার দায়িত্ব আমাদের সবার। কারণ আজকের শিশু আগামী দিনের বাংলাদেশ। তাদের শিক্ষা, সুরক্ষা ও সৃজনশীল বিকাশ নিশ্চিত করতে পারলেই গড়ে উঠবে একটি সমৃদ্ধ, মানবিক ও টেকসই ভবিষ্যৎ।
শিশু শ্রমমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে আসুন, আমরা সবাই একসঙ্গে কাজ করি। শিশুর মূখে হাসি, শিক্ষা ও সুন্দর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করাই হোক বিশ্ব শিশু শ্রম প্রতিরোধ দিবসের অঙ্গীকার।

লেখকঃ –
গণমাধ্যমকর্মী.nazrulnews1970@gmail.com,01919 53 52 84


আপনার মতামত লিখুন :
More News Of This Category