• বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬, ০৮:০৮ পূর্বাহ্ন
Headline
পাথরঘাটায় লেমুয়া বাজারে আগুন, অর্ধশতাধিক দোকান পুড়ে ছাই. ১৫ কোটি টাকার ক্ষতির আশঙ্কা তীব্র তারল্যসংকটে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর ক্লাব আল নাসর ইতিহাসের সবচেয়ে দামি ৩০০ কোটির ডলারের এক ম্যাচ আমি ফ্রান্সকে ভয় পাই না, আমরা ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন: ইয়ামাল গোলবন্যা আর রেকর্ডের ভিড়ে পাসিংয়ে সেরা আর্জেন্টিনা ৮ বছরের পুরোনো ম্যারাডোনার সেই ভবিষ্যদ্বাণী ২০২৬ বিশ্বকাপে মিলে যাচ্ছে ইসরায়েলের সাহায্যে কি তাহলে ইরানের ক্ষমতায় বসতে চেয়েছিলেন আহমাদিনেজাদ রাজস্ব আদায়ে ঘাটতি তৈরি হওয়ায় নড়েচড়ে বসেছে এনবিআর ব্যবসা সম্প্রসারণে যাচ্ছে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস, ধাপে ধাপে যুক্ত হচ্ছে ২১টি বোয়িং উড়োজাহাজ ২০২৫ সালে পোশাক রপ্তানিতে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ০.৮৯ শতাংশ

পানির চাপে সড়ক ধস, গুলশান-শাহজাদপুর লিংক রোডে যান চলাচলে বিঘ্ন

Reporter Name / ৭৫ Time View
Update : সোমবার, ১৩ জুলাই, ২০২৬

প্রভাত রিপোর্ট: টানা ভারী বৃষ্টিতে রাজধানীর গুলশান-শাহজাদপুর লিংক রোডের একটি অংশ ধসে পড়েছে। পানির তীব্র চাপ ও দীর্ঘ সময় জলাবদ্ধতার কারণে সড়কের নিচের মাটি সরে গিয়ে এ ধসের সৃষ্টি হয়েছে। এতে ওই সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে এবং দুর্ঘটনার আশঙ্কায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সোমবার (১৩ জুলাই) সকালে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, ধসে যাওয়া অংশ ঘিরে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ অংশ এড়িয়ে ধীরগতিতে যানবাহন চলাচল করছে। ফলে সড়কটিতে যানজটেরও সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘রাতভর বৃষ্টির পর সকালেই দেখি রাস্তার একাংশ দেবে গেছে। দ্রুত সংস্কার না করলে বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।’ আরেক পথচারী সুমাইয়া আক্তার বলেন, ‘প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে যাতায়াত করি। এখন অনেকটা ঘুরে যেতে হচ্ছে। প্রশাসনের দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।’ রিকশাচালক আব্দুল মালেক বলেন, ‘পানি আর ভাঙা রাস্তার কারণে যাত্রী নিয়ে চলাচল খুব কষ্ট হচ্ছে। যানজটও অনেক বেড়ে গেছে।’
এদিকে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতার কারণে জনদুর্ভোগ আরও বেড়েছে। অনেক সড়কে হাঁটুসমান পানি জমে থাকায় যানবাহনের গতি কমে গেছে। অফিসগামী এবং কর্মস্থল থেকে ফেরা মানুষকে দীর্ঘ সময় যানজটে আটকে থাকতে হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অপর্যাপ্ত পানি নিষ্কাশনব্যবস্থা, দীর্ঘদিনের অবকাঠামোগত দুর্বলতা এবং টানা ভারী বৃষ্টির সম্মিলিত প্রভাবে এ ধরনের ঘটনা ঘটছে। তারা দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক সংস্কার, কার্যকর ড্রেনেজ (নিষ্কাশন) ব্যবস্থা নিশ্চিত এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে নিয়মিত নজরদারি জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত স্থান পরিদর্শন করে দ্রুত সংস্কারকাজ শুরু করা হবে। পাশাপাশি জনসাধারণকে বিকল্প সড়ক ব্যবহার এবং ঝুঁকিপূর্ণ অংশে সতর্কতার সঙ্গে চলাচলের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
দেশজুড়ে টানা বর্ষণে বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গতকাল সকাল ৬টা থেকে আজ সকাল ৬টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় দেশের সর্বোচ্চ ১৭৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে চট্টগ্রামের আমবাগান এলাকায়।
রাজধানী ঢাকাতেও ভারী বৃষ্টি হয়েছে। রবিবার সকাল ৬টা থেকে সোমবার সকাল ৯টা পর্যন্ত ২৭ ঘণ্টায় মোট ১১০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে আজ সকাল ৬টা থেকে ৯টা পর্যন্ত মাত্র তিন ঘণ্টায় ১৩ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আজকের পর থেকে আগামী ১৫ জুলাই পর্যন্ত বৃষ্টিপাতের তীব্রতা ধীরে ধীরে কমতে পারে। তবে মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকায় ১৬ জুলাই থেকে আবারও বৃষ্টি বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সংস্থাটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, পুরো জুলাই মাসজুড়েই দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকবে, যদিও সময় ও স্থানভেদে এর পরিমাণ ও তীব্রতায় তারতম্য হতে পারে।


আপনার মতামত লিখুন :
More News Of This Category