• বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ০৬:১৪ অপরাহ্ন

ইংল্যান্ডকে কাঁদিয়ে বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনা

Reporter Name / ২১ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই, ২০২৬

প্রভাত স্পোর্টস: শেষ বাঁশি বাজার আগে কখনো হাল ছাড়তে নেই। এবার বিশ্বকাপে এই কথা প্রমাণ করতে করতে ফাইনালে উঠল আর্জেন্টিনা। আটলান্টায় বুধবার দিবাগত রাতে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে ২–১ গোলে হারিয়ে ফাইনালে উঠে গেছে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। নিউ জার্সিতে আগামী রোববার রাতে ফাইনালে মেসিদের প্রতিপক্ষ স্পেন। প্রথমার্ধে ফুটবলের বদলে মারামারি ও ফাউলই বেশি হয়েছে। ৩টি গোলই হয়েছে বিরতির পর। ৫৫ মিনিটে মর্গান রজার্সের ক্রস থেকে গোল করে ইংল্যান্ডকে এগিয়ে দেন অ্যান্থনি গর্ডন। এরপরই ইংল্যান্ডকে চেপে ধরে ৮৫ থেকে পরবর্তী ৮ মিনিটের মধ্যে ২টি গোল আদায় করে আর্জেন্টিনা।
৮৫ মিনিটে লিওনেল মেসির পাস পেয়ে বক্সের বাইরে থেকে দারুণ এক শটে গোল করে আর্জেন্টিনাকে সমতায় ফেরান এনজো ফার্নান্দেজ। যোগ করা (৯০+২) সময়ে হেডে বদলি নামা লাওতারো মার্তিনেজের গোলটির উৎসও মেসির ক্রস।
ইংল্যান্ড ম্যাচে এগিয়ে যাওয়ার পর আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের দুটি শট পোস্টে লাগে। দুটি দারুণ সেভও করেন ইংল্যান্ডের গোলকিপার জর্ডান পিকফোর্ড। বিরতির পর পাঁচটি শট পোস্টে রাখতে পেরেছে আর্জেন্টিনা, দুটি ইংল্যান্ড।
ফাউলের প্রথমার্ধে পোস্টে শট রাখতে পারেনি কোনো দল। তখন খেলা দেখে মনে হয়েছে, ফকল্যান্ড যুদ্ধ বুঝি ফিরে এসেছে! বিরতির পর ফুটবলে ফিরে শেষ হাসিটা হেসেছে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরাই। ইতিহাসের তৃতীয় দল হিসেবে এখন টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জয়ের সুযোগ আর্জেন্টিনার সামনে।
ইংল্যান্ড স্বপ্ন দেখেছিল ১৯৬৬ বিশ্বকাপের পর প্রথমবারের মতো ফাইনালে ওঠার। কিন্তু এবার বিশ্বকাপে শেষ ৩২ দলের রাউন্ড, শেষ ষোলো ও কোয়ার্টার ফাইনালে ম্যাচের শেষ দিকে গোল করাকে অভ্যাসে পরিণত করা আর্জেন্টিনা ঘুরে দাঁড়ানোয় অপেক্ষা বাড়ল তাদের।
ম্যাচে এগিয়ে যাওয়ার পর চারজন সেন্ট্রাল ডিফেন্ডার নিয়ে রক্ষণ বাঁচানোর চেষ্টা করেন ইংল্যান্ড কোচ টমাস টুখেল। কিন্তু উইং ব্যবহার করে ইংলিশ রক্ষণের ফাঁক বের করে আর্জেন্টাইন আক্রমণভাগ। অন্যদিকে পিছিয়ে পড়ার পর ইংল্যান্ড দলকে বলতে গেলে কোনো শটই নিতে দেয়নি আর্জেন্টাইন রক্ষণভাগ।
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এটাই ছিল মেসির প্রথম ম্যাচ। গোল না পেলেও আর্জেন্টিনার দুটি গোলের উৎস তৈরির পাশাপাশি ডান উইং ধরে বেশ কিছু আক্রমণ করেন আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি। এই ম্যাচে ৯টি সফল ড্রিবলও করেন মেসি। ১৯৬৬ সাল থেকে বিশ্বকাপের নথি সংরক্ষণ শুরুর পর প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে বিশ্বকাপের নকআউট ম্যাচে ৯টি ড্রিবলের পাশাপাশি ২টি গোলও তৈরি করলেন মেসি। জয়ের পর মাঠেই হাঁটু মুড়ে তাঁর উদ্‌যাপন অনেক দিন মনে রাখবেন আর্জেন্টিনার সমর্থকেরা।


আপনার মতামত লিখুন :
More News Of This Category