প্রভাত রিপোর্ট: বিএনপির প্রতি জনগণের মধ্যে যে আস্থা তৈরি হয়েছে, তাতে ঈর্ষান্বিত হয়ে অনেক রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ নানা বিদ্রুপ করছেন, কথা বলছেন, বিকৃত করার চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ করেছেন দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী। সোমবার (১৮ মে) রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৫ তম শাহদাত বার্ষিকী উপলক্ষ্যে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।
আওয়ামী লীগ ও তার জোটের শরিকদলগুলোকে ইঙ্গিত করে রুহুল কবির রিজভী বলেন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল বা একটি রাজনৈতিক দল বারবার প্রতিশ্রুতি দিয়ে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। ১০ টাকা কেজি চাল খাওয়াতে পারেনি, ঘরে-ঘরে চাকরি দিতে পারেনি, বিনামূল্যে সার দিতে পারেনি। কিন্তু তারা বলেছিলেন, প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। প্রতিশ্রুতি দেওয়া এবং পূরণ করার মধ্যে বড় ঘাটতি এদেশে দেখা গিয়েছিল আগে। কিন্তু বিএনপির পক্ষ থেকে নেতা যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তিনি ঠিক সেটা করছেন। প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করে চলেছেন। তিনি বলেন, এ কারণেই আজকে অনেক রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ আবার নানা ধরনের কথা বলছেন। নানা ধরনের ইস্যুকে ডাইভার্ট করার জন্য, বিকৃত করার জন্য কথা বলছেন। আজকে জনগণের মধ্যে যে আশার আলো ছড়িয়েছে। জনগণের মধ্যে যে আস্থার তৈরি হয়েছে। সেটাকে তারা টলাতে পারছেন না বলেই নানা বিদ্রুপ করছেন। নানা ধরনের বিরূপ মন্তব্য করছেন। কিন্তু যখন দেখছেন তাদের এই মন্তব্যে বাতাসে ভেসে যাওয়ার আগেই প্রতিশ্রুতি পালনে তারেক রহমান যেভাবে ছুটছেন, সেই ছোটাটা তাদের মন্তব্যের চেয়ে অনেক দ্রুতগতিতে ছুটে যাচ্ছে।
পিতার পথ ধরেই তারেক রহমান হাঁটছেন মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, আজকে গণতান্ত্রিক সংগ্রামে অবতীর্ণ হয়ে ২০১৮ সাল থেকে গোটা জাতিকে তিনি নেতৃত্ব দিয়েছেন। দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন সঠিক পথে এবং তিনি বিজয় নিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছেন। তিনি বলেন, এই বিজয় শুধু নিয়ে আসা নয়, তিনি কি করতে চান? বিএনপি ক্ষমতায় আসলে কি কি করা উচিত, জনকল্যাণে কি কি ভূমিকা রাখা উচিত, সেটি তিনি আগেই বলেছেন। তার অঙ্গীকারগুলো প্রকাশ্যে জনগণের মধ্যে বলেছেন। রাষ্ট্র ক্ষমতায় এসেছেন বিপুল ভোটের ব্যবধানে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের সঙ্গে বিপুল ব্যবধানে এবং নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করে ক্ষমতায় এসে যেদিন থেকে তিনি সরকার গঠন করেছেন, সেদিন থেকেই অঙ্গীকার পূরণে এক অনবদ্ধ ভূমিকা তিনি পালন করে চলেছেন। কীভাবে একের পর এক তার কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছুটে যাচ্ছেন তিনি।
রিজভী বলেন, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এবং আগামী দিনে হেলথ কার্ড তিনি করবেন। সেই প্রতিশ্রুতিসহ ইতোমধ্যে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। সেইগুলো বাস্তবায়নের জন্য তিনি ছুটছেন। শুধু তাই নয়, তার পিতার পথ ধরেই তিনি আবারও এই দেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করার জন্য তিনি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। আবার খালকাটা কর্মসূচি তিনি চালু করেছেন। ইতোমধ্যেই এটি সাড়া ফেলেছে সারা বাংলাদেশে। যেখানেই যাচ্ছেন তিনি, খালকাটা কর্মসূচি পুরো দমে সেখানে চালিয়ে যাচ্ছে।
জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদতবার্ষিকীতে বিএনপির ৮ দিনের কর্মসূচি: শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) আট দিনব্যাপী কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। কর্মসূচি পালনে যেন জন দুর্ভোগ না হয় সে বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে। সোমবার (১৮ মে) বেলা ১১টায় রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এ উপলক্ষে এক যৌথসভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। যৌথ সভা শেষে সংবাদ ব্রিফিংয়ে দলীয় কর্মসূচি গ্রহণের কথা জানান তিনি।
সভায় যুগ্ম মহাসচিবরা, ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবরা এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি, আহ্বায়ক, সাধারণ সম্পাদক ও সদস্য সচিবরা উপস্থিত ছিলেন।
রিজভী বলেন, যৌথসভায় সর্বসম্মতিক্রমে আগামী ২৫ মে থেকে ১ জুন ২০২৬ পর্যন্ত আট দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি পালনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এর মধ্যে রয়েছে— শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে পোস্টার প্রকাশ ও কালো ব্যাজ ধারণ, সংবাদপত্র ও অনলাইন মাধ্যমে ক্রোড়পত্র প্রকাশ, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে আলোচনা সভা আয়োজন, ৩১ মে রমনার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ মিলনায়তনে কেন্দ্রীয় আলোচনা সভা, ৩০ মে ভোর ৬টায় নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলীয় পতাকা অর্ধনমিতকরণ ও কালো পতাকা উত্তোলন, বেলা ১১টায় তারেক রহমানের নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় নেতারা জিয়াউর রহমানের মাজারে পুষ্পার্ঘ অর্পণ ও জিয়ারত করবেন। পরে জাতীয়তাবাদী ওলামা দলের উদ্যোগে দোয়া মাহফিল এবং ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের থানা পর্যায়ে দুঃস্থদের মাঝে খাদ্য ও বস্ত্র বিতরণ বিএনপির উদ্যোগে সারাদেশে জেলা ও মহানগর পর্যায়ে একই দিনে পতাকা অর্ধনমিতকরণ, কালো পতাকা উত্তোলন, আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল এবং দুঃস্থদের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হবে।