প্রভাত সংবাদদাতা, পাবনা: লিচু গুণগত মান ও স্বাদের কারণে সারাদেশেই সমাদৃত পাবনার ঈশ্বরদীর লিচু। চলতি বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় রেকর্ড পরিমাণ ফলন হয়েছে। মৌসুমের শুরুতে দেশি জাতের লিচু বিক্রি হলেও বর্তমানে বোম্বাই, বেদানা ও চায়না জাতের লিচুতে সরগরম হয়ে উঠেছে হাট-বাজার। দাম তুলনামূলক কম হলেও ভালো ফলন ও ব্যাপক বিক্রির কারণে সন্তুষ্ট চাষি ও ব্যবসায়ীরা।
উপজেলার জয়নগর বাজার ও আওতাপাড়া বাজারে প্রতিদিন ভোর ৪টা থেকে সকাল ৯টা পর্যন্ত কয়েক কোটি টাকা লিচু বিক্রি হচ্ছে। লিচু বেচাকেনায় ক্রেতা ও বিক্রেতাদের পদচারণায় মুখরিত হয় উঠেছে লিচুর হাট। বাজার থেকে লিচু কেনার পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা ব্যবসায়ীরা সরাসরি বাগান থেকেও লিচু কিনে নিয়ে যাচ্ছেন।
উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর ঈশ্বরদীতে প্রায় ৩ হাজার ১০০ হেক্টর জমিতে লিচুর আবাদ হয়েছে। আর লিচু বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে প্রায় ৭০০ কোটি টাকা। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ভালো ফলন হওয়ায় লাভবান হচ্ছেন চাষি ও ব্যবসায়ীরা।
এদিকে গত ১০ দিন ধরে উপজেলার জয়নগর ও আওতাপাড়া বাজারে বোম্বাই জাতের লিচু প্রতি হাজার ১২০০ থেকে ২৮০০ টাকা দরে বেচাকেনা হচ্ছে। গত বছর যেখানে সর্বোচ্চ ভালোমানের লিচু প্রতি হাজার ৪৫০০-৫০০০ টাকা দরে বেচাকেনা হয়েছে। এবার সেই লিচু বিক্রি হচ্ছে প্রতি হাজার সর্বোচ্চ ২৮০০ টাকা। গতবারের তুলনায় দাম কম হলেও ফলন দ্বিগুণ-তিনগুণ হওয়ায় চাষিরা এ দামে লিচু বিক্রি করে খুশি।
চাষিরা জানান, অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছর লিচুর ফলন বেশি হওয়ায় দাম কিছুটা কম। অন্য বছর যে গাছে ৩ হাজার লিচুর ফলন হয়েছিল এবছর সেখানে কমপক্ষে ১০ হাজার লিচুর ফলন হয়েছে। লিচু এমন একটি ফল এটি পাকা শুরু করলে ৭ থেকে ১০ দিনের মধ্যে গাছ থেকে সংগ্রহ করে বিক্রি করতে হয়। তা না হলে লিচুতে পচন ধরে যায়। ফলে দ্রুততম সময়ের মধ্যে লিচু বিক্রির কারণে দাম কিছুটা কম পাওয়া যায়।
জয়নগর লিচুর হাটে চাষি আমির হোসেনের সঙ্গে কথা হয়। তিনি বলেন, ভোরে এ হাটে লিচু প্রতি হাজার ২৭০০-২৮০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। সকাল ৮টার দিকে এ লিচু প্রতি হাজার ২০০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বাজারে পর্যাপ্ত লিচু আমদানি হওয়ার কারণে দাম কম। তবে কম দামে লিচু বিক্রি করেও আমরা খুশি। আল্লাহ যেহেতু লিচুর পর্যাপ্ত ফলন দিয়েছে, সেটি যদি এখন কম দামে নিয়ে সবাই খেতে পারে তাতেই আমরা খুশি। আমরা ফলনের ব্যাপারে যা আন্দাজ করেছিলাম তার চেয়ে অনেক বেশি ফলন হয়েছে।
লিচু চাষি আসাদুল ইসলাম বলেন, লিচুর বাজারদর খুব কম। আমদানি বেশি হওয়ায় দাম কমে গেছে। হাটে লিচু এনেছি , এগুলো মান ভালো তবুও প্রতি হাজার ২৬০০ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে। বাজার ভালো হলে এ লিচু প্রতি হাজার ৩০০০ টাকার বেশি বিক্রি হতো।
উপজেলার জয়নগর লিচুর হাটে কথা হয় বাগান মালিক ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আতিয়ার রহমানের সঙ্গে। তিনি বলেন, এবার ঈশ্বরদীতে বিশেষ করে সলিমপুর ইউনিয়নে লিচুর উৎপাদন খুব বেশি। এবার ঈদের আগের থেকে বোম্বাই লিচুর বেচাকেনা হয়। ঈদের মধ্যে দুইদিন লিচু বেচাকেনা বন্ধ ছিল। ফলে ঢাকাসহ দূর-দূরান্ত থেকে আসা ব্যবসায়ী ও ব্যাপারীরা না থাকায় বেচাকেনা বন্ধ ছিল। এতে লিচু চাষিরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। গত কয়েকদিন ধরে লিচুর আমদানি খুব বেশি। সে তুলনায় ক্রেতা কম। বাজারদরও কিছুটা মন্দা যাচ্ছে।
ঈশ্বরদী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল মমিন বলেন, এবছর লিচুর ফলন ভালো হয়েছে। লিচু বেচাকেনা করে লাভবান হচ্ছে চাষিরা।