• মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ০৯:২৭ অপরাহ্ন
Headline
সমঝোতার ভিত্তিতেই সংবিধান সংস্কার করতে চাই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পরিবেশ সুরক্ষায় সমন্বিত উদ্যোগের বিকল্প নেই: স্থানীয় সরকারমন্ত্রী জনগণ পরিবর্তন চেয়েছে বলেই জুলাই আন্দোলন সফল : প্রধানমন্ত্রী জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সংবিধান সংশোধনের কাজ শুরু: আইনমন্ত্রী বাংলাদেশ থেকে আরও দক্ষ শ্রমিক নিতে চায় সৌদি আরব নিরাপদ-কার্যকর পানি ব্যবস্থাপনা নিশ্চিতে সহযোগিতার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌদি উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাক্ষাৎ, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় নিতে একমত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ককে বাংলাদেশ বেশি গুরুত্ব দেয় সরকারি অফিসে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের কোনো সুযোগ নেই- পানিসম্পদ মন্ত্রী গ্যাসের অভাবে উৎপাদন কম, ছুটি বাড়িয়েছে কিছু কারখানা

একসময় মানবেতর জীবন কাটাতেন ডোয়াইন জনসন

Reporter Name / ৮৪ Time View
Update : রবিবার, ৩ মে, ২০২৬

প্রভাত বিনোদন : অ্যাকশন, ক্যারিশমা ও অবিশ্বাস্য পরিশ্রম—এই তিনের অনন্য মিশেলে গড়ে ওঠা একটি নাম ডোয়াইন জনসন। ২ মে বিশ্বজুড়ে ‘দ্য রক’ নামে পরিচিত এই তারকারজন্মদিন। রেসলিং থেকে হলিউডের শীর্ষে ওঠা তাঁর যাত্রা যেমন অনুপ্রেরণাদায়ক, তেমনই সংগ্রাম ও সাফল্যের অসাধারণ এক গল্প। কেমন ছিল তাঁর উত্থান?
১৯৭২ সালের ২ মে যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম ডোয়াইন জনসনের। পরিবারে রেসলিংয়ের ঐতিহ্য থাকলেও তাঁর শৈশব ছিল আর্থিক অনিশ্চয়তায় ভরা। একসময় তাঁদের পরিবারকে বাড়ি থেকেও উচ্ছেদ হতে হয়েছিল। থাকার জায়গা ছিল না। শৈশব থেকেই তিনি আয়ের দিকে ঝোঁকেন। প্রথম জীবনে তিনি আমেরিকান ফুটবলে ক্যারিয়ার গড়তে চেয়েছিলেন; কিন্তু চোট ও সুযোগের অভাবে সেই স্বপ্ন ভেঙে যায়। এরপরই তিনি পা রাখেন রেসলিং–দুনিয়ায়।
হঠাৎই রেসলিং–দুনিয়া থেকে সিনেমায় নাম লেখানো। ‘দ্য রক’ নামে দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন জনসন। তাঁর ক্যারিশম্যাটিক উপস্থিতি এবং মাইক্রোফোন স্কিল তাঁকে ভক্তদের প্রিয় করে তোলে। পরবর্তী সময় জনপ্রিয়তাই তাঁকে হলিউডে স্থায়ী আসন গড়ে দেয়। শুরুটা ‘দ্য স্করপিয়ন কিং’ দিয়ে হলেও তিনি ‘ফাস্ট অ্যান্ড ফিউরিয়াস’, ‘জুমানজি’, ‘ব্ল্যাক অ্যাডাম’সহ অনেক সিনেমায় দারুণ অভিনয় করে। একসময় বক্স অফিসেও দাপট দেখিয়েছেন তিনি।
ক্যারিয়ারের শুরুতে হলিউডে তাঁকে অনেকেই শুধু রেসলার হিসেবেই দেখতেন। সিরিয়াস অভিনেতা হিসেবে গ্রহণযোগ্যতা পেতে সময় লেগেছে। তবে ধারাবাহিক পরিশ্রম, নিজেকে বদলানোর মানসিকতা এবং দৃঢ় আত্মবিশ্বাস তাঁকে সেই সীমাবদ্ধতা ভেঙে এগিয়ে দিয়েছে। তিনি প্রমাণ করেছেন, পরিশ্রম ও ধৈর্য থাকলে পরিচয়ের গণ্ডি ভেঙে নতুন জায়গায় প্রতিষ্ঠা পাওয়া সম্ভব। তাঁর পছন্দের উক্তি, ‘সফলতা সব সময় মহান হওয়ার বিষয় নয়, বরং ধারাবাহিকতার ফল। বিনয়ী থাকো, শেখার ক্ষুধা রাখো এবং সব সময় সবচেয়ে পরিশ্রমী হও।’
ডোয়াইন জনসন শুধু অভিনেতা নন, একজন সফল উদ্যোক্তাও। বিভিন্ন সময় তিনি বিশ্বের সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক পাওয়া অভিনেতাদের তালিকার শীর্ষে ছিলেন। বিভিন্ন প্রতিবেদনে তাঁর বার্ষিক আয় ৮০-১০০ মিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি বলে উল্লেখ করা হয়। সিনেমার পাশাপাশি তিনি নিজের প্রোডাকশন কোম্পানি নিয়েও ব্যস্ত থাকেন। বিভিন্ন ব্র্যান্ড এন্ডোর্সমেন্ট থেকেও বিপুল আয় করেন। সব মিলিয়ে তাঁর আয় ৮০০ মিলিয়ন ডলার।
সাফল্যের পেছনে রয়েছে গভীর ব্যক্তিগত লড়াইও। ক্যারিয়ারের শুরুর ব্যর্থতা, অর্থকষ্ট, এমনকি মানসিক চাপের কথাও তিনি খোলামেলা স্বীকার করেছেন। তিনি বলেছেন, জীবনের কঠিন সময়ই তাঁকে আরও শক্ত করেছে এবং নিজেকে নতুনভাবে গড়ে তুলতে সাহায্য করেছে। ডোয়াইন জনসন শুধু একজন তারকা নন, তিনি এক প্রতীক। সংগ্রাম থেকে উঠে এসে বিশ্বজয়ের গল্প, কঠোর পরিশ্রমের উদাহরণ এবং আত্মবিশ্বাসের এক জীবন্ত প্রতিচ্ছবি। জন্মদিনে তাঁর এই যাত্রা আবারও মনে করিয়ে দেয়—স্বপ্ন যত বড়ই হোক, লড়াই চালিয়ে গেলে একদিন তা বাস্তব হয়।


আপনার মতামত লিখুন :
More News Of This Category