• বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:১৫ পূর্বাহ্ন
Headline
পিরোজপুরে তিন বছর ধরে বর্ষায় চারা রোপণ ও বিতরণ করছেন শাহিন গাজী, এবারও দিলেন ৭ শতাধিক রিয়েলমির নতুন সি-সিরিজ স্মার্টফোন সি১০০এক্সে ৪৫ ওয়াট ফাস্ট চার্জিং ও রিভার্স চার্জিং সুবিধা নাজিরপুরে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন বাস্তবায়নে সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত তৃণমূল নারীদের প্রশিক্ষণ, কর্মসংস্থান ও সিড মানি দেওয়া হচ্ছে : মন্ত্রী প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থায় প্রত্যাশিত ফলাফল অর্জন সম্ভব হয়নি : ববি হাজ্জাজ সরকার মুখে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ বললেও কাজে দেখি ‘সবার পরে বাংলাদেশ : আনু মুহাম্মদ আমি মাঝেমধ্যেই চলে আসবো, কেউ জানতে পারবেন না: আফরোজা খানম হারানো সরকারি অস্ত্রের তথ্য দিলেই মিলবে দুই লাখ টাকা পর্যন্ত পুরস্কার উগ্রবাদ-সহিংসতা মোকাবিলায় গবেষণা কাজে লাগানোর আহ্বান ইউজিসি চেয়ারম্যানের শাহজালালের তৃতীয় টার্মিনাল চালু ১৬ ডিসেম্বর: বিমানমন্ত্রী

ঐতিহাসিক ছয় দফা দিবস আজ

Reporter Name / ৫৬ Time View
Update : রবিবার, ৭ জুন, ২০২৬

প্রভাত রিপোর্ট: আজ ৭ জুন, ঐতিহাসিক ছয় দফা দিবস। বাঙালি জাতির মুক্তির সনদ ছয় দফা দাবির পক্ষে এই দিনে দেশব্যাপী তীব্র গণআন্দোলন সূচনা হয়েছিল। ১৯৬৬ সালের ৭ জুন বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলন স্পষ্টত নতুন পর্যায়ে উন্নীত হয়। এর মধ্য দিয়ে রচিত হয় স্বাধীনতার রূপরেখা। ছয় দফাভিত্তিক আন্দোলন-সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলন স্বাধীনতা সংগ্রামে রূপ নেয়।
পাকিস্তানিদের দুঃশাসন থেকে বাঙালির মুক্তির দিশারী হিসেবে ছয় দফা দাবি প্রণয়ন করে জনগণের সামনে বাংলার মানুষের মুক্তির সনদ হিসেবে উপস্থাপন করেছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। এর মধ্য দিয়েই বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলন স্বাধীনতা-সংগ্রামে রূপ নেয়। ছয় দফা আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় আসে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা, ১১ দফা আন্দোলন, ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান, সত্তরের নির্বাচন, একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং সর্বশেষ বিশ্ব মানচিত্রে স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ।
১৯৬৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি তাসখন্দ চুক্তিকে কেন্দ্র করে লাহোরে অনুষ্ঠিত সম্মেলনের সাবজেক্ট কমিটিতে ছয় দফা উত্থাপন করা হয়। এসময় শেখ মুজিবুর রহমান পরের দিন সম্মেলনের আলোচ্যসূচিতে ছয় দফাকে স্থান দিতে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করেন। সেই অনুরোধ উপেক্ষা করে ছয় দফার প্রতি আয়োজক পক্ষ গুরুত্ব না দিয়ে তা প্রত্যাখ্যান করে। এর প্রতিবাদে শেখ মুজিবুর রহমান ওই সম্মেলনে আর যোগ দেননি। তবে লাহোরে অবস্থানকালেই ছয় দফা উত্থাপন করেন তিনি।
এর মধ্য দিয়ে পশ্চিম পাকিস্তানের খবরের কাগজে শেখ মুজিবুর রহমানকে বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা আখ্যা দিয়ে সংবাদ ছাপানো হয়। পরে তিনি ঢাকায় ফিরে ১৩ মার্চ ছয় দফা এবং দলের অন্যান্য বিস্তারিত কর্মসূচি দলের কার্যনির্বাহী সংসদে পাস করিয়ে নেন।
ছয় দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে শুরু হয় আন্দোলন, হরতালও ডাকা হয়। হরতাল চলাকালে নিরস্ত্র জনতার ওপর পুলিশ ও তৎকালীন ইপিআর গুলিবর্ষণ করে। এতে ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জে মনু মিয়া, সফিক ও শামসুল হকসহ ১১ জন শহীদ হন।
ক্রমেই ছয় দফার প্রতি ব্যাপক জনসমর্থন তৈরি হয়। জনপ্রিয়তা বেড়ে যায় বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বের। সামরিক জান্তা আইয়ুব খানের নেতৃত্বাধীন স্বৈরাচারী সরকার ১৯৬৬ সালের ৮ মে শেখ মুজিবুর রহমানকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠায়।
ছয় দফা আন্দোলন ১৯৬৬ সালের ৭ জুন নতুন মাত্রা পায়। ছয় দফাভিত্তিক ১১ দফা আন্দোলনের পথপরিক্রমায় শুরু হয় ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান।
সর্বোপরি ১৯৭০-এর সাধারণ নির্বাচনে বাংলার জনগণ আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীদের পক্ষে একচেটিয়া রায় দেয়। জনগণ বিজয়ী করলেও স্বৈরাচার পাকিস্তানি শাসকরা বিজয়ী দলকে সরকার গঠন করতে না দিলে বঙ্গবন্ধু জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে স্বাধীনতার পক্ষে আন্দোলন শুরু করেন। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৭১ সালে সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অভ্যুদয় ঘটে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের।
ছয় দফার মূল বক্তব্য ছিল— প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্র বিষয় ছাড়া সব ক্ষমতা প্রাদেশিক সরকারের হাতে থাকবে। পূর্ববাংলা ও পশ্চিম পাকিস্তানে দুটি পৃথক ও সহজে বিনিময়যোগ্য মুদ্রা থাকবে। সরকারের কর ও শুল্ক ধার্য ও আদায় করার দায়িত্ব প্রাদেশিক সরকারের হাতে থাকাসহ দুই অঞ্চলের অর্জিত বৈদেশিক মুদ্রার আলাদা হিসাব থাকবে এবং পূর্ববাংলার প্রতিরক্ষা ঝুঁকি কমানোর জন্য এখানে আধা সামরিক বাহিনী গঠন ও নৌবাহিনীর সদর দফতর স্থাপনের দাবি জানানো হয়।


আপনার মতামত লিখুন :
More News Of This Category