• বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬, ০৯:৪১ অপরাহ্ন

কোরবানির পশুতে স্বয়ংসম্পূর্ণ বাংলাদেশ, এবার লক্ষ্য মাংস রপ্তানি: প্রতিমন্ত্রী

Reporter Name / ৪ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬

প্রভাত রিপোর্ট: দেশে কোরবানির পশু উৎপাদনে বাংলাদেশ এখন সম্পূর্ণ স্বয়ংসম্পূর্ণ। অভ্যন্তরীণ চাহিদা মিটিয়ে উদ্বৃত্ত পশু ও মাংস বিদেশে রপ্তানির লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সচিবালয়ে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে পবিত্র ঈদুল আজহা-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত কোরবানিকৃত পশু সংক্রান্ত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশে খামারির সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে, যা অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক। বর্তমানে দেশের চাহিদা পূরণের জন্য পর্যাপ্ত পশু উৎপাদন হচ্ছে। ভবিষ্যতে উদ্বৃত্ত পশু ও মাংস রপ্তানির মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে। তিনি বলেন, পশুপালনের সবচেয়ে বড় ব্যয় খাদ্য খাতে। খাদ্যের উচ্চমূল্যের কারণে পশুর দামও বৃদ্ধি পায়।
তাই মাংসের দাম কমাতে সরকার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। অস্ট্রেলিয়ার সহযোগিতায় উন্নত জাতের ঘাস উৎপাদন প্রকল্প চালু করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ৮৩৫ জন ক্ষুদ্র খামারিকে ঘাস উৎপাদনের প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে।
সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, উন্নত ঘাস ব্যবহারের ফলে পশুর খাদ্য ব্যয় কমবে এবং দুধ উৎপাদনও বৃদ্ধি পাবে। একই সঙ্গে খামারিদের ফিডের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে ঘাসভিত্তিক পশুপালনে উৎসাহিত করা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, পশু মোটাতাজাকরণে অ্যান্টিবায়োটিকের অপব্যবহার রোধে মাঠপর্যায়ে প্রশিক্ষণ ও নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। এ বিষয়ে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
মাংসের দাম কমছে না কেন, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, খাদ্য উৎপাদন ব্যয় কমানো গেলে ধীরে ধীরে গরুসহ অন্যান্য পশুর মাংসের দামও কমে আসবে বলে তিনি আশাবাদী।
বিদেশ থেকে পশু বা মাংস আমদানির সম্ভাবনা সম্পর্কে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সরকারের এমন কোনো পরিকল্পনা নেই। বরং সীমান্তপথে অবৈধ পশু প্রবেশ ঠেকাতে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে। এর ফলে দেশের খামারিরা ন্যায্যমূল্য পেয়েছেন এবং কোরবানির পশুর বাজার দেশীয় উৎপাদনের ওপর নির্ভরশীল হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দেশের চাহিদার তুলনায় পশু উৎপাদন বেশি হচ্ছে। এই উদ্বৃত্ত উৎপাদনকে কাজে লাগিয়ে ভবিষ্যতে মাংস রপ্তানির উদ্যোগ নেওয়া হবে। ইতোমধ্যে দেশে ১৩টি মাংস প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি বেসরকারি খাতের কিছু প্রতিষ্ঠান সীমিত পরিসরে মাংস রপ্তানি করছে। সরকার এ খাতে বড় খামারিদের উৎসাহ ও সহযোগিতা প্রদান করছে। ক্ষুদ্র খামারিদের উদ্বৃত্ত পশু বিক্রির সমস্যা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কোথাও কোনো খামারি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন কি না, তা সরকার পর্যবেক্ষণ করছে। প্রয়োজন অনুযায়ী পরামর্শ ও সহায়তা দেওয়া হবে। এ লক্ষ্যে দেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তারা কাজ করছেন। তিনি জানান, ঈদ উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন পশুর হাটে কন্ট্রোল রুম স্থাপন করা হয়েছিল। ভেটেরিনারি চিকিৎসক, প্রাণিসম্পদ বিভাগের শিক্ষার্থী, ইমাম ও বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন কোরবানির পশু ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ঈদ উদযাপন সম্ভব হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে প্রতিমন্ত্রী কোরবানির পশুর পরিসংখ্যান তুলে ধরে জানান, ২০২৫ সালে দেশে কোরবানিযোগ্য পশুর সংখ্যা ছিল ১ কোটি ২৪ লাখ ৪৭ হাজার ৩৩৭টি। চাহিদা ছিল ১ কোটি ৩ লাখ ৭৯ হাজার ২০২টি এবং কোরবানি হয়েছিল ৯১ লাখ ৩৬ হাজার পশু। ওই বছর উদ্বৃত্ত ছিল ৩৩ লাখ ১১ হাজার ৩৩৭টি পশু। অন্যদিকে ২০২৬ সালে দেশে কোরবানিযোগ্য পশুর সংখ্যা ছিল প্রায় ১ কোটি ২৪ লাখ। চাহিদা নির্ধারণ করা হয়েছিল ১ কোটি ১ লাখ ৬ হাজার ৩৩৪টি। কোরবানি হয়েছে ৯৩ লাখ ৬৭ হাজার ৯১৮টি পশু। ফলে চলতি বছরও প্রায় ২৯ লাখ ৬৬ হাজার ৪২২টি পশু উদ্বৃত্ত রয়েছে। প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের খামারিরা যেন আরও বেশি উৎপাদনে উৎসাহিত হন এবং দেশীয় চাহিদা পূরণের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারেও প্রবেশ করতে পারেন, সে লক্ষ্যে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করে যাচ্ছে।


আপনার মতামত লিখুন :
More News Of This Category