• শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬, ০৯:৪৫ অপরাহ্ন
Headline
“দক্ষতা উন্নয়নে মনোযোগী হলে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দেশের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ বহুগুণে বেড়ে যাবে” নরওয়েতে ইতিহাসের মাঝে থাকার সুযোগ শিবচরে নারী হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন: আসামি গ্রেফতার ‘স্পিরিট’ সিনেমা থেকে দীপিকা পাড়ুকোনের সরে যাওয়া নিয়ে নতুন তথ্য দিলেন পরিচালক ‘মিস ইউনিভার্স পাকিস্তান’ জিতলেন মিসবাহ আরশাদ ‘নায়করাজ’ রাজ্জাককে নিয়ে শাকিব খানের আবেগঘন বার্তা লন্ডনে সংবাদ সম্মেলনে সালমান শাহর নীলা চৌধুরী বললেন, ১০০ কোটির প্রস্তাব এসেছিল গাড়ি আছে, চালক আছেন; রাস্তায় যাত্রীও আছে তবে সিএনজি পাম্পে গ্যাস নেই জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা জানালেন নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মন্ত্রিসভায় নতুন করে আরও চারজন সদস্য যুক্ত হচ্ছেন
বাড়ছে লোডশেডিং

গ্যাসের অভাবে ২১টি বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ, আটটি আংশিকভাবে চালু

Reporter Name / ৯ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট, ২০২৬

প্রভাত রিপোর্ট: দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা বাড়লেও নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত না হওয়ায় সেই সক্ষমতার বড় অংশই কাজে লাগানো যাচ্ছে না। বিদ্যুতের চাহিদা যখন বাড়ছে, তখনও গ্যাস সংকটে একের পর এক বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ থাকছে। আবার কোনো কোনো কেন্দ্র চালু রয়েছে ঢিমেতালে।
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) তথ্য অনুযায়ী, দেশের ৫২টি গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের মোট উৎপাদন সক্ষমতা ১১ হাজার ৯৩৪ মেগাওয়াট। এরমধ্যে গ্যাসের অভাবে ২১টি কেন্দ্র পুরোপুরি বন্ধ এবং আরও আটটি কেন্দ্র আংশিকভাবে চালু রয়েছে। এই ২৯টি কেন্দ্র পুরোদমে সচল করা গেলে জাতীয় গ্রিডে অতিরিক্ত ৬ হাজার ৩১২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যোগ হতে পারতো। অর্থাৎ, বিদ্যুৎকেন্দ্রের সক্ষমতা থাকার পরও মূল সংকট তৈরি হয়েছে জ্বালানি সবররাহে।
বিদ্যুতের ঘাটতি মেটাতে চলতি আগস্টে দেশের বিভিন্ন এলাকায় প্রায় প্রতিদিনই গড়ে ২ হাজার মেগাওয়াটের বেশি লোডশেডিং করছে সরকার। এমনকি ১০ আগস্ট মধ্যরাতের পর লোডশেডিং ৩ হাজার ৭০০ মেগাওয়াটে পৌঁছে, যা সর্বকালের রেকর্ড বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ফলে উৎপাদনে যেতে না পেরে একদিকে অনেক বিদ্যুৎকেন্দ্র যেমন বসে আছে, অন্যদিকে মানুষকে পোহাতে হচ্ছে লোডশেডিংয়ের ভোগান্তি। এর পেছনে সবচেয়ে বড় কারণগুলোর একটি হলো গ্যাসের তীব্র সংকট।
পেট্রোবাংলার হিসাবে, দেশের ৫২টি গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র চালাতে দৈনিক ২ হাজার ৫২৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস প্রয়োজন। কিন্তু গ্যাস সংকটের কারণে এই চাহিদার অর্ধেকও নিয়মিত সরবরাহ করা যাচ্ছে না।
জাতীয়ভাবে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট হলেও স্থানীয় উৎপাদন ও এলএনজি আমদানি মিলিয়ে সর্বোচ্চ সরবরাহ করা সম্ভব হয় প্রায় ২ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট। আবার এলএনজি সরবরাহে বিভিন্ন সমস্যার কারণে সাম্প্রতিক সময়ে তা আরও কমে প্রায় ২ হাজার ১০০ থেকে ২ হাজার ২০০ মিলিয়ন ঘনফুটে নেমেছে। এতে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পাশাপাশি শিল্প, পরিবহন ও গৃহস্থালি খাতেও গ্যাস সংকট তীব্র হয়েছে।
গ্যাস সংকটের কারণে কম খরচের বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ থাকায় উৎপাদন ব্যবস্থার ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে। গ্যাসভিত্তিক কেন্দ্রে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রায় ৫ থেকে ৬ টাকা খরচ হলেও কয়লাভিত্তিক কেন্দ্রে তা ১০ থেকে ১৪ টাকা এবং তেলভিত্তিক কেন্দ্রে ২৫ থেকে ৩৫ টাকা পর্যন্ত খরচ হতে পারে। ফলে গ্যাসের অভাবে কম ব্যয়ের কেন্দ্রগুলো বসিয়ে রেখে বেশি ব্যয়ের জ্বালানিচালিত কেন্দ্র চালাতে হলে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সামগ্রিক ব্যয়ও বেড়ে যায়। বিশেষ করে সন্ধ্যা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত চাহিদার সময়ে তেলভিত্তিক কেন্দ্র চালানোর প্রয়োজন পড়ায় এই ব্যয় আরও বাড়ে। এ পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎকেন্দ্রে গ্যাস সরবরাহ বাড়াতে পারলে পরিস্থিতির দ্রুত পরিবর্তন সম্ভব। সাম্প্রতিক ঘটনায় তারই প্রমাণ মিলেছে।
গত ১৩ আগস্ট থেকে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর জন্য গ্যাসের বরাদ্দ ৭০০ থেকে ৭৫০ মিলিয়ন ঘনফুট থেকে বাড়িয়ে দৈনিক প্রায় ১ হাজার মিলিয়ন ঘনফুটে উন্নীত করা হয়। এরপরই গ্যাসভিত্তিক কেন্দ্রগুলোর উৎপাদন গড়ে সাড়ে ৪ হাজার মেগাওয়াট থেকে বেড়ে সাড়ে ৫ হাজার মেগাওয়াটে উঠেছে।
এ বিষয়ে জ্বালানি বিভাগের যুগ্ম সচিব মনির হোসেন চৌধুরী গণমাধ্যমকে বলেন, গ্যাস তথা জ্বালানি সংকট নিয়ে এখন আর লুকানোর কিছু নেই। সরকার দ্রুত আরও দুটি এলএনজি টার্মিনাল চালুর চেষ্টা করছে। কিন্তু এগুলোর কাজ শেষ করতে দুই বছর লেগে যাবে। এই মুহূর্তে এলএনজি আমদানি চালিয়ে যাওয়া ছাড়া গ্যাসের সরবরাহ বাড়ানোর কোনো উপায় নেই।
এদিকে এলএনজি সরবরাহ কমে যাওয়ার প্রভাব পড়েছে বিদ্যুৎ উৎপাদনে। বুধবার (১৯ আগস্ট) দিনের শুরুতে পরিস্থিতি তুলনামূলক স্বাভাবিক থাকলেও বিকাল গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যুতের ঘাটতি বাড়তে থাকে। সন্ধ্যার পর চাহিদা এক লাফে বেড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সন্ধ্যার পর একাধিকবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। কোথাও কোথাও কিছুক্ষণ পরপর বিদ্যুৎ আসা-যাওয়া করেছে।
পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশের (পিজিসিবি) তথ্য অনুযায়ী, দুপুর ২টায় জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৫ হাজার ২০৬ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে সরবরাহ করা হয় ১৪ হাজার ১৩৯ মেগাওয়াট। ফলে তখন লোডশেডিং ছিল ১ হাজার ৬৭ মেগাওয়াট। বিকেল ৫টায় চাহিদা বেড়ে দাঁড়ায় ১৫ হাজার ৫০৪ মেগাওয়াটে। কিন্তু সরবরাহ কমে যায় ১৩ হাজার ৭০০ মেগাওয়াটে। এ সময় লোডশেডিং ছিল ১ হাজার ৮০৪ মেগাওয়াট।
সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গে ঘাটতি আরও বাড়ে। সন্ধ্যা ৬টায় ১৫ হাজার ২৩৪ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ ছিল ১৩ হাজার ৮০০ মেগাওয়াট। ফলে লোডশেডিং দাঁড়ায় ১ হাজার ৪৩৪ মেগাওয়াটে। রাত ৮টায় লোডশেডিং ছিল ১ হাজার ৮৮৩ মেগাওয়াট। অর্থাৎ দুপুরের তুলনায় রাতে বিদ্যুতের ঘাটতি অনেকটা বেড়ে যায়।
পিডিবি জানায়, বিদ্যুৎ উৎপাদনে গ্যাসের চাহিদা থাকে ১৩০০-১৪০০ মিলিয়ন ঘনফুট, এর বিপরীতে বুধবার পর্যন্ত পাওয়া গেছে ৯৩০ মিলিয়ন ঘনফুটের মতো। আজকের হিসেবে সঠিক হিসাব না পাওয়া গেলেও গ্যাসের সরবরাহ অনেকটাই কমে গেছে বলে জানিয়েছে তারা।
প্রসঙ্গত, এলএনজি কার্গো না থাকায় মহেশখালীর এক্সিলারেটের এলএনজি টার্মিনাল থেকে বুধবার দুপুরের পর গ্যাস সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে সামিটের টার্মিনাল থেকেই এলএনজি সরবরাহ করা হচ্ছে।
পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, বুধবার দুপুর ১২টায় জাতীয় গ্যাস সঞ্চালন লাইনে মোট সরবরাহ ছিল ২ হাজার ২৮৯ মিলিয়ন ঘনফুট (এমএমসিএফডি)। এর মধ্যে দেশীয় গ্যাসক্ষেত্র থেকে পাওয়া যায় ১ হাজার ৬২৮ মিলিয়ন ঘনফুট এবং এলএনজি থেকে ৬৬১ মিলিয়ন ঘনফুট। কিন্তু সন্ধ্যা ৬টার দিকে এলএনজি সরবরাহ কমে ৫৬২ মিলিয়ন ঘনফুটে নেমে আসে। দেশীয় উৎস থেকে তখন সরবরাহ ছিল প্রায় ১ হাজার ৬২৭ মিলিয়ন ঘনফুট। এতে জাতীয় গ্রিডে মোট গ্যাস প্রবাহ কমে দাঁড়ায় ২ হাজার ১৮৯ মিলিয়ন ঘনফুটে।
আরপিজিসিএলের এক কর্মকর্তা জানান, বুধবার দুপুর ২টা ৪০ মিনিটের দিকে এক্সিলারেটের টার্মিনালে থাকা এলএনজির শেষ মজুতও শেষ হয়ে যায়। এরপর থেকে টার্মিনালটি আর গ্যাস সরবরাহ করতে পারেনি। অন্যদিকে সামিটের টার্মিনাল চালু রয়েছে।
টার্মিনালটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জাতীয় গ্রিডে এলএনজি সরবরাহ আরও কমেছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনে। ফলে সন্ধ্যার পিক সময়ে বিদ্যুতের চাহিদা বাড়লে ঘাটতিও দ্রুত বেড়ে যাচ্ছে, যার চাপ গিয়ে পড়ছে সাধারণ গ্রাহকের ওপর।


আপনার মতামত লিখুন :
More News Of This Category