• বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬, ০৮:১১ পূর্বাহ্ন
Headline
পাথরঘাটায় লেমুয়া বাজারে আগুন, অর্ধশতাধিক দোকান পুড়ে ছাই. ১৫ কোটি টাকার ক্ষতির আশঙ্কা তীব্র তারল্যসংকটে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর ক্লাব আল নাসর ইতিহাসের সবচেয়ে দামি ৩০০ কোটির ডলারের এক ম্যাচ আমি ফ্রান্সকে ভয় পাই না, আমরা ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন: ইয়ামাল গোলবন্যা আর রেকর্ডের ভিড়ে পাসিংয়ে সেরা আর্জেন্টিনা ৮ বছরের পুরোনো ম্যারাডোনার সেই ভবিষ্যদ্বাণী ২০২৬ বিশ্বকাপে মিলে যাচ্ছে ইসরায়েলের সাহায্যে কি তাহলে ইরানের ক্ষমতায় বসতে চেয়েছিলেন আহমাদিনেজাদ রাজস্ব আদায়ে ঘাটতি তৈরি হওয়ায় নড়েচড়ে বসেছে এনবিআর ব্যবসা সম্প্রসারণে যাচ্ছে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস, ধাপে ধাপে যুক্ত হচ্ছে ২১টি বোয়িং উড়োজাহাজ ২০২৫ সালে পোশাক রপ্তানিতে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ০.৮৯ শতাংশ

টাকা নিয়েও ‘টিকিট দেয়নি’ ফ্লাইট এক্সপার্ট, ৩৫ কোটি টাকার মানিলন্ডারিং মামলা

Reporter Name / ১২ Time View
Update : সোমবার, ১৩ জুলাই, ২০২৬

প্রভাত রিপোর্ট: কয়েক’শ গ্রাহক ও সাব-এজেন্টের কাছ থেকে বিমান টিকিটের অগ্রিম অর্থ গ্রহণ করে টিকিট সরবরাহ না করার অভিযোগে অনলাইনভিত্তিক ট্রাভেল প্রতিষ্ঠান ফ্লাইট এক্সপার্টের (এফইবিডি) বিরুদ্ধে প্রায় ৩৪ কোটি ৬৯ লাখ ৩১ হাজার ৯০ টাকা মানিলন্ডারিংয়ের মামলা করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিটের অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাজধানীর মতিঝিল থানায় মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে প্রতিষ্ঠানটির সাত জনের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা করা হয়েছে। সিআইডি মিডিয়া বিভাগ এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
মামলার আসামিরা হলেন, এফইবিডির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও ফ্লাইট এক্সপার্টের সিইও সালমান বিন রশিদ শাহ সায়েম, প্রতিষ্ঠাটির প্রেসিডেন্ট এম এ রশিদ শাহ সম্রাট, পরিচালক আমির হামজা রশিদ শাহ নায়েম, পরিচালক এ কে এম শাহদাত হোসেন, পরিচালক আব্দুল গণি মেহেদী, হেড অব ফাইন্যান্স মো. সাকীব হোসেন এবং সোমা ইন্টারন্যাশনাল সার্ভিসেসের স্বত্বাধিকারী মোতাহের হোসেন।
সিআইডির অনুসন্ধানে জানা যায়, ফ্লাইট এক্সপার্ট ২০১৬ সালে অনলাইনভিত্তিক বিমান টিকিট বিক্রির কার্যক্রম শুরু করে। পরে প্রতিষ্ঠানটি হোটেল বুকিং, হজ ও ওমরাহ প্যাকেজসহ বিভিন্ন ট্রাভেল সেবা দিতে শুরু করে। ২০১৯ সালে এফইবিডি নামে যৌথমূলধনী কোম্পানি হিসেবে নিবন্ধন নিলেও প্রতিষ্ঠানটি ফ্লাইট এক্সপার্ট ও এফইবিডি; উভয় নামেই ব্যবসায়িক কার্যক্রম ও ব্যাংকিং লেনদেন পরিচালনা করত।
প্রতিষ্ঠানটি বি-টু-বি (বিজনেস টু বিজনেস) এবং বি-টু-সি (বিজনেস টু কনজ্যুমার) উভয় পদ্ধতিতে বিমান টিকিট বিক্রি করতো উল্লেখ করে সিআইডি বলছে, বিভিন্ন সময়ে অস্বাভাবিক মূল্যছাড়ের ঘোষণা দিয়ে দেশের বিভিন্ন সাব-এজেন্ট ও সাধারণ গ্রাহকের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অগ্রিম অর্থ সংগ্রহ করা হয়। কিন্তু নির্ধারিত টিকিট সরবরাহ না করে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক সালমান বিন রশিদ শাহ সায়েম ২০২৫ সালের ১ আগস্ট দেশ ত্যাগ করেন।
সিআইডির অনুসন্ধানে দেখা যায়, এফইবিডির নামে পরিচালিত বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে জমা হওয়া অর্থ পরে ফ্লাইট এক্সপার্টের বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে স্থানান্তর করা হয়। এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানটির অর্থ বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের হিসাবে স্থানান্তর, উত্তোলন ও রূপান্তরের মাধ্যমে অপরাধলব্ধ সম্পদের উৎস, মালিকানা ও প্রকৃতি গোপনের চেষ্টা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে প্রমাণ পাওয়া গেছে।
অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, ব্যবস্থাপনা পরিচালক দেশত্যাগের পরও কোম্পানির কয়েকজন পরিচালক ও হেড অব ফাইন্যান্স বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব থেকে উল্লেখযোগ্য অঙ্কের অর্থ উত্তোলন ও স্থানান্তর করেন। এসব লেনদেনের মাধ্যমে প্রতারণার মাধ্যমে অর্জিত অর্থ আত্মসাতের প্রমাণ পাওয়া যায়।
এ ছাড়া অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, ফ্লাইট এক্সপার্ট বিভিন্ন আইএটিএ অনুমোদিত ট্রাভেল এজেন্সির মাধ্যমে টিকিট সংগ্রহ করলেও বহু ক্ষেত্রে গ্রাহকদের কাছ থেকে টিকিটের সম্পূর্ণ মূল্য নেওয়ার পরও টিকিট সরবরাহ করা হয়নি। কোনো কোনো ক্ষেত্রে একই টিকিটের বিপরীতে একাধিক উৎস থেকে অর্থ গ্রহণের ঘটনাও শনাক্ত হয়েছে।
সিআইডির অনুসন্ধানে প্রাথমিকভাবে প্রতারণার মাধ্যমে ৩৪ কোটি ৬৯ লাখ ৩১ হাজার ৯০ টাকা আত্মসাৎ এবং পরে তা বিভিন্ন ব্যাংকিং লেনদেনের মাধ্যমে স্থানান্তর, হস্তান্তর ও রূপান্তরের মাধ্যমে মানিলন্ডারিং সংঘটিত হয়েছে বলে প্রতীয়মান হয়েছে। মামলাটির তদন্ত সিআইডি করবে। এ বিষয়ে তদন্তের স্বার্থে প্রয়োজনীয় অন্যান্য কার্যক্রমও অব্যাহত রয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :
More News Of This Category