• বুধবার, ১৩ মে ২০২৬, ১১:১২ অপরাহ্ন
Headline
আসন্ন বাজেটে স্বাস্থ্যখাতে জিডিপির ১ শতাংশ বরাদ্দ দেয়া হবে সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার হচ্ছে কর্মসংস্থান সৃষ্টি : মাহদী আমিন দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সোলার প্ল্যান্ট বসানো হবে: শিক্ষামন্ত্রী পরিচ্ছন্ন কর্মীদের ঝুঁকিপূর্ণ ভবন ভেঙে বহুতল ভবন নির্মাণ করবে ডিএসসিসি আদালতে আসতে আপত্তি নেই, অভ্যাস হয়ে গেছে: লতিফ সিদ্দিকী চলতি অর্থবছরে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়ে ৩০ দশমিক ৯৪ বিলিয়ন ডলার দাম বাড়লো কোরবানির পশুর চামড়ার এসএসসি-এইচএসসি ডিসেম্বরে নয়, জানুয়ারি-এপ্রিলেই চান অংশীজনরা ৩০ লাখ কোটি টাকার ঋণের বোঝা বহন করছে সরকার : তথ্যমন্ত্রী টিকাদানে হামের সংক্রমণ কমেছে: স্বাস্থ্য অধিদফতর

টিকাদানে হামের সংক্রমণ কমেছে: স্বাস্থ্য অধিদফতর

Reporter Name / ৫ Time View
Update : বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬

প্রভাত রিপোর্ট: দেশে প্রায় এক কোটি ৮০ লাখ শিশুকে হাম-রুবেলা টিকার আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস। তিনি বলেন, এটি নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার প্রায় শতভাগ। প্রথম পর্যায়ের টিকাদানের ফলে শিশুদের মধ্যে হামের সংক্রমণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। প্রতিটি শিশুর জীবন অমূল্য এবং তাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে।
বুধবার (১৩ মে) দুপুরে হাম নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদফতরে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন স্বাস্থ্য অধিদফ্তরের মহাপরিচালক। তিনি জানান, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্বজুড়ে হামের সংক্রমণ বেড়েছে এবং বাংলাদেশেও এর প্রভাব দেখা যাচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রীর নেতৃত্বে সরকার দ্রুত ও সমন্বিতভাবে দেশব্যাপী হাম-রুবেলা টিকাদান কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে।
সভায় জানানো হয়, ক্যাম্পেইনের প্রথম পর্যায়ে গত ৫ এপ্রিল থেকে দেশের ১৮টি জেলার উচ্চ সংক্রমণপ্রবণ ৩০টি উপজেলা ও ১৩টি পৌরসভায় শুরু হয়। দ্বিতীয় পর্যায়ে ১২ এপ্রিল থেকে ঢাকা উত্তর, ঢাকা দক্ষিণ, ময়মনসিংহ ও বরিশাল সিটি কর্পোরেশনে কার্যক্রম পরিচালিত হয়। পরবর্তীতে ২০ এপ্রিল থেকে দেশব্যাপী প্রতিটি এলাকায় এই কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রম আরও জোরদার করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রাদুর্ভাব প্রতিরোধ করা যায়।
ডিএইচআইএস-২-এর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, প্রায় এক কোটি ৮০ লাখ শিশুকে ইতোমধ্যে টিকার আওতায় আনা হয়েছে, যা আমাদের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার প্রায় শতভাগ। বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য যে, প্রথম পর্যায়ে অন্তর্ভুক্ত ৩০টি উপজেলা ও ১৩টি পৌরসভায় শিশুদের মধ্যে হামের সংক্রমণ উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদফতর বলছে, হাম-রুবেলা টিকা গ্রহণের পর শরীরে রোগ প্রতিরোধী অ্যান্টিবডি তৈরি হতে সাধারণত প্রায় তিন সপ্তাহ সময় লাগে। সে কারণে আমরা আশাবাদী যে, শীঘ্রই দেশে গ্রামের সংক্রমণ কমে আসবে।
মহাপরিচালক বলেন, ‘‘আমি অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি যেসব শিশু এখনও টিকা পায়নি, এমনকি যারা নিয়মিত ইপিআইয়ের আওতায় দুই ডোজ হাম রুবেলা টিকা পেয়েছে, তারাও যেন এই ক্যাম্পেইনের আওতায় হাম রুবেলা টিকা নেয়।’’
নির্ধারিত বয়সসীমার অনেক শিশু এখনও টিকাদানের আওতার বাইরে রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘‘হাম নির্মূল ও সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে অন্তত ৯৫ শতাংশ শিশুকে টিকার আওতায় আনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এরই লক্ষ্যে র‌্যাপিড কনভেনিয়েন্স মনিটরিং (আরসিএম) অ্যাপের মাধ্যমে টিকাবঞ্চিত শিশুদের শনাক্ত করে তাদের টিকার আওতায় আনতে কাজ করছে সরকার। দেশব্যাপী পোস্টার, লিফলেট, ইনফোগ্রাফিক, উদ্বুদ্ধমূলক ভিডিও বার্তা, টক শো এবং টেলিভিশন স্ক্রলিংয়ের মাধ্যমে ব্যাপক প্রচারণা চালানো হচ্ছে।’’
এ ছাড়াও বিশেষ সান্ধ্যকালীন টিকাদান সেশন, শুক্রবারভিত্তিক বিশেষ সেশন এবং সুবিধাবঞ্চিত ও দুর্গম এলাকার শিশুদের জন্য মোবাইল টিকাদান টিম গঠনের মাধ্যমে কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) নিয়মিত কার্যক্রমের আওতায় শিশুদের ৯ মাস ও ১৫ মাস বয়সে প্রদেয় হাম-রুবেলা টিকাসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ প্রায় সব টিকার সরবরাহ ইতোমধ্যে মাঠপর্যায়ে নিশ্চিত করা হচ্ছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।
দেশব্যাপী টিকাদান কার্যক্রম আরও শক্তিশালী ও টেকসই করতে সরকার বৃহৎ পরিসরে ভ্যাকসিন সংগ্রহের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। ইউনিসেফের সহায়তায় ১০টি ভিন্ন ধরনের প্রায় ৯ কোটি ৫০ লাখ ডোজ জীবনরক্ষাকারী ভ্যাকসিন সংগ্রহের পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়েছে। মে মাস থেকেই বড় পরিসরে এই ভ্যাকসিন দেশে আনা শুরু হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত ৩ মে থেকে এ পর্যন্ত বিসিজি ভ্যাকসিন দুই লাখ ৭৪ হাজার ভায়াল, ওরাল পোলিও ভ্যাকসিন (ওপিভি) এক লাখ ৪০ হাজার ভায়াল, হাম-রুবেলা (এমআর) ভ্যাকসিন ছয় লাখ ৪৫ হাজার ডায়াল, আইপিভি (আইপিভি) এক লাখ ৩৬ হাজার ৮১৬ ভায়াল, পেনটা (পেনটা) দুই লাখ ৪৫ হাজার ৪৫০ ভায়াল, টিডি (টিডি) ভ্যাকসিন ৩ লাখ ৫ হাজার ভায়াল দেশে গৌঁছেছে।
বর্তমানে টাইফয়েড ও জরায়ুমুখ ক্যান্সার প্রতিরোধী এইচপিভি ভ্যাকসিনের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে বলে জানান স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক। তিনি বলেন, নতুন এই সরবরাহ নিশ্চিত হওয়ার ফলে আগামীতে দেশে কোনও ধরনের ভ্যাকসিন সংকট থাকবে না। ধারবাহিকভাবে চলতি মাসজুড়ে আরও ভ্যাকসিন আমাদের সাপ্লাই চেইনে যুক্ত হবে, যা জাতীয় টিকাদান বার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করবে। তিনি আরও বলেন, দেশে এর আগে এত স্বল্প সময়ে এত বিপুল পরিমাণ ভ্যাকসিন দেশে আনা পূর্বে কখনো সম্ভব হয়নি। বর্তমান সরকারের সদিচ্ছা এবং শিশুদের জীবন রক্ষায় সরবচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার কারণেই এটি সম্ভব হয়েছে।
প্রেস ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস. এম জিয়াউদ্দিন হায়দার, স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. জাহিদ রায়হান, অধিদফতরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান প্রমুখ।


আপনার মতামত লিখুন :
More News Of This Category