মো. বিল্লাল মোল্লা, কুমিল্লা উত্তর : মাত্র ২২ বছর বয়স। চোখজুড়ে অসংখ্য স্বপ্ন, হৃদয়ে বেঁচে থাকার প্রবল আকাঙ্ক্ষা। কিন্তু নির্মম ভাগ্য যেন বারবার থামিয়ে দিতে চেয়েছে তার পথচলা। দুই কিডনি সম্পূর্ণ অকেজো হয়ে যাওয়ার পরও জীবনযুদ্ধে হার মানতে রাজি নন সুমাইয়া আক্তার মীম। মৃত্যুর সঙ্গে প্রতিনিয়ত লড়াই করেও তিনি এখনো স্বপ্ন দেখেন—একদিন আবার সুস্থ হয়ে ফিরবেন কলেজের শ্রেণিকক্ষে, বন্ধুদের সঙ্গে কাটাবেন স্বাভাবিক জীবন।
কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার হাসানপুর শহীদ শহিদ নজরুল সরকারি ডিগ্রি কলেজের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী সুমাইয়া আক্তার মীম। তিনি তিতাস উপজেলার জগতপুর ইউনিয়নের জগতপুর হিন্দুপাড়া গ্রামের দিনমজুর মো. মিজানুর রহমানের মেয়ে। অভাব-অনটনের সংসারে জন্ম হলেও পড়াশোনার প্রতি ছিল তার প্রবল আগ্রহ। শিক্ষা আর স্বপ্নকে সঙ্গী করেই এগিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি। কিন্তু হঠাৎ করেই জীবনে নেমে আসে এক ভয়াবহ অন্ধকার।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রায় চার বছর আগে শারীরিক অসুস্থতা অনুভব করলে মীমকে ঢাকার মিরপুর-১ এলাকার ল্যাবএইড হাসপাতালে নেওয়া হয়। একের পর এক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকদের মুখ থেকে আসে হৃদয়বিদারক খবর—তার দুটি কিডনিই কার্যক্ষমতা হারিয়েছে। পরবর্তীতে পিজি হাসপাতালেও একই তথ্য নিশ্চিত করা হয়।
এরপর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা সংগ্রাম। কিন্তু দরিদ্র পরিবারের পক্ষে ব্যয়বহুল চিকিৎসার খরচ বহন করা সম্ভব হয়নি। চিকিৎসকদের পরামর্শ থাকা সত্ত্বেও অর্থাভাবে নিয়মিত চিকিৎসা চালিয়ে যেতে পারেননি তিনি। ২০২৫ সালের ২৪ জুন অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে ডায়ালাইসিসের ব্যবস্থা করা হলেও প্রতিটি দিন এখন তার পরিবারের জন্য এক অসহনীয় সংগ্রামের নাম।
দিনমজুর বাবার সামান্য আয়ে সংসার চালানোই যেখানে কঠিন, সেখানে মেয়ের চিকিৎসার বিপুল ব্যয় বহন করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। অর্থের অভাবে দিন দিন অবনতির দিকে যাচ্ছে মীমের শারীরিক অবস্থা। চিকিৎসকদের মতে, দ্রুত কিডনি প্রতিস্থাপন করা না গেলে তার জীবন আরও বড় ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
তবে এত কষ্ট, এত যন্ত্রণা আর অনিশ্চয়তার মাঝেও হাল ছাড়েননি মীম। তিনি বাঁচতে চান। আবারও বই হাতে নিয়ে কলেজে যেতে চান। বন্ধুদের সঙ্গে হাসতে চান, পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে চান। স্বপ্নগুলোকে বাস্তবে রূপ দিতে চান। তিনি চান শুধু একটি সুযোগ—একটি নতুন জীবন।
অসহায় এই মেধাবী শিক্ষার্থীর জীবন বাঁচাতে সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, মানবিক সংগঠন এবং হৃদয়বান মানুষের সহযোগিতা এখন অত্যন্ত প্রয়োজন। আপনার সামান্য সহায়তাও হতে পারে একটি তরুণ জীবনের বেঁচে থাকার শেষ আশার আলো।
সহায়তা পাঠানোর জন্য বিকাশ নম্বর:০১৮৩৬-৬৫০১২৯
মানবতার হাত বাড়িয়ে দিন। হয়তো আপনার সামান্য সহযোগিতাতেই মৃত্যুর দুয়ার থেকে ফিরে এসে নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখতে পারবে সুমাইয়া আক্তার মীম।