• রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:০৬ অপরাহ্ন
Headline
জামালপুরের মেলান্দহে সার ডিলার নিয়োগে শর্ত ভঙ্গের অভিযোগ ধারদেনা করে দিন কাটে অনেক চাকরিজীবীর নিত্যপণ্যের বাড়তি দামে সংসার চালাতে কেনাকাটায় কাটছাঁট ক্রেতাদের মুনাফা বাড়লেও লভ্যাংশ কমালো সিভিও, দ্বিগুণ লভ্যাংশ দেবে শমরিতা হসপিটাল নিম্ন ও মধ্যবিত্তের নাগালের বাইরে পাঙাশ-তেলাপিয়া জমানো টাকা দিতে পারছে না পদ্মা ব্যাংক, চরম মানবিক বিপর্যয়ে আমানতকারীরা ধ্রুব রাঠি, দিপকের চিঠি বলিউড তারকা অক্ষয় কুমারকে: তোলপাড় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নির্বাচনের আগে নেতানিয়াহু সরকারের বিরুদ্ধে ইসরায়েলে হাজারো মানুষের বিক্ষোভ সৌদি আরবে ৭টি হামলার দাবি হুতিদের, মক্কায় পড়ল ক্ষেপণাস্ত্রের অংশ বিশ্বের অর্ধেকের বেশি বরফ গলার জন্য দায়ী মাত্র ৩ শতাংশ হিমবাহ

ধারদেনা করে দিন কাটে অনেক চাকরিজীবীর

Reporter Name / ১০ Time View
Update : রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬

প্রভাত অর্থনীতি: দেশের মূল্যস্ফীতির পরিসংখ্যানেও পণ্যের দাম বেড়ে চলার চিত্র উঠে এসেছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে দেশে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ৩৪ শতাংশ। আগস্টে এই হার ছিল ৮ দশমিক ২৬ শতাংশ। একই সময়ে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ০২ শতাংশ থেকে বেড়ে ৭ দশমিক ২২ শতাংশ হয়েছে। অন্যদিকে খাদ্যবহির্ভূত পণ্যের মূল্যস্ফীতি সামান্য কমে ৯ দশমিক ৩২ শতাংশ থেকে ৯ দশমিক ৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।
২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আগের ১২ মাসে গড় মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ৬৫ শতাংশ। এর আগের ১২ মাসে এই হার ছিল ৯ দশমিক ৪৫ শতাংশ। তবে মূল্যস্ফীতির হার কমে যাওয়ার অর্থ এই নয় যে পণ্যের দাম কমছে। এর অর্থ হলো, আগের তুলনায় দাম বাড়ার গতি কিছুটা কমেছে। ফলে পরিবারগুলোকে আগের চেয়ে বেশি দাম দিয়েই পণ্য ও সেবা কিনতে হচ্ছে।
এহসানুল কবির একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। তার মাসিক বেতন ৫৪ হাজার টাকা। তিনি পরিবারের সঙ্গে থাকেন। বাসাভাড়া বাবদ তাকে মাসে ২০ হাজার টাকা দিতে হয়। গ্যাসের সিলিন্ডার, পানি ও বিদ্যুতের বিল বাবদ আরও ৫ হাজার টাকা খরচ হয়। ছয় মাস আগে কেনা একটি আইফোনের কিস্তি পরিশোধ করতে হয় মাসে ৫ হাজার ৫০০ টাকা।
কর্মস্থলে যাওয়ার পথে মেট্রোরেল না থাকায় আনাস সাধারণত মোটরসাইকেলে যাতায়াত করেন। জ্বালানি ও যাতায়াত বাবদ তার মাসে ৭ থেকে ৮ হাজার টাকা খরচ হয়। এ ছাড়া বাজারের জন্য আরও ৫ থেকে ৭ হাজার টাকা ব্যয় করতে হয়।
শুধু এসব খাতেই তার মাসিক বেতনের সর্বোচ্চ ৪৫ হাজার টাকা খরচ হয়ে যায়। ফলে পরিবারের অন্যান্য প্রয়োজন মেটানো এবং হঠাৎ কোনো খরচের জন্য তার হাতে খুব বেশি টাকা থাকে না।
এহসানুল কবির প্রতি মাসে ৫ হাজার টাকা সঞ্চয়ের চেষ্টা করেন। কিন্তু নিয়মিত খরচ মেটাতে গিয়ে প্রায়ই সেই সঞ্চয়ের টাকা খরচ করতে হয়। মাসের ২৫ তারিখ আসতে না আসতেই অনেক সময় তার পকেট খালি হয়ে যায়। মাসের বাকি দিনগুলো চালাতে তিনি কখনো কখনো মুঠোফোনভিত্তিক আর্থিক সেবার মাধ্যমে ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা ঋণ নেন। এসব ঋণের মেয়াদ তিন মাস। এর সঙ্গে সুদও দিতে হয়। পরের মাসে বেতন পাওয়ার পর ঋণ শোধ করতে গিয়ে তার বাজেটের ওপর আরও চাপ পড়ে।
এহসানুল কবির বলেন, ‘প্রতিদিনই খরচ বাড়ছে, কিন্তু বেতন বাড়ছে না। প্রতিষ্ঠান থেকে বছরে হয়তো ২ থেকে ৪ হাজার টাকা বেতন বাড়ানো হয়। কিন্তু তাতে বাড়তি খরচ সামাল দেওয়া যায় না।’
একই ধরনের সমস্যার কথা জানিয়েছেন আরেক বেসরকারি চাকরিজীবী রিক্তা আক্তার। তিনি বলেন, ‘খরচ এত দ্রুত বাড়ছে যে চাকরির পাশাপাশি বাড়তি আয়ের কথাও ভাবতে হচ্ছে। কিন্তু বাড়তি কাজ করার মতো সময় বা সুযোগ খুঁজে পেতে হিমশিম খেতে হয়।’
এহসানুল কবির ও রিক্তা আক্তার একা নন। ঢাকায় অনেক বেতনভোগী মানুষ একই ধরনের সমস্যার মুখে পড়ছেন। জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়তে থাকায় তাদের পক্ষে সঞ্চয় করা কঠিন হয়ে পড়েছে। সংসারের খরচ মেটাতে কেউ কেউ ঋণ নিতেও বাধ্য হচ্ছেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক এবং দক্ষিণ এশীয় অর্থনৈতিক মডেলিং নেটওয়ার্কের সম্মানসূচক গবেষণা পরিচালক মাহতাব উদ্দিন মনে করেন, বাংলাদেশের মূল্যস্ফীতির সমস্যা বুঝতে হলে দেশের মুদ্রানীতি ও রাজস্বনীতির সিদ্ধান্তগুলো বিবেচনায় নিতে হবে। তিনি বলেন, ‘যুক্তরাজ্য ও ভারতের মতো দেশগুলো মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সুদের হার বাড়িয়েছিল। কিন্তু বাংলাদেশ যথেষ্ট কঠোরভাবে বা সঠিক সময়ে মুদ্রানীতি নিয়ন্ত্রণ করেনি। সংকটে থাকা ব্যাংকগুলোকে ধারাবাহিকভাবে তারল্য সহায়তা দেওয়া এবং সম্প্রসারণমূলক রাজস্বনীতি মূল্যস্ফীতির চাপ আরও বাড়িয়েছে।’
মাহতাবের মতে, বাংলাদেশের দুর্বল কর আদায়ব্যবস্থা এবং বড় বড় উন্নয়ন প্রকল্পে বিপুল ব্যয়ও সরকারের আর্থিক চাপ বাড়িয়েছে। এসব কাঠামোগত কারণে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। এর মধ্যেই সাধারণ মানুষকে বাড়তি দামে পণ্য কিনে সংসার চালাতে হচ্ছে।
মূল্যস্ফীতির প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ে নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোর ওপর। কারণ, তাদের আয়ের বড় অংশই খাবার ও অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কেনার পেছনে ব্যয় হয়। মাহতাব বলেন, ‘পণ্যের দাম বাড়লে এবং প্রকৃত মজুরি সেই হারে না বাড়লে মানুষকে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়। পরিবারগুলো মাছ, মাংস বা ফল কেনা বন্ধ করে দিতে পারে। তারা কম পুষ্টিকর খাবার খেতে পারে। এমনকি সন্তানের শিক্ষার খরচও কমিয়ে দিতে পারে।’
এ ধরনের সিদ্ধান্তের প্রভাব শুধু মাসিক বাজেটের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না। এর ফলে মানুষের পুষ্টি, শিক্ষা এবং দীর্ঘ মেয়াদে আর্থিক অবস্থার উন্নতির সুযোগও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। যেসব পরিবার আগে থেকেই নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ মেটাতে হিমশিম খাচ্ছে, তাদের হাতে কমানোর মতো বাড়তি খরচ খুব একটা থাকে না।
একটি পরিবারের আর্থিক চাপ কতটা হবে, তা নির্ভর করে খাবার, বাসাভাড়া ও যাতায়াতের মতো প্রয়োজনীয় খাতে তাদের কত টাকা খরচ হয়, তার ওপরও। এসব খাতে আয়ের বেশির ভাগ অর্থ চলে গেলে সঞ্চয় বা হঠাৎ তৈরি হওয়া বাড়তি খরচ মেটানোর জন্য খুব কম টাকা অবশিষ্ট থাকে।
পণ্যের দামের সঙ্গে তাল মিলিয়ে মজুরিও বাড়েনি। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর মজুরি হার সূচক অনুযায়ী, ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে জাতীয় পর্যায়ে মজুরি বৃদ্ধির হার ছিল ৭ দশমিক ৯ শতাংশ। অথচ ওই মাসে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ৩৪ শতাংশ। অর্থাৎ, মজুরি বৃদ্ধির হার মূল্যস্ফীতির চেয়ে ০ দশমিক ৪৪ শতাংশীয় পয়েন্ট কম ছিল। তবে এর অর্থ এই নয় যে প্রত্যেক কর্মীর ক্রয়ক্ষমতা কমেছে। কারণ, ব্যক্তিভেদে বেতন বৃদ্ধির হার এবং পরিবারের খরচের ধরন আলাদা। কিন্তু এই পরিসংখ্যান থেকে বোঝা যায়, গড়ে মজুরি বৃদ্ধির হার পণ্যের দাম বৃদ্ধির সঙ্গে তাল মেলাতে পারেনি। ফলে অনেক পরিবারের পক্ষে আর্থিক অবস্থার উন্নতি করা কঠিন হয়ে পড়েছে। এই সমস্যা শুধু বেতনভোগী কর্মীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। পরিবারের আর্থিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল শিক্ষার্থীরাও যাতায়াত ও দৈনন্দিন খরচের চাপে রয়েছেন।
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ আল মাহমুদ মোটরসাইকেলে যাতায়াতের জন্য প্রতিদিন অন্তত ২০০ টাকার জ্বালানি খরচ করেন। অন্যদিকে, মেট্রোরেলে যাওয়া-আসায় তার ২৪০ টাকা লাগে। ফলে যাতায়াতের মাধ্যম বেছে নেওয়ার আগে তাকে খরচের হিসাব করতে হয়।
মাহমুদ প্রায়ই বন্ধুদের কাছ থেকে শোনেন, মাসের শেষ দিকে তাদের টাকা ধার করতে হয়। বেতন পাওয়ার পর সেই টাকা শোধ করেন তারা। এতে পরের মাসের শুরুতেই আবার টাকার সংকট তৈরি হয়। তখন নতুন করে ঋণ নিতে হয়। এভাবে তারা বারবার ঋণের চক্রে আটকে পড়েন।
মাহতাবের মতে, শ্রমিকদের সম্মিলিতভাবে দর-কষাকষির ক্ষমতা দুর্বল হওয়ায় বেতন বাড়ানোর দাবি জানানোও কঠিন হয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, ‘যুক্তরাজ্যে শিক্ষক, চিকিৎসক ও রেলকর্মীরা সংগঠিতভাবে আন্দোলন করে বেতন বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন। বাংলাদেশে অনেক কর্মী, এমনকি দাপ্তরিক কাজ করা কর্মীদেরও একই ধরনের দর-কষাকষির ক্ষমতা নেই। শ্রমিকের চাহিদার তুলনায় শ্রমের জোগান বেশি হলে জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বেতন বাড়ানোর দাবি আদায় করা আরও কঠিন হয়ে পড়ে।’ তবে পরিবারের বাজেটে ঘাটতি তৈরি হওয়ার পেছনে শুধু বাসাভাড়া বা বড় অঙ্কের বিল দায়ী নয়। রেস্তোরাঁয় আড্ডা দেওয়া, নিয়মিত ঘোরাঘুরি, অনলাইনে কেনাকাটা এবং ছোটখাটো শখের পেছনে খরচ করলেও মাস শেষে বড় অঙ্কের টাকা ব্যয় হয়ে যেতে পারে।
প্রতিদিন মাত্র ১০০ টাকা খরচ করলেও হিসাব না রাখলে মাস শেষে সেই ব্যয়ের পরিমাণ দাঁড়ায় ৩ হাজার টাকা। তবে অপ্রয়োজনীয় খরচ কমানোই এই সমস্যার একমাত্র সমাধান নয়। অনেক মানুষের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হলো আয় বাড়ানোর পথ খুঁজে বের করা। কারণ, উপযুক্ত চাকরির সুযোগ এখনো সীমিত।
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের ২০২৬ সালের অক্টোবর মাসে প্রকাশিত এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের অর্থনৈতিক পরিস্থিতিবিষয়ক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষিত তরুণদের প্রায় ২৯ শতাংশ বেকার। প্রতিবেদনে আরও সতর্ক করা হয়েছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কারণে বাংলাদেশে মোট শ্রমের চাহিদা ২ শতাংশের সমপরিমাণ চাপের মুখে পড়তে পারে।
এসব চ্যালেঞ্জ দেশের আরও বড় একটি সমস্যার দিকে ইঙ্গিত করে। জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, সীমিত কর্মসংস্থান এবং শ্রমের চাহিদায় সম্ভাব্য পরিবর্তনের কারণে মানুষের পক্ষে আর্থিক অবস্থার উন্নতি করা কঠিন হয়ে পড়তে পারে।
ঢাকার সাংবাদিক মুমিতুল মিম্মা বলেন, নিজের খরচের হিসাব লিখে রাখার অভ্যাস তাকে বুঝতে সাহায্য করেছে, তার টাকা কোথায় ব্যয় হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘আগে আমি হিসাব না করেই খরচ করতাম। মাসের মাঝামাঝি সময়েই টাকার সংকটে পড়তাম। তাই খরচের একটি ডায়েরি রাখা শুরু করি। যাতায়াতের ভাড়া থেকে শুরু করে এক কাপ চায়ের খরচও সেখানে লিখে রাখতাম। এতে বুঝতে পেরেছি, আমার টাকা কোথায় যাচ্ছে। একই সঙ্গে খরচের পরিকল্পনা করাও সহজ হয়েছে।’
খরচের হিসাব রাখলে মানুষ অপ্রয়োজনীয় ব্যয় চিহ্নিত করতে পারেন। পাশাপাশি নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী বাস্তবসম্মত বাজেটও তৈরি করতে পারেন। তবে শুধু হিসাব রাখলেই দেশের অর্থনৈতিক সমস্যার সমাধান হবে না। যাদের আয়ের প্রায় পুরোটাই খাবার, বাসস্থান, চিকিৎসা ও পরিবারের প্রয়োজন মেটাতে ব্যয় হয়ে যায়, তাদের পক্ষে খরচ কমানোর সুযোগ খুবই সীমিত। এখানেই অর্থ ব্যবস্থাপনা বা ব্যক্তিগত আর্থিক পরিকল্পনার গুরুত্ব সামনে আসে।
বেতন পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই কিছু টাকা আলাদা করে রাখলে সঞ্চয় করা সহজ হয়। মাসের শেষে টাকা বেঁচে থাকলে সঞ্চয় করবেন—এমন চিন্তার বদলে শুরুতেই সঞ্চয়ের পরিকল্পনা করা বেশি কার্যকর। আলাদা সঞ্চয়ী হিসাব খোলা, স্বয়ংক্রিয়ভাবে টাকা জমা রাখার ব্যবস্থা করা অথবা প্রতি মাসে নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা জমা দেওয়ার কোনো প্রকল্পে অংশ নেওয়ার মাধ্যমে এই অভ্যাস গড়ে তোলা যায়। নিয়মিত খরচের হিসাব রাখা এবং জরুরি প্রয়োজনের জন্য আলাদা তহবিল গড়ে তুললেও ঋণের প্রয়োজন কমতে পারে।
মোহাম্মদপুর সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষক মঞ্জুরা আক্তার বলেন, ‘জীবনযাত্রার ব্যয় যেমনই হোক, নিজের আয়ের মধ্যে খরচ সামলানোও একটি দক্ষতা। বর্তমানের উচ্চমূল্যের মধ্যেও অনেক মানুষ আপনার আয়ের চেয়ে অনেক কম আয় করে সংসার চালাচ্ছেন।’ তিনি মাসের শুরু থেকেই সঞ্চয় করার এবং প্রয়োজনীয় খাতগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে খরচের পরিকল্পনা করার পরামর্শ দেন। তার মতে, মাসিক সঞ্চয় প্রকল্প বা পেনশনভিত্তিক আমানত প্রকল্পের মতো ব্যবস্থায় টাকা জমা রাখলে নিয়মিত সঞ্চয়ের অভ্যাস গড়ে উঠতে পারে। পাশাপাশি জরুরি প্রয়োজনে ব্যবহারের জন্য আলাদা তহবিল থাকলে হঠাৎ কোনো খরচের সময় আর্থিক চাপ কমানো সম্ভব।
তবে বাজেট তৈরিরও সীমাবদ্ধতা রয়েছে। আয় দিয়ে মৌলিক প্রয়োজন মেটানোই সম্ভব না হলে সঞ্চয় করাও অসম্ভব হয়ে পড়ে। যেসব পরিবারকে বাসাভাড়া, খাবার ও যাতায়াতের খরচ মেটাতে হিমশিম খেতে হয়, তাদের জন্য সমস্যা শুধু টাকা কীভাবে ব্যবস্থাপনা করতে হবে, তা নয়। বরং তাদের আয় জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয়ের সঙ্গে তাল মেলাতে পারছে কি না, সেটিও বড় প্রশ্ন।


আপনার মতামত লিখুন :
More News Of This Category