রকমারি ডেস্ক: পোশাকের সঙ্গে মানানসই গয়না বেছে নেয়ার ক্ষেত্রে নীতা আম্বানীর পছন্দ বরাবরই নজর কাড়ে। কখনও দামি হীরার হার, কখনও ব্যতিক্রমী নকশার অলঙ্কার। তাঁর সাজে নতুনত্বের ছোঁয়া থাকে সবসময়ই। সম্প্রতি মুম্বাইয়ে নীতা মুকেশ আম্বানী কালচারাল সেন্টারের লাইব্রেরি উদ্বোধনের অনুষ্ঠানেও তাঁর সাজের একটি বিশেষ অনুষঙ্গ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। পোশাকের ওপর লাগানো ফড়িংয়ের আদলে তৈরি ব্রোচটি সেদিন সবার নজর কেড়েছে।
ঘিয়ে রঙের প্যান্ট-স্যুটের সঙ্গে এই ব্রোচটি ছিল নীতার সাজের অন্যতম আকর্ষণ। ‘শোরিং স্পিরিট’ নামের এই অলঙ্কারটির আনুমানিক দাম ১২ থেকে ১৫ কোটি টাকা। এটি তৈরি করেছেন চীনের খ্যাতনামা গয়না-শিল্পী ওয়ালেস চ্যান।
একটি গয়না তৈরিতে এক দশক
২০১৭ সালে তৈরি এই ব্রোচটি বানাতে শিল্পীর সময় লেগেছিল প্রায় ১০ বছর। ওয়ালেস চ্যানের কাছে গয়না কেবল সাজের উপকরণ নয়, প্রতিটি অলঙ্কারই যেন একটি শিল্পকর্ম। সূক্ষ্ম নকশা, রত্নের বিন্যাস এবং নিখুঁত কারুকাজের জন্যই এতটা সময় লেগেছে বলে জানা যায়।
ব্রোচটি তৈরি হয়েছে সবুজ রঙের বিশেষ রত্ন, রুবি, গোলাপি স্যাফায়ার, হলুদসহ নানা রঙের হীরা দিয়ে। এর সঙ্গে ব্যবহার করা হয়েছে টাইটানিয়াম। রত্নের এমন নিপুণ বিন্যাসে ফড়িংটির ডানা ও শরীর যেন জীবন্ত হয়ে উঠেছে।
ডানায় লুকিয়ে গণনার যন্ত্রের অনুপ্রেরণা
এই ব্রোচের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক এর ডানার নকশা। শিল্পীর ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, ডানার নকশা তৈরি করতে অনুপ্রেরণা নেওয়া হয়েছে অ্যাবাকাস থেকে। একসময় হিসাব-নিকাশের কাজে ব্যবহৃত এই যন্ত্র সময়, পরিমাপ ও জ্ঞানের প্রতীক হিসেবেও বিবেচিত। লাইব্রেরি উদ্বোধনের অনুষ্ঠানে নীতা এই ব্রোচটি বেছে নেওয়ায় নকশার এই ভাবনাটি বিশেষ তাৎপর্য পেয়েছে।
চীনে ফড়িংকে স্বাধীনতা, পরিবর্তন ও নতুন শুরুর প্রতীক হিসেবে দেখা হয়। নীতা মুকেশ আম্বানী কালচারাল সেন্টারের তরফ থেকেও ব্রোচটিকে স্বপ্ন, স্বাধীনতা এবং অসীম সম্ভাবনার প্রতীক হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।
কে এই ওয়ালেস চ্যান?
১৯৫৬ সালে চীনে জন্ম ওয়ালেস চ্যানের। পাথর খোদাইয়ের শিল্পী হিসেবে তাঁর কাজের শুরু। পরবর্তী সময়ে গয়না তৈরির জগতে নিজের স্বতন্ত্র পরিচিতি গড়ে তোলেন। প্রকৃতি তাঁর নকশার অন্যতম প্রধান অনুপ্রেরণা। প্রজাপতি, ফড়িং, মাছের মতো নানা প্রাণীর অবয়ব তাঁর অলঙ্কারে বারবার ফিরে আসে। এর আগেও ভেনিস বিয়েনালের মতো আন্তর্জাতিক শিল্পমঞ্চে নীতা আম্বানীকে তাঁর তৈরি গয়না পরতে দেখা গিয়েছে।
একটি ছোট্ট ফড়িংয়ের আদলে তৈরি ব্রোচ। কিন্তু তার নকশা, রত্নের ব্যবহার এবং তৈরির দীর্ঘ ইতিহাস একে সাধারণ অলঙ্কারের চেয়ে অনেক বেশি কিছু করে তুলেছে। তাই নীতা আম্বানীর পোশাকে দেখা দেওয়ার পর ফের আলোচনায় ওয়ালেস চ্যানের এই শিল্পকর্ম।