মো. রেজাউল করিম, ঠাকুরগাঁও: ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলার বৈরচুনা ইউনিয়ন সংলগ্ন ভারতীয় সীমান্ত এলাকায় বিএসএফের গুলিতে আসাদুল ইসলাম নামে এক বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও দুই বাংলাদেশিকে আটক করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) বলে জানা গেছে। ঘটনার একদিন পেরিয়ে গেলেও নিহতের মরদেহ দেশে ফেরত না আসায় উৎকণ্ঠায় রয়েছে পরিবার। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) ভোর ৪টার দিকে পীরগঞ্জ উপজেলার চান্দেরহাট বিওপির দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকার ভবানীপুরে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত আসাদুল ইসলাম পীরগঞ্জ উপজেলার বৈরচুনা ইউনিয়নের বাসিন্দা। আটক দুজন হলেন উত্তর ইন্দ্রইল গ্রামের আহেদ আলীর ছেলে মোস্তাকিম এবং একই এলাকার মুনষা নারায়ণের ছেলে শ্রী উদা রায়।
বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, দিনাজপুর ব্যাটালিয়নের (৪২ বিজিবি) চান্দেরহাট বিওপির দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত পিলার ৩৩৩/এমপি থেকে আনুমানিক দেড় কিলোমিটার ভারতের অভ্যন্তরে বিএসএফের ৬৩/চকশিবানন্দ ক্যাম্পের একটি টহলদল গুলি চালায়। এতে আসাদুল গুলিবিদ্ধ হন এবং আরও দুজনকে আটক করা হয়।
পরে গুলিবিদ্ধ আসাদুলকে ভারতের কালিয়াগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সকাল ৭টার দিকে তার মৃত্যু হয় বলে জানা গেছে।
এদিকে, নিহতের মরদেহ ফেরত আনার বিষয়ে রোববার বেলা ১২টার দিকে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। তবে বৈঠক শেষে মরদেহ হস্তান্তর করা হয়নি।
নিহত আসাদুলের স্ত্রী বলেন, “গতকাল থেকে এখন পর্যন্ত লাশ ফেরত দেওয়া হয়নি। আমরা বিজিবির সঙ্গে যোগাযোগ করছি। কিন্তু কখন লাশ ফেরত পাওয়া যাবে, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাচ্ছি না।”
এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা দ্রুত মরদেহ দেশে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।