মো.বিল্লাল মোল্লা, কুমিল্লা প্রতিনিধি: কুমিল্লার তিতাস উপজেলার নারান্দিয়া ইউনিয়নের নয়াচর গ্রামে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে চোরদের বিচার দাবিতে করা একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে ফিল্মি স্টাইলে চারটি বসতঘরে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার (১৯ জুন) বিকেল তিনটার দিকে গ্রামের জামাল হোসেনের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ স্থানীয়দের সহযোগিতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
সোমবার সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, প্রায় ৩৫ দিন আগে নয়াচর গ্রামের অজিত চন্দ্র দাশ তার পুকুরে মাছ ধরার কাজ শেষে ব্যবহৃত জাল শুকানোর জন্য পুকুরপাড়ে রেখে বাড়িতে চলে যান। পরে অজ্ঞাত চোরচক্র জালগুলো চুরি করে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ ওঠে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কয়েকদিন পর গ্রামের এক পথচারী একটি পরিবারের রান্নাঘরে চার বস্তা জাল দেখতে পেয়ে বিষয়টি স্থানীয় ইউপি সদস্য সোহেল ও আনিসুর রহমানকে অবহিত করেন। পরে তারা গ্রামবাসী ও পুলিশের সহায়তায় অভিযান চালিয়ে চুরি হওয়া জাল উদ্ধার করেন। জাল উদ্ধারের ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয় এবং পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকেও ছড়িয়ে পড়ে।
এ সময় স্থানীয় জামাল হোসেনের প্রবাসী ছেলে সাদ্দাম হোসেন ফেসবুকে একটি মন্তব্য করে চোরদের বিচার দাবি করেন। অভিযোগ রয়েছে, সেই মন্তব্যকে কেন্দ্র করেই ক্ষুব্ধ হয়ে ৪০ থেকে ৫০ জনের একদল লোক শুক্রবার বিকেলে সংঘবদ্ধভাবে তাদের বাড়িতে হামলা চালায়,যার ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে।
ভুক্তভোগীদের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলাকারীরা দেশীয় অস্ত্র, লাঠিসোঁটা ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে বাড়িতে প্রবেশ করে চারটি বসতঘরে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। এ সময় ঘরে থাকা নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার ও অন্যান্য মূল্যবান মালামাল লুট করে নিয়ে যায় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
হামলায় আহত হন আবদুর ছাত্তার (২৪), তার স্ত্রী ছাদিয়া আক্তার (২১), তাদের দুই বছর বয়সী শিশু সন্তান ওসমান এবং জামাল হোসেনের স্ত্রী সুফিয়া বেগম (৪৫)। আহতদের স্থানীয়রা উদ্ধার করে তিতাস উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। এ হামলার বিষয়ে ভুক্তভোগি পরিবার কোর্টে একটি মামলা করেন।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, হামলায় অংশ নেন নয়াচর গ্রামের আলাউদ্দিনের ছেলে তামিম (১৭), তার ভাই ইয়াছিন (২৪), আব্দুল বারেক মেম্বারের ছেলে ছবির হোসেন (৪০), তার সহোদর মনির হোসেন (৪৫), হেলাল (২৭), শাহ আলমের ছেলে ইয়াছিন (২২), শামসুল হকের ছেলে মিজান (৪০), ছবির হোসেনের ছেলে সজিব (১৭), তোফাজ্জল হোসেনের ছেলে সানি (১৬), তার ভাই শাওন (১৯), লেয়াকত আলীর ছেলে মনির হোসেন (৪০), রওশন আলীর ছেলে জসিম উদ্দিন (৪৮) এবং তাদের সঙ্গে থাকা আরও প্রায় ৪০ জন বহিরাগত ব্যক্তি।
ঘটনার পর থেকেই এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হামলা ও লুটপাটের বিষয়টি ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। স্থানীয় সচেতন মহল এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।