• শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬, ০৪:৫৪ অপরাহ্ন
Headline
পিরোজপুরে শরীয়তপুরের সাংবাদিকদের সংবর্ধনা ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত বাংলাদেশের শীর্ষ বিনিয়োগকারী ও বেসরকারি ঋণদাতা চীন ব্যাংকখাত থেকে ২২ হাজার কোটি টাকা বেশি ঋণ সরকারের বেতনের ১২০ গুণ ক্ষতিপূরণ দাবি এইচএসবিসি-র ২৫৭ চাকরিচ্যুত কর্মকর্তার রাশিয়া ও ইউক্রেনকে পেছনে ফেলে গম আমদানির শীর্ষে আর্জেন্টিনা ‘গ্লোবাল ওয়েলথ রিপোর্ট’: বিশ্বজুড়ে ১০ লাখ নতুন ধনকুবের সপ্তাহের ব্যবধানে বেড়েছে মাছ-মুরগির দাম হাসপাতাল থেকে বিদেশে, পাকিস্তানে গর্ভফুল বিদেশে পাচার, গোপন বাণিজ্য যুক্তরাষ্ট্রে প্রচণ্ড গরম,স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠান ব্যাহত পেরুর প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলেন ডানপন্থী কেইকো ফুজিমোরি

ব্যাংকখাত থেকে ২২ হাজার কোটি টাকা বেশি ঋণ সরকারের

Reporter Name / ১৪ Time View
Update : শনিবার, ৪ জুলাই, ২০২৬

প্রভাত অর্থনীতি: সদ্য সমাপ্ত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ক্রমবর্ধমান রাজস্ব ঘাটতি ও সরকারি ব্যয় বৃদ্ধির কারণে সৃষ্ট বাজেট ঘাটতি মেটাতে ব্যাংক খাত থেকে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় প্রায় ২২ হাজার কোটি টাকা বেশি ঋণ নিয়েছে সরকার।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সরকারের ব্যাংকঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৪০ হাজার কোটি টাকা। সংশোধিত বাজেটে এ খাতে ঋণ নেওয়ার লক্ষ্য ছিল ১ লাখ ১৮ হাজার কোটি টাকা।
অর্থবছরের মূল বাজেটে বাজেট ঘাটতি অর্থায়নের জন্য ব্যাংক খাত থেকে ১ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার পরিকল্পনা ছিল। তবে অর্থায়নের চাহিদা বাড়তে থাকায় জুনে ঘোষিত বাজেটে সেই লক্ষ্যমাত্রা প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকা বাড়ানো হয়।
২০২৬ সালের ২৩ জুন পর্যন্ত ব্যাংকিং ব্যবস্থা থেকে সরকারের নিট বকেয়া ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৮৭ হাজার কোটি টাকা, যা আগের অর্থবছর (২০২৪-২৫) শেষে ছিল ৫ লাখ ৫০ হাজার কোটি টাকা। ২৩ জুন পর্যন্ত নিট ঋণ বেড়েছিল ১ লাখ ৩৭ হাজার কোটি টাকা এবং অর্থবছরের বাকি দিনগুলোতে তা আরও ৩ হাজার কোটি টাকা বৃদ্ধি পায়।
ব্যাংকারদের মতে, নির্বাচিত বিএনপি সরকারের মেয়াদে অর্থবছরের শেষ কয়েক মাসে ব্যাংক খাত থেকে সরকারের ঋণ গ্রহণের গতি বেড়ে যায়। এ সময়ে পরিচালন ব্যয় ও বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) বাস্তবায়ন জোরদার হলেও রাজস্ব আদায় প্রত্যাশা অনুযায়ী হয়নি।
তাদের ভাষ্য, পুরো অর্থবছরজুড়ে বেসরকারি খাতে ঋণের চাহিদা তুলনামূলক কম থাকায় তারল্যের ওপর বড় ধরনের চাপ ছাড়াই সরকার ব্যাংক থেকে বেশি ঋণ নিতে পেরেছে। তবে চলতি অর্থবছরে বেসরকারি খাতে ঋণের চাহিদা বাড়লে সরকারের অর্থায়নের প্রয়োজন মেটাতে রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি এবং বৈদেশিক ঋণের ওপর আরও বেশি নির্ভর করতে হতে পারে বলেও তারা সতর্ক করেছেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, অন্তর্বর্তী সরকারের আমলেও ২০২৪-২৫ অর্থবছরে সরকার ব্যাংকঋণের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যায়। ওই অর্থবছরে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৯৯ হাজার কোটি টাকা, কিন্তু সরকার ব্যাংক খাত থেকে ঋণ নেয় ১ লাখ ১৪ হাজার কোটি টাকা, যা লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় প্রায় ১৫ শতাংশ বেশি।
অন্যদিকে, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে সরকারের ব্যাংকঋণ ছিল লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় প্রায় ২১ শতাংশ কম। তবে ২০২২-২৩ অর্থবছরে ব্যাংকঋণ নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে প্রায় ২ শতাংশ বেশি ছিল।
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) বিশিষ্ট ফেলো মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, প্রত্যাশার তুলনায় রাজস্ব আদায় কম হওয়ায় সরকারি ব্যয় মেটাতে ব্যাংকঋণের ওপর সরকারের নির্ভরতা বেড়েছে। তিনি বলেন, সরকার অতিরিক্ত ব্যাংকঋণ নিলে ‘ক্রাউডিং আউট’ প্রভাবের কারণে বেসরকারি খাতের জন্য ঋণের প্রাপ্যতা কমে যেতে পারে। তবে এখন পর্যন্ত বেসরকারি খাতে ঋণের চাহিদা তুলনামূলক দুর্বল থাকায় এর প্রভাব সীমিত রয়েছে।
মুস্তাফিজুর রহমান সতর্ক করে বলেন, দীর্ঘদিন ব্যাংকঋণের ওপর নির্ভরতা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে ঋণ পরিশোধ ও সুদ বাবদ সরকারের ব্যয় আরও বাড়বে, যা দীর্ঘমেয়াদে টেকসই হবে না। রাজস্ব আদায় বাড়াতে কর প্রশাসনের ফাঁকফোকর কমানো এবং প্রযুক্তির ব্যবহার সম্প্রসারণের মাধ্যমে কর ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার আহ্বান জানান তিনি।
মে ও জুন মাসে কর আদায়ে উল্লেখযোগ্য উন্নতি হলেও ২০২৫-২৬ অর্থবছরে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় প্রায় ৮৮ হাজার কোটি টাকা কম রাজস্ব আদায় করেছে।
এনবিআরের প্রাথমিক হিসাবে, অর্থবছরে রাজস্ব আদায় হয়েছে ৪ লাখ ১৫ হাজার কোটি টাকা, যেখানে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫ লাখ ৩ হাজার কোটি টাকা। তবে ঘাটতি থাকা সত্ত্বেও আগের অর্থবছরের তুলনায় রাজস্ব আদায় ১২ শতাংশের বেশি বেড়েছে।
এনবিআর কর্মকর্তারা জানান, চূড়ান্ত হিসাব প্রকাশের পর আদায়ের পরিমাণ আরও কিছুটা বাড়তে পারে। এতে রাজস্ব ঘাটতি কমবে এবং বার্ষিক প্রবৃদ্ধির হারও উন্নত হবে।
চেঞ্জ ইনিশিয়েটিভের গবেষণা ফেলো এম হেলাল আহমেদ জনি বলেন, বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সরকারি ব্যয় বাড়ায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ব্যাংকঋণও বেড়েছে। তিনি বলেন, বেসরকারি খাতের দুর্বল কার্যক্রম রাজস্ব আদায়ে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। পাশাপাশি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের ধীরগতির কারণে সরকারি বিনিয়োগসংশ্লিষ্ট কর আদায়ও কম হয়েছে।
তবে চলতি অর্থবছরে বেসরকারি খাতের কার্যক্রম ও রাজস্ব আদায় ঘুরে দাঁড়াবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। একই সঙ্গে ব্যাংকঋণের ওপর অতিনির্ভরতা কমিয়ে জনগণের সঞ্চয় থেকে অর্থ সংগ্রহ এবং স্বল্পসুদে বৈদেশিক অর্থায়নের সুযোগ বাড়ানোর পরামর্শ দেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এনবিআরের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, সরকারের রাজস্বের একটি বড় অংশ উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের সঙ্গে সম্পর্কিত। ফলে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) বাস্তবায়ন ধীর হওয়ায় অর্থবছরে রাজস্ব আদায়ও কম হয়েছে।
পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে এডিপি বাস্তবায়নের হার ছিল মাত্র ৪৮ শতাংশ, যা গত ১৬ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন।
ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, মাঠপর্যায়ের এনবিআর কর্মকর্তাদের মধ্যে আস্থার ঘাটতি থাকায় নিয়মিত কার্যক্রমের বাইরে কর আদায়ে জোরালো উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব হয়নি। আরও সক্রিয় পদক্ষেপ নেওয়া গেলে কর আদায় বাড়ানো সম্ভব হতো।


আপনার মতামত লিখুন :
More News Of This Category