• রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৪৯ পূর্বাহ্ন
Headline
বাগেরহাটে জোরপূর্বক জমি দখলের চেষ্টা, সীমানার কাটাতার ও পিলার ভেঙ্গে ফেলার অভিযোগ পিরোজপুরে অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেনের সুস্থতা কামনায় দোয়া মাহফিল গুজব প্রতিরোধে সমন্বিত প্রস্তুতির তাগিদ বিশিষ্টজনদের নির্বাচনী ওয়াদা বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে: খাদ্যমন্ত্রী সাইবার হামলার ঝুঁকিতে ছয় ব্যাংকসহ যেসব সরকারি প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট বন্ধ আলেমদের জন্য রক্ত দিতেও দ্বিধা করব না: ধর্মমন্ত্রী দেশে পরিকল্পিতভাবে সাংস্কৃতিক আগ্রাসন চালানো হচ্ছে: রিজভী সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির ‘ভবন-২০২০’ প্রকল্প পুনরায় চালুর উদ্যোগ রাস্তা-ফুটপাতে অবৈধ দোকান বসালেই মামলা, মালামাল ক্রোক : ডিএসসিসি প্রশাসক চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে নতুন আইন হচ্ছে : আইজিপি

ভোলায় পৌর এলাকায় দিন দিন বাড়ছে ডেঙ্গু মশার উপদ্রব

Reporter Name / ৬০ Time View
Update : শনিবার, ৩ অক্টোবর, ২০২৬

প্রভাত সংবাদদাতা, ভোলা: সারাদেশের মতো ভোলা পৌর এলাকায় দিন দিন বাড়ছে ডেঙ্গু মশার উপদ্রব। মশার কামড়ে জ্বরে আক্রান্ত হচ্ছেন অনেকেই। অথচ মশা প্রতিরোধে পৌরসভার মূল কাজ মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা, শহরকে পরিষ্কার রাখা ও মানুষকে সচেতন করা। কিন্তু এর কোনো কার্যক্রমই ভোলা পৌরসভা থেকে নেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ পৌরবাসীর। তাদের দাবি, প্রায় ৬/৭ মাস আগে ফগার মেশিন দিয়ে ধোঁয়া ও ওষুধ ছিটানো হয়েছে এক-দুইবার। এরপর এখন পর্যন্ত আ রকোনো কার্যক্রম দেখা যায়নি।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ভোলা পৌরসভার আবহাওয়া অফিস রোড, পৌর ভূমি অফিস রোড, ওয়ার্ডের ভদ্রপাড়া, গাজীপুর রোড, উকিল পাড়া, নূর মসজিদ রোড মুসলমান পাড়া, রিজার্ভ পুকুর পাড়সহ বিভিন্ন এলাকার ড্রেনে জমে আছে ডেঙ্গুর লার্ভা। তার চারদিকে বসে আছে অসংখ্য ছোট-বড় মশা। মনে হচ্ছে, মশার চাষ করছেন পৌর কর্তৃপক্ষ। বিভিন্ন এলাকার রাস্তার পাশেও একই অবস্থায় পড়ে আছে দীর্ঘদিনের ময়লা ও বর্জ্য। বিভিন্ন স্থানে জমে আছে বৃষ্টির পানি। পরিষ্কার করার মতো কেউ নেই। ডেঙ্গুর হাত থেকে রক্ষায় সারাদিন কয়েল জ্বালিয়ে রাখেন ওই এলাকার বাসিন্দারা। বিকেল হলেই মশার উপদ্রব বৃদ্ধি পায়, ফলে একসঙ্গে কয়েকটি কয়েল জ্বালিয়ে বসে থাকতে দেখা গেছে এলাকাবাসীকে। পৌরসভার দায়িত্ব পালনে এসব অবহেলার অভিযোগ তুলে নানা ক্ষোভ প্রকাশ করেন পৌরবাসীরা।
এদিকে অনুসন্ধানে দেখা গেছে, গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে মশা নিধনের জন্য ভোলা পৌরসভা বাজেট করেন ৪৫ লাখ টাকা। আর কাগজে কলমে ২০২৫-২৬ অর্থ বছরের মশা নিধনের কাজে খরচ দেখানো হয় ৪১ লাখ ২২ হাজার ৯০০ টাকা। বর্তমান ২০২৬-২৭ অর্থবছরে মশা নিধনের জন্য ১৮ লাখ টাকা বাজেট করা হয়। তবে অনুসন্ধানে ২০২৫-২৬ ও ২০২৬-২৭ অর্থবছরের মশা নিধনের কার্যক্রম জোরালোভাবে দেখা যায়নি। অভিযোগ রয়েছে, প্রায় ৬/৭ মাস পূর্বে পৌর এলাকার বিভিন্ন স্থানে ১ বার ফগার মেশিন দিয়ে ধোঁয়া ও ওষুধ ছিটানো হয়েছে। এরপর আর দেখা যায়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
রিজার্ভ পুকুর সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা কুলসুম বেগম ও হালিমা আক্তার জানান, বাড়িতে মশার উৎপাত বেড়ে গেছে। মশার জ্বালায় বসে থাকা যায় না। মশার কয়েল জ্বালিয়ে থাকি। মশারি টানালেও মশারির মধ্যে ঢোকে, ছোট বাচ্চাদের কামড় দেয়। এতে হাত-পা ফুলে যায়।
তারা আরও জানান, সারাদিন ঘরের মধ্যে মশার কয়েল জ্বালিয়ে রাখি। সন্ধ্যার আগে থেকে মশার সংখ্যা বেড়ে যায়। তখন ২/৩টি কয়েল জ্বালিয়ে রাখি। মশার কয়েলের ধোঁয়া আমাদের ও শিশুদের শরীরের জন্য ক্ষতি জানলেও কিছু করার নেই। পৌরসভা থেকে অনেক মাস ধরে ধোঁয়া ও ওষুধ ছিটানা হচ্ছে না।
উকিল পাড়া এলাকার বাসিন্দা ও ভোলা জেলা সুজনের সভাপতি মোবাশ্বের উল্লাহ চৌধুরী জানান, পৌরসভা থেকে ছয়-সাতমাস আগে তার এলাকায় ওষুধ ছিটিয়েছেন। তারপর এত মাস পার হয়ে গেলেও কোনো খবর নেই। তিনি ফ্রি সময় বাড়িতে বই পড়েন। মশার কয়েল জ্বালিয়ে, ফ্যান চালিয়েও মশার আক্রমণ থেকে রক্ষা পান না। ঘরে বসে খাওয়া-দাওয়ার সময়ও মশার কামড়ে স্বস্তি পাওয়া যায় না। তিনি আরও জানান, সারাদেশে ডেঙ্গুর এখন ভয়াবহ অবস্থা। সাধারণ মানুষকে সতর্ক করা প্রয়োজন। এই সতর্ক করার দায়িত্ব পৌরসভার। কিন্তু পৌরসভা সে দায়িত্ব পালন করছে না। তারা ডেঙ্গু ও এডিস মশা নিধনের জন্য ভোলায় দৃশ্যমান কোনো কাজ করছে না। পৌরসভা পৌরবাসীর স্বার্থে কাজ না করে লুটপাট করছে। তারা ঠিকমতো ড্রেন পরিষ্কার করে না। মশা নিধনের জন্য ওষুধ দেয় না। শুধু কাগজে কলমে তাদের কার্যক্রম দেখায় অর্থ আত্মসাতের জন্য।
ভদ্রপাড়া এলাকার বাসিন্দা মো. কবির হোসেন জানান, সন্ধ্যার পর মশার জন্য ঘরে থাকা অসম্ভব হয়ে পড়ে। বাহিরেও একই অবস্থা। আশপাশের যে সব খোলা ড্রেন রয়েছে সেগুলো বছরের পর বছর পড়ে থাকলেও পরিষ্কার করার কোনো নাম নেই পৌরসভার।
পৌর ১ নম্বর ওয়ার্ডের উপজেলা সড়কের বাসিন্দা মো. বিল্লাল হোসেন জানান, তাদের এখানে গত বছর শীতের পর একবার পৌরসভা থেকে ওষুধ দিয়েছে। এরপর আর দেয়নি। বর্তমানে মশার উপদ্রব বেশি হওয়ায় বসতঘরে থাকা কষ্ট হয়ে পরছে। তাদের এখানে মশার কামড়ে অনেকের জ্বর হয়েছে। কারো কারো ডেঙ্গু জ্বরও হয়েছে বলে তিনি খবর পেয়েছেন।
আবহাওয়া অফিস রোডর বাসিন্দা মো. জামাল হোসেন জানান, সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত মশার অনেক কম থাকে। সন্ধ্যার পর থেকে পুরো এলাকা মশার নিয়ন্ত্রণে থাকে। পৌরসভা থেকে বর্তমানে ধোঁয়া ও ওষুধ ছিটানো হচ্ছে সরকারি অফিসগুলোতে। আর সাধারণ মানুষের বাড়ি-ঘরে ধোঁয়া ও ওষুধ দেওয়া হয় না। মশা আমাদের সাধারণ মানুষের জন্য একটা দুর্ভোগ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
রিজার্ভ পুকুর পাড় সংলগ্ন এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা ও সচেতন নাগরিক মো. রাহিম ইসলাম জানান, বর্তমানে ডেঙ্গু ও মশা সারাদেশের মতো ভোলায়ও বাড়ছে। প্রতিদিনই মশার কামড়ে মানুষের জ্বর উঠছে। কারো কারো ডেঙ্গু জ্বরও হয়েছে। কয়েকদিন আগে তার বন্ধুর এক ভাই মশার কামড়ে ডেঙ্গু হয়ে ঢাকায় গিয়ে চিকিৎসা করেও বাঁচেনি। সে মারা গেছে। অথচ ভোলা পৌরসভা কর্তৃপক্ষের কোনো কার্যক্রমই নেই। তিনি আরও জানান, মশা নিধনের জন্য প্রতিবছরই ভোলা পৌরসভার বাজেট থাকে। গত ২০২৫-২৬ অর্থ বছরে প্রায় ৪৫ লাখ টাকা বাজেট হয়। অথচ তেমন কার্যক্রম আমাদের চোখে পরেনি। মশার জন্য ধোঁয়া, ওষুধ ছিটানোর, ড্রেন পরিষ্কার, সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ বা মাইকিং করতেও দেখিনি। প্রায় ৭/৮ মাস আগে নামমাত্র ধোঁয়া ও ওষুধ ছিটানো হয়েছে, তা তেমন কোনো কাজে আসেনি। তাহলে গত অর্থবছরের এত টাকা কীসে ব্যয় করা হলো ভোলা পৌরবাসী তা জানতে চায়। বর্তমানে বর্ষার পরবর্তী সময়ে পৌরসভার কাজ করার কথা, কিন্তু তাদের কোনো উদ্যোগ নেই। আমরা ভোলা পৌরসভার কর্তৃপক্ষকে গুরুত্ব সহকারে মশক নিধন কার্যক্রম পরিচালনার জন্য অনুরোধ করছি।
ভোলা পৌরসভার প্রশাসক ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. বেলাল হোসেন অর্থ আত্মসাৎ ও অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, তিনি এ বছর এপ্রিল থেকে ভোলা পৌর প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করছেন। যার কারণে অনেক কিছুই তার জানা নেই। গত অর্থবছরের যে ওষুধ কেনা হয়েছে তা এখনও রয়েছে তার জানামতে। ওষুধ যথা নিয়মে কেনা হয়েছে । তবে এ বছর অতি বৃষ্টির কারণে তাদের মশা নিধন ও ড্রেন পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান ব্যাহত হয়েছে। এতে অনেক এলাকায় সমস্যা হচ্ছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে মশা নিধন ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান বাড়ানো হবে বলে দাবি করেন তিনি।


আপনার মতামত লিখুন :
More News Of This Category