• বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬, ০৭:৩৬ অপরাহ্ন
Headline
ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে ঢাকা ও আশপাশের বিভিন্ন স্থানে বিজিবি মোতায়েন বড় মূলধনের কোম্পানি পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বাধ্যতামূলক করা হবে : অর্থমন্ত্রী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে রক্তপাত বন্ধ করাই চ্যালেঞ্জ: সিইসি স্বাস্থ্য খাত সংস্কারের সুপারিশ পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী রামিসা হত্যাকাণ্ডের চার্জশিট দ্রুত দেয়া হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দেশের প্রয়োজনে মাঠে ছিল, এখন ব্যারাকে ফিরছেন সেনাসদস্যরা: সেনাপ্রধান রামিসা হত্যার বিচার দাবিতে পল্লবী থানায় ঢুকে এলাকাবাসীর বিক্ষোভ হাম ও উপসর্গে সাত জনের মৃত্যু, একদিনে সর্বোচ্চ রোগী অবাস্তব প্রতিশ্রুতি দিয়ে কাজ করতে চাই না: ভূমি প্রতিমন্ত্রী অন্তর্বর্তী সরকারের কর্মকাণ্ডের তদন্ত চেয়ে করা রিট খারিজ

রাজশাহীতে পশুহাটের পাশে জমে উঠেছে ছুরি-চাপাতির বাজার

Reporter Name / ৬ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২৬

প্রভাত সংবাদদাতা, রাজশাহী: পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে রাজশাহীর ঐতিহ্যবাহী সিটি হাটে জমে উঠেছে পশু বেচাকেনা। জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে খামারি ও ক্রেতাদের ভিড়ে মুখর হয়ে উঠেছে হাট। পশু ক্রয়-বিক্রয়ের পাশাপাশি কোরবানির জন্য প্রয়োজনীয় ছুরি, চাপাতি, দা, বটি ও হাড় ভাঙার সরঞ্জামের চাহিদাও বেড়েছে কয়েকগুণ। সেই সঙ্গে বেড়েছে এসব পণ্যের দামও। বৃহস্পতিবার (২১ মে) বেলা ১১টার দিকে রাজশাহীর সিটি হাট ঘুরে এমন চিত্র দেখা যায়।
সরেজমিনে দেখা গেছে, পশুর হাটের ভেতরেই কয়েকটি কামারশালা অস্থায়ী দোকান বসিয়ে বিক্রি করছে কোরবানির সরঞ্জামাদি। রাজশাহীর বিভিন্ন এলাকা থেকে গরু কিনতে আসা ক্রেতারা পশু কেনার পাশাপাশি জবাই ও মাংস কাটার প্রয়োজনীয় দা, ছুরি, চাপাতি, বটি এবং গরুর হাড় ভাঙার যন্ত্রপাতিও কিনছেন এখান থেকেই। ফলে এক জায়গাতেই কোরবানির প্রায় সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে পারছেন ক্রেতারা।
বিক্রেতারা জানান, গত বছরের তুলনায় এ বছর এসব সরঞ্জামের দাম বেড়েছে। অনেক দোকানে প্রতি কেজি লোহার তৈরি পণ্য ৮০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে, যা গত বছর ছিল ৭০০ টাকার মধ্যে। আন্তর্জাতিক বাজারে যুদ্ধ পরিস্থিতি, লোহা ও রডের দাম বৃদ্ধি এবং উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় দাম বাড়াতে হয়েছে বলে দাবি তাদের।
হাটে সরঞ্জাম বিক্রি করা আব্দুল লতিফ বলেন, প্রতি বছর ঈদের আগে এই সময়টাতে আমাদের ব্যবসা একটু ভালো হয়। তবে এ বছর কাঁচামালের দাম অনেক বেশি বেড়ে গেছে। লোহা, কয়লা, স্টিল- সবকিছুর দাম আগের চেয়ে বেশি। সেই সঙ্গে কামারদের মজুরিও বেড়েছে। ফলে বাধ্য হয়েই আমাদের ছুরি, চাপাতি ও বটির দাম বাড়াতে হয়েছে। গত বছরের তুলনায় প্রতিটি সরঞ্জামে ১০০ থেকে ১৫০ টাকা পর্যন্ত বেশি নিচ্ছি। অনেক ক্রেতা এসে দাম শুনে আবার ফিরে যাচ্ছেন। তবে যাদের একেবারে প্রয়োজন, তারা কিনে নিচ্ছেন।
রাজশাহী নগরীর তালাইমাড়ি এলাকা থেকে কোরবানির গরু কিনতে আসা ইকবাল হোসেন বলেন, গরু কেনার পর আবার আলাদা করে বাজারে গিয়ে কোরবানির সরঞ্জাম কেনা ঝামেলার বিষয়। এখানে একই জায়গায় সব পাওয়া যাচ্ছে, এটা আমাদের জন্য অনেক সুবিধা হয়েছে। আমি দুটি ছুরি ও একটি বটি কিনেছি। বাজারের তুলনায় এখানে দাম কিছুটা বেশি মনে হয়েছে। ঈদের সময় এসব জিনিস খুব প্রয়োজন হয়, তাই আগে থেকেই কিনে রাখলাম।
অন্যদিকে নগরীর শিরোইল এলাকার সোবহান মোল্লা গরু কিনতে না পারলেও কোরবানির সরঞ্জাম কিনেছেন। তিনি বলেন, এখনও গরু কিনিনি, তবে ভাবলাম পরে দাম আরও বেড়ে যেতে পারে। তাই আগে থেকেই প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম কিনে রাখলাম। ঈদের কাছাকাছি সময়ে ভিড়ও অনেক বেড়ে যায়। তখন ভালো জিনিস পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। তাই আগেভাগে কিনে রাখলে ঝামেলা কম হয়।
বেচাকেনার বিষয়ে সিটি হাটের ব্যবসায়ী আব্দুল জব্বার বলেন, ঈদ যত ঘনিয়ে আসছে, ততই ক্রেতার সংখ্যা বাড়ছে। বিশেষ করে শেষ এক সপ্তাহে ছুরি-চাপাতির বিক্রি কয়েকগুণ বেড়ে যায়। অনেকে পরিবার নিয়ে এসে গরু কেনার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সরঞ্জামও কিনে নিচ্ছেন। এবার দাম একটু বেশি হলেও ভালো মানের জিনিসের চাহিদা রয়েছে। আমরা চেষ্টা করছি ক্রেতাদের সাধ্যের মধ্যে ভালো পণ্য দিতে।


আপনার মতামত লিখুন :
More News Of This Category