• শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬, ০৩:২৮ অপরাহ্ন

রাজশাহীতে রেস্তোরাঁয় হামলা: সাবেক শিবির নেতাসহ ৩০ জনের নামে মামলা

Reporter Name / ৭৪ Time View
Update : সোমবার, ২২ জুন, ২০২৬

প্রভাত সংবাদদাতা, রাজশাহী: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন বিনোদপুর বাজারের বাংলা টিফিন ও বঙ্গভোজ নামের দুটি রেস্তোরাঁয় হামলা, ভাঙচুর ও বিস্ফোরণের ঘটনায় পৃথক দুটি মামলা করা হয়েছে। রবিবার (২১ জুন) রাতে রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) মতিহার থানায় বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে মামলাগুলো করা হয়।
শুক্রবার রাতে সংঘটিত এ ঘটনায় তিন পুলিশ সদস্য ও তিন রেস্তোরাঁ কর্মচারী আহত হন। হামলায় দুটি প্রতিষ্ঠানে ব্যাপক ভাঙচুর এবং লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন মালিকপক্ষ।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রেস্তোরাঁ দুটির মালিক মুর্শেদ শাকিল একটি মামলা করেছেন। অপর মামলাটি করেছেন আহত পুলিশ কনস্টেবল ফয়েজ উদ্দিন। দুটি মামলাতেই বিনোদপুর বাজারসংলগ্ন ধরমপুর-খোজাপুর এলাকার বাসিন্দা সাবেক শিবির নেতা রমজান আলীকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। এছাড়া প্রতিটি মামলায় ২৫ থেকে ৩০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে বাংলা টিফিন রেস্তোরাঁয় খাবারের পার্সেল সরবরাহে বিলম্ব হওয়াকে কেন্দ্র করে রমজান আলীর সঙ্গে কর্মচারীদের বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে তিনি স্থান ত্যাগ করেন। পরে ২৫ থেকে ৩০ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্র নিয়ে রেস্তোরাঁয় হামলা চালায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, হামলাকারীরা বাংলা টিফিনে ব্যাপক ভাঙচুর চালানোর পাশাপাশি একাধিক হাতবোমার বিস্ফোরণ ঘটায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে তাদের লক্ষ্য করেও বোমা নিক্ষেপ করা হয়। এতে কনস্টেবল ফয়েজ উদ্দিনসহ তিন পুলিশ সদস্য আহত হন। হামলায় রেস্তোরাঁর তিন কর্মচারীও আহত হন। পরে হামলাকারীরা একই মালিকানাধীন মণ্ডলের মোড় এলাকায় অবস্থিত বঙ্গভোজ রেস্তোরাঁতেও ভাঙচুর চালায় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ গোলাম কবীর বলেন, ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর পুলিশ সদস্যদের লক্ষ্য করে আরও কয়েকটি হাতবোমা নিক্ষেপ করা হয়। এতে কনস্টেবল ফয়েজ উদ্দিন আহত হন। তাকে প্রথমে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং পরে বিভাগীয় পুলিশ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
রেস্তোরাঁ দুটির মালিক মুর্শেদ শাকিল অভিযোগ করেন, ঘটনার পরদিন সকালে মোটরসাইকেলে করে আসা দুজন ব্যক্তি তার কর্মচারীদের হুমকি দিয়ে মামলা প্রত্যাহার করতে বলে। তিনি আরও বলেন, ‘নিরাপত্তাহীনতার কারণে ব্যবসা পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়েছে। দীর্ঘদিন প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হবে এবং কর্মচারীদের কর্মসংস্থানও হুমকির মুখে পড়বে।’
মতিহার থানার ওসি মোহাম্মদ গোলাম কবীর বলেন, ‘বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে মামলা হয়েছে। আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’ অভিযুক্ত রমজান আলীর সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।


আপনার মতামত লিখুন :
More News Of This Category