প্রভাত সংবাদদাতা, বাগেরহাট: কোটি টাকার বাণিজ্য চলে বাগেরহাটের শরণখোলা মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে। তবে এই কেন্দ্রের প্রধান ঘাটটি দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে রয়েছে। পুরনো রেলপাটির ওপর আরসিসি স্লিপার বসিয়ে বহু আগে নির্মিত ঘাটটি সংস্কারের অভাবে ব্যবহার অনুপযোগী পড়েছে। ফলে ঝুঁকি নিয়ে চলছে মাছ খালাস, বরফ তোলাসহ যাবতীয় কার্যক্রম। ঘাটটি দ্রুত সংস্কার না করা হলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটানর শঙ্কা প্রকাশ করেছেন ব্যবসায়ীরা।
জেলে-শ্রমিক ও মৎস্য ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, শরণখোলা মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রটি দীর্ঘদিন ধরে ভাঙাচোরা ও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। এই অবতরণ কেন্দ্রটি ঘিরে কোটি কোটি টাকার বাণিজ্য হলেও ঘাটটির সংস্কারে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেয়নি কর্তৃপক্ষ। দ্রুত সংস্কার না করা হলে যেকোনো সময় ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা। অন্যথায় চলতি মৌসুমে ঝুঁকিপূর্ণ ঘাটের কারণে জেলে, শ্রমিক ও ব্যবসায়ীদের ভোগান্তি আরও বাড়বে। পাশাপাশি কার্যক্রম ব্যাহত হয়ে তাদের আর্থিক ক্ষতিও বাড়বে।
স্থানীয় মৎস্য আড়তদার কবির হোসেন হাওলাদার বলেন, মাছ ধরার মৌসুম ছাড়াও বছরের অন্যান্য সময় অসংখ্য ট্রলার এই মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে আসে। প্রতিদিন এখানে শত শত মণ মাছ কেনাবেচা হয়। কিন্তু ঘাটের অবস্থা এতটাই খারাপ, যা দিয়ে মাছ ওঠানামা করা বেশ কঠিন হয়ে পড়েছে। ঘাটটি দ্রুত সংস্কার করা না হলে যেকোনো সময়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে।
মৎস্য আড়তদার মুজিবর রহমান তালুকদার বলেন, ঘাটের এই ভঙ্গুর অবস্থার কারণে অনেক ট্রলার এখানে না এসে অন্যান্য অবতরণ কেন্দ্রে যাচ্ছে। ফলে আমরা স্থানীয় ব্যবসায়ী ও শ্রমিকরা চরম ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছি। ঘাটের দ্রুত সংস্কার না হলে যেকোনো সময় প্রাণঘাতীর মতো ঘটনা ঘটে যেতে পারে। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত সংস্কারের দাবি জানান তিনি।
শরণখোলা সমুদ্রগামী ফিশিং ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি মো. আবুল হোসেন বলেন, নিষেধাজ্ঞা শেষে সমুদ্রে মাছ ধরা শুরু হয়েছে। দুই একদিনের মধ্যেই মাছ নিয়ে ফিরে আসবে ট্রলারগুলো। কিন্তু ভাঙাচোরা ঘাট দিয়ে মাছ ওঠানো নামানো খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। যেকোনো সময় ঘটে যেতে পারে বড় কোনো দুর্ঘটনা। কোটি কোটি টাকা খরচ করে বিশাল ভবন নির্মাণ হয়েছে, অথচ ঘাট নির্মাণে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। তিনি আরও বলেন, ঘাটের এই বেহাল দশার কারণে মাছ নিয়ে অনেক ট্রলার এখানে ভিড়তে চায় না। তারা সরাসরি চলে যায় পাথরঘাটা, খুলনা, বাগেরহাটসহ বিভিন্ন অবতরণ কেন্দ্রে। এ কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন শরণখোলার শ্রমিক ও ব্যবসায়ীরা।
শরণখোলা উপজেলা জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা অঞ্জন বিশ্বাস বলেন, ঘাটটির বেহাল দশার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। আশা করি দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন বলেন, শরণখোলার মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রটি পরিদর্শন করেছি। ঘাটটির অবস্থা খুবই নাজুক। এলাকাবাসীর দাবির পরিপ্রেক্ষিতে মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের ঘাটটি সংস্কার করার জন্য শরণখোলার উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে।