• রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬, ০৭:৩৯ অপরাহ্ন
Headline
পীরগঞ্জে জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন শরণখোলায় পল্লী বিদ্যুতের ‘ভুতুড়ে’ বিলে দিশেহারা গ্রাহক, রিডিং ছাড়াই মনগড়া বিলের অভিযোগ টাঙ্গাইলে ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাপসুল ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন হাবিবুর রহমানসহ ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড, চঞ্চলের ২০ বছরের কারাদণ্ড বাগেরহাটে চাকুরী বহাল রাখার দাবি আউটসোর্সিং কর্মচারীদের পাচার হওয়া ৩০ লাখ কোটি টাকা দেশে ফেরত আনার দাবি তুরাগ নদীতে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীর মরদেহ ভাসার খবর ভিত্তিহীন: পুলিশ ২৯ জুন প্রকাশ পাবে নোরা ফাতেহি- সঞ্জয়ের নতুন গান ‘চ্যাম্পিয়ন’ ব্যক্তিগত সীমাবদ্ধতার উর্দ্ধে উঠে সমাজ ও মানুষের জন্য কাজ করতে হবে-প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বাস্তবতা এখন চীন ও ভারতের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান বাণিজ্য ঘাটতি

শরণখোলায় পল্লী বিদ্যুতের ‘ভুতুড়ে’ বিলে দিশেহারা গ্রাহক, রিডিং ছাড়াই মনগড়া বিলের অভিযোগ

Reporter Name / ১৭ Time View
Update : রবিবার, ২৮ জুন, ২০২৬

কুলসুম আকতার পুতুল, শরণখোলা : বাগেরহাটের শরণখোলায় পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জোনাল অফিসের বিরুদ্ধে গ্রাহকদের মিটার রিডিং না নিয়েই অতিরিক্ত ও মনগড়া বিদ্যুৎ বিল করার অভিযোগ উঠেছে। হঠাৎ কয়েক গুণ বেশি বিল পেয়ে বিপাকে পড়েছেন উপজেলার বিভিন্ন এলাকার শত শত গ্রাহক। অভিযোগের প্রতিকার চাইতে রোববার (২৮ জুন) সকাল থেকে জোনাল অফিসে ভিড় করেন ভুক্তভোগীরা।
সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে আসা নারী-পুরুষ অতিরিক্ত বিলের কপি হাতে নিয়ে অভিযোগ জানাতে অফিসে অবস্থান করছেন। তাদের দাবি, মাঠপর্যায়ের মিটার রিডাররা নিয়মিত বাড়ি বাড়ি গিয়ে মিটার রিডিং সংগ্রহ করেন না। বরং অফিসে বসেই অনুমাননির্ভর ইউনিট বসিয়ে বিল প্রস্তুত করা হচ্ছে। ফলে আগে যেখানে মাসিক বিদ্যুৎ বিল ৪০০ থেকে ৫০০ টাকার মধ্যে ছিল, এখন সেখানে ২ থেকে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত বিল পরিশোধ করতে হচ্ছে।
রায়েন্দা বাজারের বাসিন্দা আফরোজা সুলতানা বলেন, “আমার মাসে সাধারণত ৩৫ থেকে ৫০ ইউনিট বিদ্যুৎ খরচ হয়। কিন্তু এবার মিটার না দেখেই ২০০ ইউনিট দেখিয়ে ১ হাজার ৬৭৩ টাকার বিল দেওয়া হয়েছে। বাধ্য হয়ে অভিযোগ জানাতে অফিসে এসেছি।”
রাজৈর গ্রামের কবির মল্লিক জানান, আগে তার বিদ্যুৎ বিল ১৮০ থেকে ২০০ টাকার মধ্যে থাকলেও মে মাসে ১ হাজার ৬০০ টাকার বিল এসেছে। উত্তর তাফালবাড়ির হামিদা বেগম বলেন, তার নামে প্রথমে ৮০০ টাকার বিল করা হলেও অভিযোগের পর তা সংশোধন করে ২০০ টাকা করা হয়।
এছাড়া গোলবুনিয়া গ্রামের সাখাওয়াত হোসেন গাজীর নিয়মিত ৬৫০ থেকে ৭০০ টাকার বিলের পরিবর্তে ১ হাজার ৪৯০ টাকা এবং পূর্ব আমড়াগাছিয়া গ্রামের মো. বাদল হাওলাদারের ৫০০ টাকার স্থলে ১ হাজার ৯৪ টাকার বিল করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা ঘটে রাজৈর গ্রামের গিয়াস উদ্দিনের ক্ষেত্রে। তার নিয়মিত ৩৫ থেকে ৫০ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহারের বিপরীতে ৩২৫ ইউনিটের বিল তৈরি করা হয়। পরে দৈনিক সকালের সময়-এর প্রতিনিধির উপস্থিতিতে বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানালে তাৎক্ষণিকভাবে বিল সংশোধন করে ৪৫ ইউনিট নির্ধারণ করা হয়।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, শুধু একটি-দুটি এলাকায় নয়, উপজেলার রায়েন্দা, সাউথখালী, ধানসাগর, রাজাপুরসহ বিভিন্ন ইউনিয়নে একই ধরনের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। অতিরিক্ত বিলের কারণে সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও উদ্বেগ বিরাজ করছে।
এ বিষয়ে শরণখোলা পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসের দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী জেনারেল ম্যানেজার বলেন, “আমি এখানে সদ্য যোগদান করেছি। কোনো গ্রাহকের বিলে অসঙ্গতি থাকলে আবেদন পাওয়ার পর তা যাচাই করে প্রয়োজনীয় সংশোধনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এদিকে স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, গ্রাহকদের প্রকৃত মিটার রিডিং নিশ্চিত করা এবং মাঠপর্যায়ের মিটার রিডারদের জবাবদিহির আওতায় আনা জরুরি। অন্যথায় সাধারণ মানুষের ভোগান্তি আরও বাড়বে। তারা দ্রুত অভিযোগ তদন্ত করে প্রকৃত রিডিং অনুযায়ী বিল প্রস্তুত এবং অতিরিক্ত বিল বাতিলে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।


আপনার মতামত লিখুন :
More News Of This Category