প্রভাত রিপোর্ট: শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের গবেষণা, উদ্ভাবনী ধারণা ও বাস্তব সমস্যার সমাধানে অর্থায়ন করতে চায় সরকার। একই সঙ্গে মূলধারার শিক্ষাব্যবস্থার বাইরে থাকা এবং অনানুষ্ঠানিক অর্থনীতিতে যুক্ত ব্যক্তিদের ভালো উদ্যোগেও দেওয়া হবে প্রাথমিক অর্থায়ন বা সিড ফান্ডিং। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বাংলাদেশ এআই বিজনেস সামিটে ‘শিল্প ও একাডেমিয়ার সংযোগ: ব্যবসায়িক উদ্ভাবনের দিকে এআইয়ের রূপান্তর’ শীর্ষক সেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন এসব কথা বলেন। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) যৌথ উদ্যোগে রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে এই সামিটের আয়োজন করেছে।
মাহদী আমিনের মতে, শিক্ষাদান, গবেষণা কিংবা যে কোনো প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত বাস্তব সমস্যার কার্যকর সমাধান। বাংলাদেশের অনেক সমস্যাই স্থানীয় মেধা ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব। এ জন্য শিল্পপ্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সরকারের মধ্যে কার্যকর সহযোগিতা গড়ে তুলতে হবে। তিনি বলেন, ‘সামনের দিনগুলোতে শিক্ষার্থী কিংবা শিক্ষকদের ভালো আইডিয়া ও গবেষণায় আমরা অর্থায়ন করতে চাই। যারা মূলধারার শিক্ষাব্যবস্থায় নেই, অনানুষ্ঠানিক অর্থনীতিতে রয়েছেন, তাদেরও ভালো আইডিয়া থাকলে প্রয়োজন অনুযায়ী সিড ফান্ডিং দিতে চাই।’
দেশে মেধার অভাব নেই উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র বলেন, বাংলাদেশের অনেক প্রকৌশলী, বিজ্ঞানী, গবেষক ও উদ্যোক্তা বিদেশের শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয় এবং বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানে কাজ করছেন। মূল চ্যালেঞ্জ হলো, তাদের মেধা বিকাশ ও কাজে লাগানোর জন্য উপযুক্ত প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা।
সরকার ‘ব্রেইন ড্রেইন’কে ‘ব্রেইন সার্কুলেশনে’ রূপান্তর করতে চায় জানিয়ে তিনি বলেন, বিদেশে থাকা বাংলাদেশি গবেষক ও শিক্ষাবিদরা যেন দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে যৌথ গবেষণা ও একাডেমিক কার্যক্রমে যুক্ত হতে পারেন, সেই সুযোগ তৈরি করা হবে। একইভাবে বিদেশে সফল বাংলাদেশি উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীরাও দেশে বিনিয়োগের মাধ্যমে অবদান রাখতে পারবেন। দেশের বিভিন্ন সমস্যার স্থানীয় সমাধান খুঁজতে শিল্প ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের যৌথ উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দেন মাহদী আমিন। তিনি বলেন, যানজট নিরসন, কৃষির উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, কৃষিতে প্রযুক্তির ব্যবহার এবং শিল্পকারখানার উৎপাদন বাড়ানোর মতো ক্ষেত্রে গবেষণা ও উদ্ভাবনের বড় সুযোগ রয়েছে।
এ ক্ষেত্রে শুধু ঢাকাকেন্দ্রিক উদ্যোগ নয়, জেলা পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যেও সংযোগ গড়ে তুলতে হবে বলে মনে করেন তিনি।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রভাব নিয়ে মাহদী আমিন বলেন, এআইয়ের কারণে প্রচলিত কিছু কর্মসংস্থান কমে যেতে পারে। তবে একই সঙ্গে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি হবে। ডেটা অ্যানোটেশনসহ বিভিন্ন খাতে এআইয়ের ব্যবহার নতুন কাজের ক্ষেত্র তৈরি করতে পারে। এ জন্য শিক্ষাব্যবস্থাকে সময়োপযোগী ও বাস্তবমুখী করতে হবে।
প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষাবিষয়ক দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে তিনি বলেন, সরকার এমন একটি শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায়, যেখানে শিক্ষার্থীরা একদিকে ভালো মানুষ ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠবে, অন্যদিকে কর্মসংস্থান কিংবা উদ্যোক্তা হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা ও সক্ষমতা অর্জন করবে। তিনি আরও বলেন, সরকার এমন একটি বাংলাদেশ গড়তে চায়, যেখানে সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচার নিশ্চিত হবে। নীতিনির্ধারণের ক্ষেত্রে বেসরকারি খাত, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য অংশীজনের মতামত নিয়ে নীতিমালা পরিমার্জন ও বাস্তবায়ন করা হবে।
ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সাবেক সভাপতি রিজওয়ান রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন ট্রান্সকম গ্রুপের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সিমিন রহমান, অ্যাপেক্স ফুটওয়্যার লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও ফ্লাক্সের প্রেসিডেন্ট সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. আবদুর রাজ্জাক এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক (আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও প্রযুক্তি) ড. সৈয়দ মুনতাসির মামুন। এছাড়া বক্তব্য দেন বুয়েটের শিক্ষার্থী ও নেভোলিনের সিইও মো. রাহিনুর রহমান, আইইউটির শিক্ষার্থী ও অ্যান্টসের সিইও তৌসিফ ইসলাম এবং এআইইউবির কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ফিরোজ মৃধা।