প্রভাত রিপোর্ট: রাজধানীর হোম ইকোনমিক্স কলেজে নির্ধারিত সময়ের চেয়ে চার ঘণ্টা বেশি অডিটোরিয়াম ব্যবহার করে হল ফেস্ট অনুষ্ঠান করায় দুই শিক্ষার্থীর কাছে বিদ্যুৎ বিল বাবদ ১২ হাজার ৫০০ টাকা দাবি করার অভিযোগ উঠেছে। কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মেহরুন্নেসার বিরুদ্ধে এ অভিযোগ তুলে তার পদত্যাগ দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষার্থীরা। পাশাপাশি আরও কয়েকটি দাবি জানান তারা। একপর্যায়ে অধ্যক্ষের কক্ষে তালা ঝুলিয়েও দেন তারা। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বেলা ১১টার দিকে অধ্যক্ষের কক্ষে তালা ঝুলিয়ে অবস্থান নেন আন্দোলনকারীরা। বিকেল পর্যন্ত তাদের বিক্ষোভ চলে।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, সম্প্রতি অধ্যক্ষের অনুমতি নিয়ে কলেজের অডিটোরিয়ামে একটি হল ফেস্ট অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। তবে সাউন্ড সিস্টেমসহ কিছু সমস্যার কারণে অনুষ্ঠান শুরু ও শেষ করতে দেরি হয়। এতে নির্ধারিত সময়ের চেয়ে প্রায় চার ঘণ্টা বেশি অডিটোরিয়াম ব্যবহার করা হয়। এজন্য দুই শিক্ষার্থীর কাছে বিদ্যুৎ বিল বাবদ ১২ হাজার ৫০০ টাকা দাবি করেন অধ্যক্ষ।
আন্দোলনকারীদের প্রশ্ন, মাত্র চার-পাঁচ ঘণ্টা অতিরিক্ত অডিটোরিয়াম ব্যবহারের জন্য এত টাকা বিদ্যুৎ বিল কীভাবে আসে? অনুমতি নিয়ে অনুষ্ঠান আয়োজনের পরও এভাবে অর্থ দাবি করা অযৌক্তিক বলে মনে করেন তারা। অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতা, শিক্ষার্থীদের হয়রানি, আবাসিক হলের নিরাপত্তায় অবহেলাসহ আরও বেশ কিছু অভিযোগ তুলেছেন আন্দোলনকারীরা। তারা জানান, আবাসিক হলের পাশেই অধ্যক্ষের বাসভবন। সেখানে বহিরাগতদের ভাড়া দেওয়ায় ছাত্রীদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে। হলের সিসিটিভি ক্যামেরা ও নিরাপত্তাব্যবস্থাও পর্যাপ্ত নয়। অথচ হলের ফি বাড়ানো হয়েছে।
এছাড়া হলের খাবারের মান নিয়েও অসন্তোষ রয়েছে শিক্ষার্থীদের। তাদের দাবি, একবার খাবার খেয়ে অনেক শিক্ষার্থী অসুস্থ হলেও কর্তৃপক্ষ কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি। উল্টো খাবার পছন্দ না হলে না খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।
আন্দোলনকারীরা আরও অভিযোগ করেন, এর আগে দুই জ্যেষ্ঠ শিক্ষার্থীর হলের আসন বাতিল করা হয়েছে। তাদের ছাত্রত্ব বাতিলের হুমকিও দেওয়া হয়। কোনো সমস্যা নিয়ে অভিযোগ জানালে বিভাগ ও রোল নম্বর সংগ্রহ করে পরবর্তী সময়ে হয়রানি করা হয়।
শিক্ষার্থীরা বলেন, গত দেড় মাস ধরে আলোচনার মাধ্যমে এসব সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করেও কোনো ফল পাননি তারা। তাই অধ্যক্ষের পদত্যাগের এক দফা দাবিতে আন্দোলনে নেমেছেন। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তারা। তবে অভিযোগের বিষয়ে অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মেহরুন্নেসাকে একাধিকবার কল করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।