• রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ০৯:২৯ অপরাহ্ন
Headline
দু’দিনের সফরে কলকাতার ৫ জায়গায় থেকে ঘুরে আসুন সাবেক রাষ্ট্রদূতের স্ত্রী খুন: ছেলে কারাগারে, গৃহকর্মীর জবানবন্দি ছয় ঘণ্টা অচল ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক, বিজিবি মোতায়েন স্মৃতিশক্তি বাড়ানোর ১০ সহজ ও আনন্দদায়ক উপায় আগামী গ্রীষ্মে কিছুটা হলেও লোডশেডিং কম দিতে পারবো: বিদ্যুৎমন্ত্রী দুর্নীতির মামলায় সাজাপ্রাপ্ত, আত্মসমর্পণের পর কারাগারে শওকত আজিজ রাসেল দ্বিতীয় স্ত্রীর আত্মহত্যা: দায়রা আদালতেও জামিন পাননি এমপি নজরুল রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্র : সাবেক সেনা কর্মকর্তা হাফিজ ৪ দিনের রিমান্ডে সাইবার নিরাপত্তা আইন গণমাধ্যমের স্বাধীনতা খর্ব করার জন্য নয় : আইসিটি মন্ত্রী মিরপুরে শ্রমিকদের সঙ্গে সরকারবিরোধী চক্র যুক্ত থাকতে পারে: পুলিশ
ড্রাইভিং লাইসেন্স নয়, থাকবে পরিচয়পত্র

ঢাকায় আট জোনে চলবে আলাদা রঙের ই-রিকশা

Reporter Name / ৬ Time View
Update : রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৬

প্রভাত রিপোর্ট: দেশের ১৩টি সিটি করপোরেশনে ব্যাটারিচালিত তিন চাকার ই-রিকশার নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু হচ্ছে সোমবার (২ নভেম্বর) থেকে । প্রথমে যানবাহন নিবন্ধন করা হবে। পরে পর্যায়ক্রমে চালকদের ড্রাইভিং লাইসেন্সের আওতায় আনা হবে। রবিবার (১ নভেম্বর) সচিবালয়ে সিটি করপোরেশন এলাকায় তিন চাকার স্বল্পগতির ব্যাটারিচালিত রিকশা (ই-রিকশা) চলাচল বিধিমালা নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
সংবাদ সম্মেলনে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘সিটি করপোরেশন আইন, ২০০৯’-এর ২০২৬ সালের সংশোধিত আইনের ১২০ ধারায় ই-রিকশা নিবন্ধনের বিধান রাখা হয়েছে। জাতীয় সংসদে আইন পাসের পর ওই আইনের আলোকে বিধিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে। আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং শেষে বিধিমালাটি সরকারি গেজেটে প্রকাশিত হয়েছে। এখন ই-রিকশা নিবন্ধনে আর কোনো আইনগত বাধা নেই। তিনি বলেন, দেশের ১৩টি সিটি করপোরেশন প্রথমে ই-রিকশার নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু করবে। পর্যায়ক্রমে সব ই-রিকশাকে আইনের আওতায় আনা হবে। গত ১৫ থেকে ৩০ বছর এসব যানবাহনের কোনো ব্যবস্থাপনা ছিল না। নতুন আইনের মাধ্যমে একটি ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এগুলো নিয়ন্ত্রণে আনতে কিছুটা সময় প্রয়োজন।
বিধিমালা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দুই যাত্রী ধারণক্ষমতার ই-রিকশার নিবন্ধন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে আট হাজার টাকা। এক বছর পর ফিটনেস যাচাই করে নবায়নের জন্য দিতে হবে চার হাজার টাকা। অন্যদিকে, চার যাত্রী ধারণক্ষমতার ই-রিকশার নিবন্ধন ফি ১০ হাজার টাকা। এক বছর পর ফিটনেস যাচাই করে নবায়নের জন্য ফি দিতে হবে ৫ হাজার টাকা। এভাবে সর্বোচ্চ ১২ বছর পর্যন্ত এসব ই-রিকশা চলাচল করতে পারবে।
ই-রিকশার ফিটনেস সার্টিফিকেট প্রদর্শনের জন্য কিউআর কোড সংবলিত সনদ দেবে সিটি করপোরেশন। এ জন্য এক হাজার টাকা ফি নেওয়া হবে। ই-রিকশা উৎপাদন নিয়ন্ত্রণ এবং প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান অনুমোদনের সুপারিশ করতে সাত সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে জানিয়ে মীর শাহে আলম বলেন, স্থানীয় সরকার বিভাগ, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট), সিটি করপোরেশন, পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ ও জেলা প্রশাসনের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে কমিটিটি গঠিত হয়েছে। তিনি বলেন, ই-রিকশা উৎপাদনের ক্ষেত্রে বুয়েট অনুমোদিত নকশা অনুসরণ করতে হবে। বর্তমানে যেসব ই-রিকশা চলছে, সেগুলোকেও ওই নকশা অনুযায়ী পরিবর্তন করতে হবে। উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো সিটি করপোরেশনের অনুমতি নিয়ে এ কাজ করবে।
বিধিমালায় ই-রিকশা চলাচলের ক্ষেত্রে বেশ কিছু অপরাধ নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে নিবন্ধন ছাড়া ই-রিকশা চালানো, অনুমোদিত গতিসীমার বেশি গতিতে চালানো, অতিরিক্ত যাত্রী বহন, অননুমোদিত ব্যাটারি ব্যবহার, মোটর বা কাঠামো পরিবর্তন, নিষিদ্ধ এলাকায় চলাচল এবং বিপজ্জনকভাবে গাড়ি চালানো।
এ ছাড়া যাত্রী ছাড়া মালামাল পরিবহন, ট্রাফিক সিগন্যাল অমান্য করা এবং দুর্ঘটনার পর পালিয়ে যাওয়াও অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। এসব অপরাধের জন্য আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া যাবে।
ই-রিকশাচালকদের ড্রাইভিং লাইসেন্স দেওয়ার বিধান থাকলেও আপাতত তা কার্যকর করা হচ্ছে না। প্রথমে যানবাহনের নিবন্ধন কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হবে। পরে আলাদা প্রজ্ঞাপন জারি করে চালকদের লাইসেন্সের আওতায় আনা হবে। আপাতত চালকদের পরিচয়পত্র থাকবে, যা মালিকপক্ষ দেবে।
এ বিষয়ে মীর শাহে আলম বলেন, ‘আমরা নিবন্ধনের প্রক্রিয়াটা আগে শুরু করি, নিবন্ধন প্রক্রিয়ার কিছুদূর এগিয়ে গেলে আমরা এটার জন্য আলাদা একটা প্রজ্ঞাপন জারি করে, তখন ড্রাইভিং লাইসেন্স।’ তিনি জানান, একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক চালক লাইসেন্সের জন্য আবেদন করলে সিটি করপোরেশনগুলোর পক্ষে তা সামাল দেওয়া কঠিন হবে। তাই পর্যায়ক্রমে এ কার্যক্রম শুরু করা হবে।
ঢাকা মহানগরকে আটটি জোনে ভাগ করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী। এর মধ্যে উত্তর সিটি করপোরেশনে চারটি এবং দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে চারটি জোন থাকবে। প্রতিটি জোনের ই-রিকশার রং হবে আলাদা। মোট আটটি রঙের ই-রিকশা চলাচল করবে, যাতে এক জোনের ই-রিকশা অন্য জোনে যেতে না পারে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, জোনভিত্তিক কতগুলো ই-রিকশা চললে যানজট তৈরি হবে না, তা ট্রাফিক বিভাগ ও সিটি করপোরেশন আলোচনা করে নির্ধারণ করবে। আপাতত ই-রিকশার সংখ্যার ওপর কোনো সীমা নির্ধারণ করা হয়নি। নিবন্ধনের পর কোন ই-রিকশা কোন জোনে চলবে, তা কিউআর কোডে উল্লেখ থাকবে। এতে নিবন্ধন নম্বর, মালিকের তথ্য এবং সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশন ও জোনের পরিচয় থাকবে বলেও জানান তিনি।
ঢাকার বর্তমান ই-রিকশাচালকদের আতঙ্কিত না হওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর পর্যায়ক্রমে অবৈধ ই-রিকশা চলাচল নিরুৎসাহিত করা হবে এবং সেগুলো অপসারণের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা সবাইকে অনুরোধ করবো আপাতত যে যেভাবে চলছে চলতে থাকবে, নিয়ম মেনে পর্যায়ক্রমে আমরা নিবন্ধন দিতে থাকবো এবং পর্যায়ক্রমে আমরা অবৈধ ব্যাটারি চালিত ই-রিকশাগুলো অপসারণের ব্যবস্থা করবো।’
‘রাতারাতি এটা নিয়ে নতুন করে আমরা এই বিধিমালা প্রকাশের সাথে সাথে আতঙ্ক তৈরি করে রাজনৈতিক ফায়দা যেন কেউ লুটতে না পারে এইজন্য আমি সবাইকে অনুরোধ করবো আপাতত যে যেভাবে চলছে চলতে থাকবে, নিয়ম মেনে পর্যায়ক্রমে আমরা নিবন্ধন দিতে থাকবো এবং পর্যায়ক্রমে আমরা অবৈধ ব্যাটারি চালিত ই-রিকশাগুলো অপসারণের ব্যবস্থা করবো।’
নিবন্ধন কার্যক্রম শুরুর এক মাস পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আবার বসে অগ্রগতি জানানো হবে বলেও জানান তিনি। ওই সময়ের মধ্যে কতগুলো ই-রিকশা নিবন্ধন পেয়েছে, কী কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং অবৈধ ই-রিকশা কবে অপসারণ করা হবে, তা জানানো হবে।
ই-রিকশার চার্জিং পয়েন্টগুলোও নিয়ন্ত্রণের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে জানিয়ে এ প্রতিমন্ত্রী বলেন, নির্দিষ্ট স্থানে চার্জিং পয়েন্ট স্থাপনের অনুমোদন দেওয়া হবে। যেসব প্রতিষ্ঠান সৌরবিদ্যুতের মাধ্যমে চার্জ দেওয়ার ব্যবস্থা করতে পারবে, তাদের সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে অনুমোদন বা ট্রেড লাইসেন্স দেওয়া হবে। তিনি জানান, অবৈধভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহার করে ই-রিকশা চার্জ দিলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সিটি করপোরেশনের ম্যাজিস্ট্রেটরা নিয়মিত এসব চার্জিং পয়েন্ট তদারকি করবেন। ই-রিকশার ভাড়া নির্ধারণ করা হবে কিলোমিটার হিসাবে। এ ক্ষেত্রে ই-রিকশার মালিকপক্ষ, ট্রাফিক বিভাগ ও সিটি করপোরেশন যৌথভাবে সিদ্ধান্ত নেবে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা চার্জিং ই-রিকশাগুলো নিবন্ধন দেওয়ার পরে মালিক পক্ষ, যারা ই-রিকশার মালিক, মালিক পক্ষ, ট্রাফিক বিভাগ এবং সিটি করপোরেশন তিনটি স্টক হোল্ডার যৌথভাবে বসে কিলোমিটার প্রতি কী ভাড়া হবে, তারা নির্ধারণ করে দেবে, অবশ্যই যৌক্তিক হবে এবং সাধারণ মানুষের সে সক্ষমতার মধ্যেই থাকবে ইনশাআল্লাহ।’
প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, নতুন বিধিমালা আপাতত দেশের ১৩টি সিটি করপোরেশনে কার্যকর হবে। পৌরসভা এলাকায় ই-রিকশা নিয়ন্ত্রণে নিতে পৌরসভার আইন সংশোধন করতে হবে। এরপর সেসব এলাকার জন্যও প্রয়োজনীয় বিধিমালা প্রণয়ন করা হবে।


আপনার মতামত লিখুন :
More News Of This Category