• শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:২৪ অপরাহ্ন
Headline
পরিমিত সাজসজ্জা এবং গোছানো পরিবেশই ঘরের সৌন্দর্য বাড়াতে বেশি ভূমিকা রাখে দক্ষিণ ভারতের পাহাড়ি নীলকুরিঞ্জি প্রায় ১২ বছর পর ব্যাপকভাবে ফুল ফোটে প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছে সুইজারল্যান্ড যেন স্বপ্নের মতো এক জায়গা শরীর সুস্থ রাখতে যেসব খাবারের দিকে নজর দেয়া জরুরি রবিউস সানি মাসের চাঁদ দেখা গেছে, ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম ২৩ সেপ্টেম্বর আদাবর হাক্কারপাড় খালে ভেসে আসে স্কুলব্যাগে নারীর খণ্ডিত মরদেহ মোহাম্মদপুরে কিশোর গ্যাং বলে কোনো শব্দ থাকবে না: ডিএমপি কমিশনার হেফাজতের সম্মেলনে তাবলিগের সাদ কান্ধলভীকে তওবা করতে বললেন আমির শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী শেখ হাসিনা ‘বিশ্বের সেরা অভিনেত্রী’ : স্পিকার ব্রিকসের যৌথ ঘোষণায় ‘সব ধরনের আগ্রাসনের’ নিন্দা

তিন মাসে ডেঙ্গু সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করি, অন্তত ৮০ শতাংশ আমরা পারব: প্রধানমন্ত্রী

Reporter Name / ১০ Time View
Update : শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

প্রভাত রিপোর্ট: দেশের উন্নয়ন ও রাষ্ট্র পুনর্গঠনে সবার সহযোগিতা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিশেষ করে দেশের তরুণদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘একটা দেশের তরুণসমাজ যদি দেশকে পরিবর্তন করতে চায়, তাহলে করা সম্ভব। আমাদের তরুণসমাজ যে পরিবর্তন করতে পারে, সেটি ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সারা বিশ্বকে দেখিয়ে দিয়েছে। পরিবর্তনের সূচনা সেখান থেকেই তরুণসমাজ করেছে।’
তরুণদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান আরও বলেন, ‘আসুন, এবার রাষ্ট্রকে, দেশকে আমরা পুনর্গঠন করি। আগামী তিন মাসে আমাদের ডেঙ্গুর সমস্যা আমরা সমাধান করার চেষ্টা করি। হয়তো আমরা শতভাগ পারব না, কিন্তু অন্তত ৮০ শতাংশ আমরা পারব।’ শনিবার সকালে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় তিন মাসব্যাপী সারা দেশে ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযানের উদ্বোধনকালে তিনি এ কথা বলেন।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার এবং সরকারি, বেসরকারি ও সামাজিক উদ্যোগকে সমন্বিত করার লক্ষ্যে এ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।
১২ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া এই কর্মসূচি আগামী ১২ ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশজুড়ে চলমান থাকবে। ঢাকাকেন্দ্রিক উদ্যোগের পাশাপাশি দেশের সব জেলা ও উপজেলা পর্যায়েও একযোগে এই সচেতনতামূলক ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের স্কাউটসের সংখ্যা প্রায় ২৩ লাখ, বিএনসিসির সদস্যসংখ্যা ২২ হাজার। এ ছাড়া প্রাথমিক স্কুল, মাদ্রাসা ছাড়াও সারা দেশে হাইস্কুল, মাদ্রাসা, কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় দেড় কোটি। আর প্রাথমিক স্কুল ও ইবতেদায়ি মাদ্রাসায় রয়েছে আড়াই কোটি শিক্ষার্থী। তিনি আরও বলেন, ‘আজ অনলাইনে প্রায় সবগুলো জেলা এখানে কানেক্টেড আছে। গার্লস গাইড, বিএনসিসি স্কাউটস, ভলান্টিয়ারসহ আপনাদের সবার কাছে আমি একটি সাহায্য চাই। সেটি হলো, এই দেশটাকে আমাদের গড়ে তুলতে হবে। আমরা সবাই আজকে এখানে একত্র হয়েছি। আমরা একটি লক্ষ্য নিয়ে একত্র হয়েছি। সেটি হলো, দেশ গড়ার লক্ষ্য।’
কীভাবে ডেঙ্গু জ্বর হয় সেটা সবাই জানে, বলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ভাঙারি, কাগজপত্র বিভিন্ন জায়গায় পড়ে থাকে। প্লাস্টিক ও মাটির বিভিন্ন জিনিস পড়ে থাকতে দেখা যায়। সেখানে পানি জমে এই ডেঙ্গু ভাইরাস বহনকারী এসিড মশা জন্মায়। সবাই চেষ্টা করলে এ অবস্থার পরিবর্তন ঘটানো সম্ভব বলে জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী উদাহরণ দিয়ে বলেন, ‘এই মাঠে আমরা যত মানুষ আজকে উপস্থিত আছি, প্রত্যেকে পানি খাই এবং প্রত্যেকে যদি একটা করে কিছু মাঠে ফেলে দিই, এখানে হয়তো কেউ কিছু বলবে না। কিন্তু এই ময়লাগুলা আস্তে আস্তে জমা হয়ে আবর্জনা হবে। সেখান থেকে রোগজীবাণু তৈরি হবে। আপনি বা আপনার প্রিয়জন অসুস্থ হয়ে যাবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘তাই আসুন, আমরা নিজেকে সুস্থ রাখি। নিজের পরিবারকে সুস্থ রাখি। নিজের সমাজকে সুস্থ রাখি। নিজের দেশকে আমরা সুস্থ রাখার চেষ্টা করি। এই কাজটা কিন্তু খুব কঠিন না।’
তারেক রহমান আরও বলেন, ‘আজকে হয়তো আপনাদের একটু কষ্ট হবে। কিন্তু প্রতি সপ্তাহে এক ঘণ্টা যদি আমরা নিজের বাসা, স্কুল, কলেজ বা প্রতিষ্ঠান পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার জন্য কাজ করি, তাহলে অবশ্যই দ্রুত এই পরিবর্তন আনতে আমরা সক্ষম হব।’
রাস্তাঘাট দিয়ে বহু মানুষ অসচেতনভাবে যেখানে–সেখানে আবর্জনা ফেলে। সেটা দেখলে তাদের সচেতন করতে হবে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। যারা ময়লা করবে, যারা আবর্জনা তৈরি করবে, তাদের নিরুৎসাহিত করতে হবে বলেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘তাই কথা একটাই। কাজ, কাজ, আর কাজ। এবং পরিচ্ছন্ন, পরিচ্ছন্ন আর পরিচ্ছন্নতাই হতে হবে আমাদের আগামী দিনের মূল লক্ষ্য।’
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ‘দেশব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান বাস্তবায়ন কমিটি’র আহ্বায়ক এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক আবদুস সালাম। আরও বক্তব্য দেন স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী আবদুল মঈন খান, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আন্দালিভ রহমান পার্থ, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিত, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
এ সময় বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীসহ প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, মুখ্য সচিব এ বি এম আবদুস সাত্তার, সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা ও পরিচ্ছন্নতাকর্মী, শিক্ষার্থী, বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্য এবং সাংবাদিকেরা উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া দেশের সব জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা অনলাইনে এ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যুক্ত ছিলেন।


আপনার মতামত লিখুন :
More News Of This Category