• শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:২২ অপরাহ্ন
Headline
পরিমিত সাজসজ্জা এবং গোছানো পরিবেশই ঘরের সৌন্দর্য বাড়াতে বেশি ভূমিকা রাখে দক্ষিণ ভারতের পাহাড়ি নীলকুরিঞ্জি প্রায় ১২ বছর পর ব্যাপকভাবে ফুল ফোটে প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছে সুইজারল্যান্ড যেন স্বপ্নের মতো এক জায়গা শরীর সুস্থ রাখতে যেসব খাবারের দিকে নজর দেয়া জরুরি রবিউস সানি মাসের চাঁদ দেখা গেছে, ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম ২৩ সেপ্টেম্বর আদাবর হাক্কারপাড় খালে ভেসে আসে স্কুলব্যাগে নারীর খণ্ডিত মরদেহ মোহাম্মদপুরে কিশোর গ্যাং বলে কোনো শব্দ থাকবে না: ডিএমপি কমিশনার হেফাজতের সম্মেলনে তাবলিগের সাদ কান্ধলভীকে তওবা করতে বললেন আমির শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী শেখ হাসিনা ‘বিশ্বের সেরা অভিনেত্রী’ : স্পিকার ব্রিকসের যৌথ ঘোষণায় ‘সব ধরনের আগ্রাসনের’ নিন্দা

হেফাজতের সম্মেলনে তাবলিগের সাদ কান্ধলভীকে তওবা করতে বললেন আমির শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী

Reporter Name / ৪ Time View
Update : শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
ছবি সংগৃহীত

প্রভাত রিপোর্ট: পবিত্র কোরআনের ভুল ব্যাখ্যা এবং নবী ও সাহাবিদের সম্পর্কে আপত্তিকর মন্তব্য করার অভিযোগ তুলে ভারতের মাওলানা সাদ কান্ধলভীকে তওবা করার অনুরোধ জানিয়েছেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের । তাঁর অভিযোগ—ইসলাম, নবুয়ত ও শরিয়তের বিভিন্ন মাসআলা নিয়ে সাদ কান্ধলভী বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দিয়েছেন। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশে (আইডিইবি) আয়োজিত এক সম্মেলনে হেফাজতের আমির এ কথা বলেন। সাদ কান্ধলভী তাবলিগ জামাতের প্রতিষ্ঠাতা মাওলানা মুহাম্মদ ইলিয়াস কান্ধলভীর প্রপৌত্র। দিল্লির নিজামুদ্দিন মারকাজকেন্দ্রিক তাবলিগের একাংশ তাঁকে নিজেদের আমির মানেন।
হেফাজতের আমির বলেন, দারুল উলুম দেওবন্দের মুরব্বিরাসহ আলেমরা দায়িত্ব নিয়ে তাঁকে (সাদ কান্ধলভী) সংশোধনের চেষ্টা করেছেন। তবে তিনি আলেমদের পরামর্শ গ্রহণ করে নিজের বক্তব্য সংশোধন করতে রাজি হননি।
২০১৮ সালের ১ ডিসেম্বর ও ২০২৪ সালের ১৮ ডিসেম্বর টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা ময়দানে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচারের দাবিতে ‘ওলামা মাশায়েখ বাংলাদেশ’ ব্যানারে এই সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। আয়োজকদের অভিযোগ, সাদ কান্ধলভীর অনুসারীরা পরিকল্পিতভাবে এসব হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন। সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন হেফাজতের আমির মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী। তাঁর লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনান সংগঠনের যুগ্ম মহাসচিব আজিজুল হক ইসলামাবাদী।
সরকারের উদ্দেশে হেফাজতে ইসলামের আমির বলেন, সাদ কান্ধলভী যত দিন খালিস তওবা করে, শুরায়ি নেজাম মেনে দেওবন্দের মুরব্বিদের কাছে রুজু না করবেন, তত দিন তাকে বাংলাদেশে আসতে দেওয়া যাবে না। টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা আলেমদের তত্ত্বাবধানে শুরায়ি নেজাম দ্বারা পরিচালিত হবে। কাকরাইল মারকাজের কার্যক্রম ওলামায়ে কেরামের তত্ত্বাবধানে চলবে। সাদ কান্ধলভীর অনুসারীদের টঙ্গী বিশ্ব ইজতেমা মাঠ ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া যাবে না। তিনি বলেন, মাওলানা সাদকে বাংলাদেশে এনে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে বিচার করতে হবে।
হেফাজতের আমিরের অভিযোগ, সাদ কান্ধলভীর অনুসারীরা ২০১৮ ও ২০২৪ সালে টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা মাঠে তাবলিগের সাথি এবং মাদ্রাসার ছাত্র–শিক্ষকদের ওপর পরিকল্পিতভাবে হামলা চালিয়ে হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন। এসব ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে শাস্তির ব্যবস্থা করার দাবি জানান তিনি।
হেফাজতের আমির বলেন, তাবলিগের শুরায়ি নেজামের সাথি ও মাদ্রাসাছাত্রদের ওপর হামলাকারীদের অনেকে ‘ফ্যাসিবাদী সরকারের দোসর’। তাঁরা ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের মধ্যে সংঘাত ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে এবং বিদেশি গোষ্ঠীর উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে ষড়যন্ত্র করছেন।
সম্মেলনে ঘোষণাপত্র পাঠ করেন রাজধানীর উত্তরার জামিয়াতুন নূর আল কাসিমিয়ার অধ্যক্ষ নাজমুল হাসান কাসেমী। এতে সরকারের কাছে সাতটি দাবি জানানো হয়। দাবিগুলো হলো টঙ্গীর ইজতেমা ময়দানে ২০১৮ ও ২০২৪ সালের হত্যাকাণ্ডের বিচার দ্রুত শেষ করা; হত্যাকাণ্ডসহ অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের শাস্তির আওতায় আনা এবং সাদপন্থীদের ‘সন্ত্রাসী গোষ্ঠী’ হিসেবে ঘোষণা দেওয়া; টঙ্গীর ইজতেমা মাঠে সাদপন্থীদের বিশ্ব ইজতেমা বা তাবলিগের কোনো কার্যক্রমে অংশ নিতে না দেওয়ার সিদ্ধান্ত বহাল রাখা।
অন্য দাবিগুলো হলো সাদপন্থীদের কোনো ‘অযৌক্তিক দাবি’ না মানা; টঙ্গীর ইজতেমা মাঠে তাঁদের প্রবেশ স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ করা; আলেমদের বিষয়ে বিদেশিদের কাছে নেতিবাচক বার্তা পাঠানোর অভিযোগে ওয়াসিফুল ইসলাম, রেজা আরিফ, ওয়াসিফুল ইসলামের ছেলে ওসামা ও সায়েমসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া এবং আলেমদের মাধ্যমে দাওয়াত ও তাবলিগের সব সমস্যা চিহ্নিত করে সমাধানের পথ বের করা।
সম্মেলনে আরও বক্তব্য দেন হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব মাওলানা সাজিদুর রহমান, বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশের (বেফাক) মহাসচিব মাওলানা মাহফুজুল হক, মাওলানা আবদুল হামিদ (মধুপুর পীর), হেফাজতে ইসলামের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব জুনায়েদ আল হাবিব, নায়েবে আমির মাওলানা সালাহউদ্দিন নানুপুরী, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক, আন্তর্জাতিক মজলিসে তাহাফফুযে খতমে নবুওয়াত বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা মহিউদ্দিন রব্বানী, মাদানীনগর মাদ্রাসার মুহাদ্দিস মুফতি বশির উল্লাহ, দারুল উলুম হাটহাজারী মাদ্রাসার মুফতি জসিম উদ্দিন, ইসলামী ঐক্যজোটের মহাসচিব মুফতি সাখাওয়াত হোসেন রাজি প্রমুখ।


আপনার মতামত লিখুন :
More News Of This Category