প্রভাত রিপোর্ট: দাবদাহে পুড়ছে দেশ। তীব্র গরমে জনজীবনে হাঁসফাঁস অবস্থা। চলমান এই তাপপ্রবাহ আরও তিনদিন অর্থাৎ আগামী রোববার পর্যন্ত থাকতে পারে। এসময়ে তীব্র গরমও অব্যাহত থাকতে পারে। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, আগামী রবিবার থেকে বৃষ্টি শুরু হয়ে তা ক্রমে বাড়তে পারে। তবে আগামী তিনদিনে দেশের কোথাও বৃষ্টি হলে সেখানে তাপমাত্রা কমে গরমও কিছুটা কমতে পারে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের নিয়মিত পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, চাঁদপুর, নোয়াখালী ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলাসহ রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা অব্যাহত থাকতে পারে। বৃহস্পতিবার দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে এবং অন্যত্র তা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। সারাদেশে রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। জলীয় বাষ্পের আধিক্যের কারণে অস্বস্তিকর অবস্থা বিরাজ করতে পারে।
দেশে বুধবার ৪৮ জেলায় তাপপ্রবাহ বয়ে গেছে। চলতি বছর এত জেলায় এক দিনে এমন তাপপ্রবাহ বয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেনি। সাধারণত মে মাসের শেষ দিনেই দেশে মৌসুমি বায়ুর প্রবেশ ঘটে, কিন্তু এবার এর দেখা নেই। আবহাওয়া অধিদপ্তর আগেই জানিয়েছিল, চলতি মাসে গরম অপেক্ষাকৃত বেশি থাকবে। এখন গরমে পুড়ছে দেশ। অধিদপ্তরের তথ্য, যে তাপপ্রবাহ শুরু হয়েছে, তা আগামীকালও থাকতে পারে। তবে আগামী শনিবার থেকে তাপমাত্রা কমতে থাকবে। বৃহস্পতিবারও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টি হচ্ছে। রাজধানীতেও সামান্য সম্ভাবনা আছে। তবে তাতে গরম একেবারে কমার সম্ভাবনা কম।
বুধবার দেশের পাঁচ বিভাগে তাপপ্রবাহ বয়ে যায়। সেগুলো হলো ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, রাজশাহী ও রংপুর। এসব বিভাগে জেলার সংখ্যা ৪৫। এ ছাড়া গতকাল চাঁদপুর, নোয়াখালী ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায়ও তাপপ্রবাহ বয়ে যায়। সব মিলিয়ে জেলার সংখ্যা ছিল ৪৮।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক বলেন, চলতি বছরে এখানে এত এলাকায় তাপপ্রবাহের রেকর্ড নেই। এ মাসে তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকতে পারে। তবে তাপপ্রবাহের পরিধি আজ শুক্রবার থেকে কমে আসতে পারে।
দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় দিনাজপুরে, ৩৮ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। রাজধানীতে তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৩৬ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। চলতি মাসে এত তাপমাত্রা হয়নি রাজধানীতে।
দেশে সবচেয়ে বেশি গরম পড়ে এপ্রিল মাসে, দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মে মাসে। কিন্তু চলতি বছর এই দুই মাসে তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে কম ছিল। এপ্রিল মাসে স্বাভাবিকের চেয়ে ৭৫ ভাগের বেশি বৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু জুন মাসে যখন মৌসুমি বায়ু চলে আসার সময়, তখন এর দেখা নেই।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মো. বজলুর রশীদ বলেন, এখন যে পরিস্থিতি দেখা যাচ্ছে, তাতে মৌসুমি বায়ু প্রবেশে আরও দুই থেকে তিন দিন সময় লাগতে পারে। এবার বেশ দেরি হচ্ছে এ বায়ু প্রবেশে। বায়ু প্রবেশের আরও তিন থেকে চার দিন পর দেশজুড়ে বৃষ্টি বাড়তে পারে। তবে আগামীকাল থেকে তাপপ্রবাহের পরিধি কমে আসতে পারে বলে জানান মো. বজলুর রশীদ। তিনি বলেন, তাপপ্রবাহ কমে গেলেও গরমের অনুভূতি কমবে না। আজ বৃষ্টি হতে পারে ঢাকা, ময়মনসিংহ, সিলেট বিভাগের কিছু জায়গায়। রাজধানীতেও বৃষ্টির কিছুটা সম্ভাবনা আছে। গত বছর ২৫ মে দেশে মৌসুমি বায়ুর প্রবেশ ঘটে। সাধারণত ৩১ মে এ বায়ু প্রবেশ করে। তাতে প্রথম দিকে বৃষ্টিও হয়। কিন্তু এবার দেরিতে এ বায়ুর প্রবেশের অর্থ হলো, বৃষ্টি হতে দেরি হবে এমনটাই বলেন বজলুর রশীদ।