• শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৫২ অপরাহ্ন
Headline
ম্যারাডোনার মৃত্যু : ২২ ডিসেম্বর মামলার রায় চূড়ান্ত ফিফা সভাপতি পদে জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর পুনর্নির্বাচনের পক্ষে সমর্থন এএফসি’র উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় হার দেখলো ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড সরাইল থানায় এমপি রুমিন ফারহানা বললেন, ওসির কাছে নিরাপত্তা চেয়েও পাননি তিনি ৩৫ বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠালো ইউরোপ সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে এবার আপত্তির মুখে বন্ধ হলো বাউল গানের আসর সৌদির কারাগারে প্রায় সাড়ে ৭ হাজার বাংলাদেশি: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এনসিপির ১৯৫ সদস্যের নতুন কমিটি, বদলে গেলো পদ-পদবি বাজারে কোনও পণ্যের দাম তো কমেইনি, উল্টো দুই-একটির দাম বাড়তি সৌদিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত সাহেদের মরদেহ বাড়িতে পৌঁছেছে

নিম্ন আয়ের দেশগুলোর ঋণ মূল্যায়নে নতুন কাঠামো আনছে বিশ্বব্যাংক-আইএমএফ

Reporter Name / ৮১ Time View
Update : মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

প্রভাত রিপোর্ট: নিম্ন আয়ের দেশগুলোর ঋণ পরিস্থিতি মূল্যায়নে নতুন কাঠামো নিয়ে আসছে বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। সংস্থা দুটির নির্বাহী পর্ষদে এই সংস্কার প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি হলো বৈশ্বিক অর্থনীতি এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। অনেক দেশের ঋণও বেড়েছে। বদলে গেছে ঋণের উৎস। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়েই কাঠামোতে পরিবর্তন আনা হচ্ছে।
২০১৭ সালের পর এই প্রথম যৌথভাবে ঋণ মূল্যায়ন কাঠামো পর্যালোচনা করেছে বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফ। পর্যালোচনায় কয়েকটি পরিবর্তনের সুপারিশ করা হয়েছে। এর মধ্যে আছে দরিদ্র দেশগুলোর অভ্যন্তরীণ ঋণের বিশ্লেষণে আরও কঠোর হওয়া। জলবায়ু পরিবর্তনের মতো দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন চ্যালেঞ্জও বেশি গুরুত্ব পাবে। তবে পুরো কাঠামো নতুন করে সাজানোর প্রয়োজন দেখছে না সংস্থা দুটি।
নতুন কাঠামোতে কোনো দেশের ঋণের জের টানার সক্ষমতা আরও যথাযথভাবে পরিমাপ করা হবে। ঋণসংকটের ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলো আলাদাভাবে চিহ্নিত করা হবে, অর্থাৎ কাদের ঝুঁকি বেশি আর কাদের ঝুঁকি কম। যেসব দেশের ঋণ টেকসই নয় বলে ধরা হয়, তাদের আলাদা করা হবে। ঋণের পূর্বাভাস কতটা নির্ভুল, তা যাচাইয়ের ব্যবস্থা জোরদার করা হবে। সে জন্য বিভিন্ন ‘স্ট্রেস টেস্ট’ বা চাপ সহ্য করার পরীক্ষা চালু করা হবে। দেশগুলোকে ঋণের তথ্য প্রকাশে আরও স্বচ্ছ হতে হবে। তবে ঋণ মূল্যায়নে ব্যবহৃত ডিসকাউন্ট রেট ৫ শতাংশই থাকছে।
আইএমএফের আফ্রিকা বিভাগের উপপরিচালক অ্যালিসন হল্যান্ড বলেন, এই সংস্কারের লক্ষ্য হলো ঋণের ঝুঁকি আগেভাগে শনাক্ত করা। এতে অর্থায়ন ও নীতিনির্ধারণের ক্ষেত্রে দেশগুলো আরও ভালো সিদ্ধান্ত নিতে পারবে।
হল্যান্ডের মতে, ২০২১ সালের পর ঋণ পরিস্থিতির যে উন্নতি হয়েছিল, সাম্প্রতিক বিভিন্ন ধাক্কায় তা অনেকটাই বিনষ্ট হয়েছে। তিনি আরও বলেন, নিম্ন আয়ের দেশগুলোর মধ্যে প্রায় ১৪ শতাংশ দেশ এখন ঋণসংকটে আছে। আরও ৩৩ শতাংশ উচ্চ ঋণঝুঁকিতে আছে। উদীয়মান বাজারের প্রায় ২৩ শতাংশ সরকারি ঋণের উচ্চ ঝুঁকিতে আছে।
ঋণ পরিস্থিতি মূল্যায়নের নতুন কাঠামো ২০২৭ সালের দ্বিতীয়ার্ধে কার্যকর হবে। এর মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি ঋণঝুঁকি আরও ভালোভাবে পরিমাপ করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে উন্নয়ন ও জলবায়ু অভিযোজনের জন্য কতটা বিনিয়োগ করা সম্ভব, তা–ও নির্ধারণ করা যাবে।
বর্তমানে যে কাঠামোতে ঋণ মূল্যায়ন করা হচ্ছে, তা ২০০৫ সালে চালু করা হয়। জুলাইয়ে শেষ হওয়া পর্যালোচনায় দেখা গেছে, এই কাঠামো দিয়ে আগেভাগে কার্যকরভাবে ঋণসংকট শনাক্ত করা সম্ভব ছিল। তবে এর কিছু সীমাবদ্ধতাও ধরা পড়েছে। যেমন অনেক নিম্ন আয়ের দেশে ঋণ বেড়েছে; একই সঙ্গে ঋণের উৎসেও পরিবর্তন এসেছে। এখন এসব দেশ অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক উৎস থেকে বেশি ঋণ নিচ্ছে। ঋণের একটি অংশ বাণিজ্যিক শর্তে নেওয়া হচ্ছে।
আইএমএফ বলেছে, স্বল্প ও মধ্যমেয়াদি অর্থনৈতিক পূর্বাভাস সাধারণত নির্ভরযোগ্য হয়ে থাকে। তবে দীর্ঘমেয়াদে রপ্তানি ও রাজস্বের পূর্বাভাসে আশাবাদ কিছুটা বেশি দেখা গেছে। রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোর ঋণ ও আর্থিক তথ্যেও ঘাটতি আছে। নতুন কাঠামোয় দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকি বিশ্লেষণের আলাদা মডিউল থাকবে। আরও পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে ঝুঁকি পরিমাপ করা হবে। তবে নতুন পদ্ধতিতে কোনো দেশের ঋণ কীভাবে টেকসই নয় বলে বিবেচনা করা হবে, সেই মডেল এখনই প্রকাশ করা হচ্ছে না। নতুন পদ্ধতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে সময় দিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :
More News Of This Category