• বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬, ০৪:৫১ পূর্বাহ্ন
Headline
নাজিরপুরের রাজলক্ষী মহাবিদ্যালয় বৃক্ষরোপণ ও মাদকবিরোধী সমাবেশ অনুষ্ঠিত শরণখোলায় পিএফজির উদ্যোগে সম্প্রীতির বৃক্ষরোপণ তীব্র জ্বালানি সংকট: অর্থনীতির চাপ এসে পড়েছে শেয়ারবাজারে অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের ৬০ শতাংশের উৎপাদন বন্ধ সংসদ অধিবেশন ঘিরে শেরেবাংলা নগর এলাকায় সভা-সমাবেশ ও অস্ত্র বহন নিষিদ্ধ বদলে গেলো আমদানি নীতির কাঠামো খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলার মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ শ্রমিক লীগ নেতা কাশেম রিমান্ডে বাদামতলীর অবৈধ পার্কিং উচ্ছেদে ডিএসসিসি প্রশাসকের নির্দেশ ভারতীয় আগ্রাসনের বিষয়ে আরও বেশি সজাগ থাকব : পানিসম্পদ মন্ত্রী ৬ দফা দাবিতে ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চ করবে ১১ দলীয় ঐক্য

পাথরঘাটায় ১৭০ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ, দুটি পর্যটন কেন্দ্র ধ্বংসের দ্বারপ্রান্ত

Reporter Name / ৮৬ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০২৬

মো. মাহবুবুর রহমান, পাথরঘাটা : বরগুনার পাথরঘাটায় প্রায় ১৭০ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। ঘূর্ণিঝড় সিডরের ১৯ বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো নির্মাণ করা হয়নি টেকসই বেড়িবাঁধ। ফলে নদীভাঙন, জলোচ্ছ্বাস ও ঘনঘন প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকিতে রয়েছেন পাথরঘাটা ও পার্শ্ববর্তী উপজেলার প্রায় ৫ লাখ মানুষ।
উপকূলবাসীর অভিযোগ, নদীভাঙন ও জলোচ্ছ্বাস থেকে স্থায়ী সুরক্ষার জন্য দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানিয়ে আসলেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণের দাবিতে ভাঙনকবলিত এলাকায় মিছিল, সভা-সমাবেশ ও মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হলেও এখনো স্থায়ী সমাধান হয়নি। প্রতিবছর বর্ষা মৌসুম এলেই পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) অস্থায়ীভাবে জোড়াতালি দিয়ে বেড়িবাঁধ রক্ষার কাজ করছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
ঝুঁকিপূর্ণ বেড়িবাঁধের মধ্যে রয়েছে পোল্ডার নং-৪০/১-এর বাদুরতলা ও জিনতলা এলাকায় ২৩ কিলোমিটার, পোল্ডার নং-৪০/২-এর পাথরঘাটা সদর ইউনিয়ন ও চরদুয়ানী ইউনিয়নে ৩৫ কিলোমিটার এবং পোল্ডার নং-৩৯/১-এর কালমেঘা, কাঁঠালতলী, নাচনাপাড়া, রায়হানপুর ও কাকচিড়ি ইউনিয়নে ৫৭ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ।
এ ছাড়া পোল্ডার নং-৩৯/১ডি ও ৩৯/২এ-এর আওতাধীন পাথরঘাটা উপজেলার বিভিন্ন অংশ এবং বামনা উপজেলার রামনা, দৌয়াতলা, বামনা ও বুকাবুনিয়া এলাকায়ও বেড়িবাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।
সরেজমিনে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিভিন্ন সময় অস্থায়ীভাবে বালুর বস্তা ফেলে বেড়িবাঁধ মেরামতের চেষ্টা করা হলেও তা দীর্ঘমেয়াদি সমাধান আনতে পারেনি। এতে বিপুল পরিমাণ সরকারি অর্থ ব্যয় হলেও পরিস্থিতির তেমন উন্নতি হয়নি। সামান্য জোয়ার কিংবা দুর্যোগ এলেই কোথাও কোথাও বেড়িবাঁধ ভেঙে পানি ঢুকে পড়ে ফসলের মাঠ, বসতভিটা ও জনপদ তলিয়ে যায়। ক্ষতিগ্রস্ত হয় কৃষি ও মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা।
পাথরঘাটা উপজেলায় হরিণঘাটা ও রুহিতার চর দুইটি পর্যটনকেন্দ্র থাকলেও তা এখন খুবই ঝুঁকির মধ্যে। ইতোমধ্যে দুইটি পর্যটন এলাকার আংশিক ভেঙে গেছে। দ্রুত এটার রক্ষণাবেক্ষণ না করা হলে অচিরেই নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যাবে।
ভুক্তভোগীরা জানান, সিডরের পর থেকে অব্যাহত নদীভাঙনে ইতোমধ্যে কয়েক হাজার মানুষ ঘরবাড়ি ও জমি হারিয়ে ভূমিহীন হয়ে পড়েছেন। অনেক পরিবার এখনো ভাঙা বেড়িবাঁধের ওপর পলিথিন টাঙিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে। নিরাপদ আশ্রয় ও জীবিকার অনিশ্চয়তায় তাদের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) বরগুনার নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল হান্নান প্রধান বলেন, গত কয়েকদিন ধরে আবহাওয়া দুর্যোগপূর্ণ থাকায় নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। পাশাপাশি নদীতে অস্বাভাবিক ঢেউয়ের কারণে কোথাও কোথাও বেড়িবাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। কোথাও ক্ষতি হলে দ্রুত মেরামতের জন্য সকল ব্যবস্থা প্রস্তুত রাখা হয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :
More News Of This Category