• বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৪১ অপরাহ্ন
Headline
বাগেরহাটে এক মামলার ১৩ আসামি গ্রেফতার না হওয়ায় বাদীর ক্ষোভ বাগেরহাটে বসতবাড়ির তালা ভেঙে মূল্যবান মালামাল ও দলিলপত্র লুটের অভিযোগ রিকন্ডিশন্ড বৈদ্যুতিক গাড়ি আমদানির সুযোগ চায় বারভিডা জনতা ব্যাংকের ইউএই কার্যক্রম টিকিয়ে রাখতে এক হাজার কোটি টাকা দিল সরকার মাত্র দুইটি ট্রাকে পাওয়া গেল সিগারেট তৈরির কারখানার সব মেশিন ও তামাক জুনিয়র এশিয়া কাপ হকিতে হংকংকে উড়িয়ে শেষ আটে বাংলাদেশের মেয়েরা স্পেনে আরও একটি ক্লাব কিনছেন মেসি পোর্তোর বিপক্ষে ২-০ গোলের জয়ে নায়ক আর্লিং হলান্ড কিলিয়ানের নৈপুণ্যের রাতে লাল কার্ড দেখলেন ইথান এমবাপে নারী এশিয়া কাপে সেমিফাইনালে কার বিপক্ষে খেলবে কোন দল

ব্রাইট স্কুল চেয়ারম্যান ‘গালি দেয়ায়’ ছাত্রীর গলায় ফাঁস, বিচার দাবিতে বিক্ষোভ

Reporter Name / ১৭৮ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২৬

প্রভাত রিপোর্ট: রাজধানীর দনিয়ায় ব্রাইট স্কুল অ্যান্ড কলেজের সাবিকুন নাহার নামের দশম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছে। ঘটনার দিন স্কুলের চেয়ারম্যান মাসুদ হাসান লিটন ওই ছাত্রীকে পরীক্ষার কক্ষ থেকে ডেকে নিয়ে গালিগালাজ করেন এবং তার মাকে স্কুলে ডেকে পাঠান বলে অভিযোগ উঠেছে। এর জেরে ওই ছাত্রী আত্মহত্যা করেছে দাবি করে স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান লিটনের বিচার দাবিতে ক্লাস বর্জন করে বিক্ষোভ করছেন শিক্ষার্থীরা। বৃহস্পতিবার (২১ মে) বেলা ১১টার দিকে শিক্ষার্থীরা স্কুলের প্রবেশপথে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। এসময় তাদের ‘সাবিকুন নাহার মরলো কেন, লিটন তুই জবাব দে’; ‘লিটনের বিচার চাই’সহ নানান স্লোগান দিতে দেখা যায়। দুপুর সাড়ে ১২টায় এ প্রতিবেদন লেখার সময়ও সেখানে বিক্ষোভ চলছিল।
শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, বুধবার (২০ মে) স্কুলের পরীক্ষার কক্ষ থেকে দশম শ্রেণির ছাত্রী সাবিকুন নাহারকে ডেকে নেন স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান মাসুদ হাসান লিটন। এসময় তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন তিনি। পরে সেখান থেকে বেরিয়ে ক্লাসে না ফিরে বাসায় চলে যায় সাবিকুন নাহার। এরপর ওই ভুক্তভোগী ছাত্রীর মাকে মোবাইল ফোনে কল করে স্কুলে যেতে বলা হয়। এ ঘটনায় তার মা বিরক্ত হয়ে মেয়েকে বকাঝকা করেন। পরে বিকেলে দনিয়ার নিজ বাসায় গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে সাবিকুন নাহার।
সাবিকুন নাহারের সহপাঠী এক ছাত্রী বলে, তার বান্ধবী পরীক্ষায় নকলও করেনি, কাউকে দেখেও লিখছিল না। অকারণে তাকে চেয়ারম্যান মাসুদ হাসান লিটন ডেকে নিয়ে গালিগালাজ করে। একটা মেয়েকে এভাবে বললে লজ্জায় তার আর বেঁচে থাকতে ইচ্ছে হবে না। আমরা মনে করি, স্কুলের চেয়ারম্যান লিটনের অত্যাচারে আমাদের বান্ধবী সাবিকুন নাহার এ পথ বেছে নিয়েছে। তাই এটি আত্মহত্যা নয়, মার্ডার। আমরা লিটনের বিচার চাই।
বিক্ষোভে অংশ নেয়া আরেক ছাত্র বলে, চেয়ারম্যান লিটন মেয়েদের টিজ (উত্ত্যক্ত) করেন। তার কথামতো না চললে কারণে অকারণে ডেকে নিয়ে বকাঝকা ও গালিগালাজ করেন। টিসি দিয়ে দেয়ার ভয় দেখান। আমরা লিটনের এ অত্যাচার আর মানবো না। তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।
বিষয়টি জানতে চাইলে ব্রাইট স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ মঈদুর রহমান বলেন, ‘সহপাঠী আত্মহত্যা করায় শিক্ষার্থীরা ক্ষুব্ধ ছিল। আমরা তাদের সঙ্গে কথা বলে বোঝানোর চেষ্টা করছি।’ ছাত্রীকে গালিগালাজ করা এবং তার মাকে ডেকে পাঠানোর অভিযোগ বিষয়ে জানতে চাইলে অধ্যক্ষ ফোনকল কেটে দেন। অভিযোগ বিষয়ে জানতে স্কুলের চেয়ারম্যান মাসুদ হাসান লিটনকে কয়েক দফা ফোনকল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। পরে তার মুঠোফোনে এসএসএম পাঠানো হলেও তিনি কোনো সাড়া দেননি।
আত্মহত্যা করা সাবিকুন নাহারের বাবার নাম খলিলুর রহমান। তাদের গ্রামের বাড়ি নরসিংদী জেলায়। পরিবারের সঙ্গে দনিয়ার নাসির উদ্দীন সড়কের একটি ভাড়া বাসায় থাকতো সাবিকুন নাহার।
কদমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান বলেন, গতকাল ওই শিক্ষার্থী নিজ বাড়িতে আত্মহত্যা করে। প্রাথমিকভাবে আমরা জেনেছিলাম, মায়ের ওপর অভিমান করে সে গলায় ফাঁস নিয়েছে। সেজন্য পরিবারের অনুরোধে ময়নাতদন্ত করা হয়নি। শুধু মরদেহের সুরতহাল করা হয়। আজ শিক্ষার্থীরা এ নিয়ে বিক্ষোভ করছে বলে জেনেছি। পরিবার ও সহপাঠীরা কেউ অভিযোগ দিলে তদন্ত করে দেখা হবে।


আপনার মতামত লিখুন :
More News Of This Category