• বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬, ০৪:২৮ অপরাহ্ন
Headline
কুমিল্লায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ ঈশ্বরদীতে জমজমাট লিচুর বাজার, খুশি চাষিরা চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর সীমান্তে ২৮ জনকে পুশইন করলো বিএসএফ পঞ্চগড়ে সীমান্তে পুশইন ঠেকাতে বিজিবির রাতভর অভিযান জামালপুরে তাপপ্রবাহের পর বৃষ্টি, জনজীবনে স্বস্তি সুন্দরবনে অস্ত্রসহ বনদস্যু বাহিনীর সদস্য গ্রেফতার জাহাজ নির্মাণ শিল্পে স্বনির্ভরতা আনতে সরকারের পূর্ণ সহযোগিতা রয়েছে :নৌবাহিনী প্রধান বরগুনার ডাকবাংলোয় মা ও দুই মেয়ের মরদেহ উদ্ধার, শোকে স্তব্ধ এলাকা এখনও পুনর্বাসনে মেসি, অনুশীলনও চালিয়ে যাচ্ছেন একাকী প্রস্তুতি ম্যাচে আলজেরিয়ার কাছে হেরে গেলো বিশ্বকাপ ফেভারিট নেদারল্যান্ডস

ভিন্নধর্মী কাজের সাফল্যে নিজেই বিস্মিত সাদিয়া আয়মান

Reporter Name / ৬ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬

প্রভাত বিনোদন: সম্প্রতি মুক্তি পেয়েছে মাইক্রো-ড্রামা সিরিজ সিলভার সাদিয়া। স্বল্পদৈর্ঘ্যের ভিন্নধর্মী এই সিরিজে একজন মাদ্রাসাপড়ুয়া মেয়ের গোপন গেমারজীবনের গল্প উঠে এসেছে। কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন সাদিয়া আয়মান। রিলস আর শর্টসের এই যুগে দীর্ঘ সময় ধরে কিছু দেখার ধৈর্য মানুষের কমে আসছে। এই বৈশ্বিক পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশেও নির্মিত হচ্ছে মাইক্রো-ড্রামা। সম্প্রতি মুক্তি পাওয়া তেমনই একটি সিরিজ সিলভার সাদিয়া প্রশংসাও কুড়িয়েছে। এই ভিন্নধর্মী কাজের সাফল্য সাদিয়া আয়মান নিজেই বিস্মিত, ‘সত্যি কথা বলতে, এতটা আশা করিনি। এটা তো কোনো নায়ক-নায়িকা বেজ প্রেমের গল্প নয়। গতানুগতিক ধারার বাইরের গল্পটিই দর্শকেরা লুফে নিয়েছেন। ইউটিউব, ফেসবুকে সবার একটাই মন্তব্য, এটা এখানে শেষ হলো কেন? শেষটা এ রকম কেন? পরের সিজন কবে আসবে?’
পর্দার সাদিয়া মাদ্রাসাপড়ুয়া অত্যন্ত শান্ত স্বভাবের একজন মেয়ে, কিন্তু তার একটি গোপন জগৎ আছে, সেখানে সে একজন দক্ষ গেমার। এই দ্বৈত সত্তা ফুটিয়ে তোলাই ছিল সাদিয়া আয়মানের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। মজার বিষয় হলো, সাদিয়া আয়মান ব্যক্তিগত জীবনে কখনো গেম খেলেননি। তিনি বলেন, ‘গেমিংয়ের ওই ল্যাঙ্গুয়েজটাই তো আমি জানি না। জীবনে কখনো গেম খেলি না, ইভেন মোবাইলেও না।’
কিন্তু চরিত্রের প্রয়োজনে তাঁকে দীর্ঘ প্রস্তুতির মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। কি–বোর্ড ল্যাঙ্গুয়েজ শেখা থেকে শুরু করে নিয়মিত গেম স্ট্রিমিং ভিডিও দেখা—সবই করেছেন। পরিচালক মিরাজ হোসেনের নির্দেশনা তাঁকে চরিত্রটি ধারণ করতে সাহায্য করেছে বলে মনে করেন এই অভিনেত্রী। সাদিয়া বলেন, ‘টিমের সবার সহযোগিতা খুব হেল্প করেছে। মিরাজ ভাই এত ভালোভাবে ছোট ছোট বিষয় ইনপুট দিয়েছেন, আমার জন্য অনেকটাই সহজ হয়ে গেছে।’
সাদিয়া আয়মান মনে করেন, ‘সাদিয়া’ চরিত্রটি কেবল একজন গেমারের নয়; বরং এটি সমাজের অনেক প্রতিভাবান মানুষের প্রতিচ্ছবি, উপযুক্ত প্ল্যাটফর্মের অভাবে যাঁরা নিজের প্রতিভা প্রকাশ করতে পারেন না। অভিনেত্রীর কথায়, ‘এই মেয়েটার কাছে তার রুম আর ল্যাপটপ ছাড়া অন্য কোনো জগৎ নেই। অনেক মেয়ে বা ছেলে আছে, যারা ভালো গাইতে বা নাচতে পারে, কিন্তু তারা তাদের পারসোনাল স্পেস বা রুমের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে। বড় কিছু করার সাহস তারা করতে পারে না।’
সাদিয়া আয়মান জানান, চরিত্রটি করার সময় তিনি আসলে নিজের চেয়ে বরং অন্য অনেক মেয়ের কথা চিন্তা করেছেন। অভিনেত্রী মনে করেন, তিনি এখানে এমন অনেক মেয়ের প্রতিনিধিত্ব করছেন, যাঁরা নিজের ভেতরে মেধা লালন করেও তা লোকচক্ষুর অন্তরালে রাখতে বাধ্য হন।
সাদিয়া আয়মান মনে করেন, লুকে নয়, অভিনয়েই একজন শিল্পীর সার্থকতা। দর্শক তাঁর সৌন্দর্যের প্রশংসা করলেও ব্যক্তিগতভাবে অভিনয়ের মূল্যায়নকেই এগিয়ে রাখতে চান তিনি। বলেন, ‘দেখতে যত সুন্দরই হই না কেন, যখন কেউ অভিনয়ের প্রশংসা করে, ওইটা আমাকে বেশি এনার্জি দেয়। উল্টো যদি আমাকে কখনো বলে যে তোমাকে দেখতে খুব সুন্দর লাগছে, তখন আমার জিজ্ঞাসা করতে হয়, অভিনয় কেমন লাগছে? কারণ, ওটাই তো মেইন।’
সিলভার সাদিয়ার মতো এক্সপেরিমেন্টাল কাজে নির্মাতারা তাঁকে বেছে নেওয়ায় তাঁর মনে হয়, একজন অভিনেত্রী হিসেবে নিজের জায়গাটা তিনি হয়তো ধীরে ধীরে প্রমাণ করতে পারছেন। তাই নির্মাতারা তাঁকে নিয়ে ভিন্ন কিছু ভাবছেন।
পর্দার সাদিয়ার মতো বাস্তব জীবনের সাদিয়া আয়মানের পথচলাও খুব মসৃণ ছিল না। ২০১৯ সালে বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে ক্যারিয়ার শুরু করলেও শুরুতে পরিবারের দিক থেকে নিরঙ্কুশ সমর্থন ছিল না। শৈশবে নাচের প্রতি আগ্রহ থাকলেও পড়াশোনার চাপে শেখা হয়ে ওঠেনি। মিডিয়াতে কাজ করা নিয়ে মা–বাবার প্রাথমিক দ্বিধা কাটাতে অনেক সংগ্রাম করতে হয়েছে। মা–বাবার উদ্দেশে তখন সাদিয়া আয়মান বলেছিলেন, ‘প্লিজ তোমরা আমার মনোবল ভেঙে দিয়ো না, বিশ্বাস রাখো। আমি এমন কিছু করব না যাতে তোমাদের কোনো লজ্জা হয় বা তোমরা অপমানিত হও…তোমরা প্রাউড ফিল করবে এমন কিছুই হবে।’
সাদিয়া আয়মানের সেই কথাই যেন আজ সত্যি হয়েছে। এখন সাদিয়ার পরিচয়েই তাঁর মা–বাবাকে অনেকে চেনেন। অভিনেত্রী সঙ্গে না থাকলেও মানুষ তাঁর মাকে চিনে ফেলেন, মায়ের কাছে অভিনয়ের প্রশংসা করেন, তখন মা–বাবারও ভীষণ গর্ব হয়। সাদিয়া আয়মান বলেন, ‘পরিবার নিয়ে যেখানেই যাই না কেন, মানুষের এত ভালোবাসা পাই, আব্বু-আম্মু এটা খুব উপভোগ করেন। তাঁরা অনেক খুশি হোন।’


আপনার মতামত লিখুন :
More News Of This Category