• রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৪৩ পূর্বাহ্ন
Headline
হোমনায় ডাকাত সন্দেহে গ্রেপ্তার, মুক্তির দাবিতে সড়ক অবরোধ রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতিতে দেয়া কালি মুছে ভাইরাল রিকশাচালক সুপারিশকৃত বিচারকদের হবে ডোপ টেস্ট, বেঁধে দেয়া হলো সময় ভোটারের হাতের কালি শুকানোর আগেই ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়ন করা হয়েছে: শামা ওবায়েদ ‘কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালকে ১০০০ শয্যায় উন্নীত করা হবে’: কৃষিমন্ত্রী এসএসসিতে ফেল করা শিক্ষার্থীদের ৩–৬ মাসের মধ্যে পুনরায় পরীক্ষা নেয়া হবে: মাহদী আমিন সিটি করপোরেশনের ৭৫টি ওয়ার্ডে ডিএসসিসির বিশেষ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান দেশে চাহিদার তুলনায় পর্যাপ্ত খাদ্য মজুত রয়েছে : খাদ্যমন্ত্রী ক্ষতিকর উপাদানে তৈরি নকল ও ভেজাল পণ্যে বাজার সয়লাব শিক্ষার্থীদের ফলাফলের পাশাপাশি পাঠদানের কার্যকারিতাও মূল্যায়ন করতে হবে : ববি হাজ্জাজ

রাজধানীর পূর্বাচলের ‘৩০০ ফিটে অনিয়ন্ত্রিত অটোরিকশা স্ট্যান্ড, ভোগান্তিতে সাধারণ মানুষ

Reporter Name / ৮ Time View
Update : শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬

প্রভাত রিপোর্ট: বিপুল অর্থ ব্যয়ে নির্মিত সড়কটির অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল রাজধানীর যানজট কমানো, পূর্বাচল ও আশপাশের এলাকার সঙ্গে ঢাকার যোগাযোগ সহজ করা এবং দ্রুত ও নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করা। পাশাপাশি সড়কটি রাজধানী ও আশপাশের এলাকার মানুষের অবসর বিনোদনেরও পরিচিত স্থান হয়ে উঠেছে। প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ পরিবার-পরিজন নিয়ে এখানে ঘুরতে আসেন। কিন্তু সড়কের গুরুত্বপূর্ণ অংশে অনিয়ন্ত্রিত যানবাহন, যত্রতত্র পার্কিং, অবৈধ স্ট্যান্ড এবং দর্শনার্থীদের হয়রানির অভিযোগের কারণে সড়কটির পরিকল্পিত সুবিধা ব্যাহত হচ্ছে বলে মনে করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের প্রশ্ন, হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত আধুনিক সড়কের গুরুত্বপূর্ণ একটি সেতু এলাকায় যদি নিয়মিত যানজট ও অনিয়ম চলতে থাকে, তাহলে সড়ক নির্মাণের মূল উদ্দেশ্য কতটা বাস্তবায়িত হচ্ছে?
রাজধানীর যানজট কমানো, দ্রুত যোগাযোগ নিশ্চিত করা এবং পূর্বাচল নতুন শহরের সঙ্গে ঢাকার সংযোগ সহজ করতে নির্মাণ করা হয়েছে পূর্বাচল ৩০০ ফিট সড়ক। কিন্তু বিপুল অর্থ ব্যয়ে নির্মিত এই সড়কের ৩ নম্বর সেতু এলাকায় এখন যানজট, অনিয়ন্ত্রিত অটোরিকশা ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার স্ট্যান্ড এবং ক্যামেরাম্যানদের দৌরাত্ম্যে ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ মানুষজন। দর্শনার্থীদের ছবি তোলাকে কেন্দ্র করে জটলা, অতিরিক্ত টাকা আদায় ও হয়রানির অভিযোগও উঠেছে একশ্রেণির ক্যামেরাম্যানদের বিরুদ্ধে।
রাজধানীর কুড়িল বিশ্বরোড থেকে নারায়ণগঞ্জের কাঞ্চন সেতু (পূর্বাচলের) ৩০০ ফিট সড়কের বিভিন্ন স্থানে গড়ে ওঠা অটোরিকশা ও সিএনজি স্ট্যান্ড এবং ক্যামেরাম্যানদের কার্যক্রম ঘিরে স্থানীয় কিছু নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে দৈনিক অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় কয়েকটি সূত্রের দাবি, এসব স্ট্যান্ড পরিচালনা ও ক্যামেরাম্যানদের কার্যক্রমের সঙ্গে একটি প্রভাবশালী মহলের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। তবে অর্থ লেনদেনের অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয়দের দাবি, এসব অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে।
রাজধানীর কুড়িল বিশ্বরোড থেকে নারায়ণগঞ্জের কাঞ্চন সেতু পর্যন্ত প্রায় ১২ দশমিক ৩ কিলোমিটার দীর্ঘ পূর্বাচল এক্সপ্রেসওয়ে বা ৩০০ ফিট সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে। ১৪ লেনবিশিষ্ট এই সড়ক রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো। প্রকল্পটির সংশোধিত ব্যয় নির্ধারণ করা হয় ১০ হাজার ৩২৯ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। ২০১৫ সালের ২২ সেপ্টেম্বর প্রকল্পটি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) অনুমোদন পায়। ২০২৩ সালের ১৪ নভেম্বর সড়কটির উদ্বোধন করা হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা ও নিয়মিত যাতায়াতকারীদের অভিযোগ, সেতুর ওপর ও আশপাশে যত্রতত্র যানবাহন দাঁড় করিয়ে যাত্রী ওঠানামা করানো এবং দর্শনার্থীদের ছবি ও ভিডিও ধারণের জন্য ক্যামেরাম্যানদের অবস্থানের কারণে যান চলাচল বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। বিশেষ করে ছুটির দিন এবং বিকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের ভিড় বাড়লে যানজট তীব্র আকার ধারণ করে। এতে দুর্ভোগ পোহাতে হয় কর্মজীবী মানুষ, স্থানীয় বাসিন্দা, সাধারণ যাত্রী ও ঘুরতে আসা দর্শনার্থীদের। যে উদ্দেশ্য নিয়ে এত টাকা ব্যয়ে সড়কটি করা হয়েছে, সেটি কাজে আসছে না। এই সড়কে যাতায়াতকারী লোকজনের দাবি, যানজট নিরসনে সড়কটির গুরুত্বপূর্ণ এই অংশে অবৈধ স্ট্যান্ড উচ্ছেদ, যানবাহনের শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা এবং ক্যামেরাম্যানদের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন।
পরিবার-পরিজন ও বন্ধুদের সঙ্গে ৩০০ ফিট সড়কে ঘুরতে আসা অনেকেই স্মৃতি ধরে রাখতে ক্যামেরাম্যানদের মাধ্যমে ছবি তোলেন। তবে ছবি তোলার পর সম্মত টাকার চেয়ে বেশি অর্থ দাবি এবং তা দিতে অস্বীকৃতি জানালে দুর্ব্যবহার ও চাপ প্রয়োগের অভিযোগ করেছেন কয়েকজন দর্শনার্থী।
তাদের অভিযোগ, আনন্দের মুহূর্ত স্মরণীয় করে রাখতে এসে অনেককে বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়। এসব কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে কার্যকর নজরদারি না থাকায় ক্যামেরাম্যানদের একটি অংশ হয়রানি করছেন।
ভুক্তভোগী একাধিক ব্যক্তি জানিয়েছেন, সেতুর ওপর ও আশপাশে ক্যামেরাম্যানদের অবস্থান এবং ছবি তোলার জন্য দর্শনার্থীদের জড়ো হওয়ার কারণে সড়কের একটি অংশে চলাচল ব্যাহত হয়। ছুটির দিনগুলোতে এ পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। ৩০০ ফিট সড়কের বিভিন্ন স্থানে গড়ে উঠেছে অটোরিকশা ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার অনিয়ন্ত্রিত স্ট্যান্ড। সড়কের পাশে, গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে এবং সেতুর প্রবেশমুখে এসব যানবাহন দাঁড় করিয়ে যাত্রী ওঠানামা করানো হয়। এতে সড়কের একটি অংশ কার্যত দখলে চলে যাচ্ছে বলে অভিযোগ যাতায়াতকারীদের।
বিশেষ করে ৩ নম্বর সেতু এলাকায় অটোরিকশা ও সিএনজির জটলা, দর্শনার্থীদের ভিড় এবং ক্যামেরাম্যানদের অবস্থান—সব মিলিয়ে যান চলাচলের স্বাভাবিক পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে। অনেক সময় অল্প দূরত্ব অতিক্রম করতেও যানবাহনকে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়। এতে অফিসগামী মানুষ, জরুরি প্রয়োজনে চলাচলকারী যাত্রী ও অন্যান্য পরিবহনচালকদের ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।
স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ, গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কে যানবাহন দাঁড় করানো ও যাত্রী ওঠানামার ক্ষেত্রে কার্যকর নিয়ন্ত্রণ না থাকায় পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে না।
এ বিষয়ে হাইওয়ে পুলিশের পরিদর্শক আলী আহমেদ গণমাধ্যমকে বলেন, ‘পূর্বাচল ৩০০ ফিট সড়কে যানজটের বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। সড়কে অটোরিকশা ও সিএনজি যত্রতত্র দাঁড় করিয়ে রাখা এবং ক্যামেরাম্যানদের কারণে যান চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হওয়ার অভিযোগ আমরা খতিয়ে দেখবো।’ তিনি বলেন, ‘সড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং সাধারণ মানুষের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করা পুলিশের দায়িত্ব। কেউ যেন সড়কে অবৈধভাবে যানবাহন দাঁড় করিয়ে কিংবা পর্যটকদের চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে ভোগান্তির কারণ হতে না পারে, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’
ক্যামেরাম্যানদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা খুব দ্রুত এ বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবো, যাতে ৩০০ ফিট সড়কে যানজট কমে আসে এবং সাধারণ মানুষ স্বাচ্ছন্দ্যে চলাচল করতে পারেন।’
স্থানীয় বাসিন্দা ও নিয়মিত যাতায়াতকারীদের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে ৩০০ ফিট সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনবে। অবৈধ স্ট্যান্ড উচ্ছেদ, যত্রতত্র যানবাহন দাঁড় করানো বন্ধ, ক্যামেরাম্যানদের কার্যক্রম নিয়মের আওতায় আনা এবং দর্শনার্থীদের হয়রানির অভিযোগ তদন্তের মাধ্যমে সড়কটিতে নিরাপদ, স্বস্তিদায়ক ও নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করা হবে।


আপনার মতামত লিখুন :
More News Of This Category