• শনিবার, ২৩ মে ২০২৬, ১১:৫৬ অপরাহ্ন

শিশুদের ওপর বর্বরতা বন্ধের আহ্বান ইউনিসেফের

Reporter Name / ৭ Time View
Update : শনিবার, ২৩ মে, ২০২৬

প্রভাত রিপোর্ট: সম্প্রতি বাংলাদেশে শিশুদের ওপর ঘটে যাওয়া নির্মম সহিংসতার ঘটনায় ভুক্তভোগী সব পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছে ইউনিসেফ। সংস্থাটির বলছে, ঘটে যাওয়া নির্মম ঘটনার মধ্যে ছেলে ও মেয়ে শিশুদের ধর্ষণ ও হত্যার মতো ঘটনা রয়েছে। যেসব জায়গায় তাদের সবচেয়ে নিরাপদ থাকার কথা ছিল, সেখানেই এসব সহিংসতার শিকার হয়েছে তারা। শিশুদের ওপর বর্বরতা অবশ্যই বন্ধ করতে হবে!
বাংলাদেশে ইউনিসেফের প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্সের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে এসব কথা বলা হয়েছে। শুক্রবার (২২ মে) ইউনিসেফ তাদের ওয়েবসাইটে ওই বিবৃতি প্রকাশ করে।
বিবৃতিতে বলা হয়, চলতি বছর এ পর্যন্ত বাংলাদেশে নারী এবং শিশুদের ওপর নির্মম ও যৌন সহিংসতার খবর যেভাবে বাড়ছে, তা দেশব্যাপী শিশু ও জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা (জিবিভি) প্রতিরোধব্যবস্থা জোরদার করার জরুরি প্রয়োজনীয়তা সামনে এনেছে। অপরাধীদের পার পেয়ে যাওয়ার সংস্কৃতি অবশ্যই বন্ধ করতে হবে। সেই সঙ্গে প্রতিরোধ, অভিযোগ দায়ের, প্রাতিষ্ঠানিক সুরক্ষা, শিশুবান্ধব পুলিশ ও বিচারব্যবস্থা এবং সামাজিক সেবার ঘাটতিগুলো দূর করতে হবে। নারী ও শিশুদের জন্য মানসিক সহায়তার পাশাপাশি স্কুল, মাদ্রাসা, কর্মক্ষেত্র, পাড়া-মহল্লা ও শিশুযত্ন কেন্দ্রে জবাবদিহি আরও বাড়াতে হবে।
সমাজে নীরবতা বজায় থাকলে সহিংসতা আরও ছড়িয়ে পড়ে। ইউনিসেফ শিশু, নারী, পরিবার ও সমাজের মানুষকে যেকোনও সহিংসতা বা নির্যাতনের বিরুদ্ধে মুখ খোলার আহ্বান জানিয়েছে। এ জন্য প্রয়োজনে চাইল্ড হেল্পলাইন ১০৯৮-এ যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হয়; যা ভুক্তভোগী শিশুদের তাৎক্ষণিক সহায়তা ও প্রয়োজনীয় সেবা দিয়ে থাকে।
ইউনিসেফ জানায়, নির্যাতনের শিকার নারী ও শিশুদের মর্যাদার প্রতি সম্মান জানানো উচিত। তাদের ছবি, ভিডিও বা ব্যক্তিগত তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করা একধরনের নতুন নির্যাতন। যারা এগুলো শেয়ার করেন, তারা মূলত ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের মানসিক কষ্ট আরও বাড়িয়ে দেন এবং ভুক্তভোগীদের প্রতি অসম্মান প্রদর্শন করেন।
সর্বসাধারণ, গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের প্রতি ইউনিসেফের আহ্বান, তারা যেন ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের অধিকারের প্রতি সম্মান দেখান এবং এ ধরনের ছবি বা ভিডিও শেয়ার করা থেকে বিরত থাকেন। এর বদলে অপরাধীদের শাস্তি থেকে দায়মুক্তি দেওয়ার অবসান ঘটানো ও মানুষের নিরাপত্তা জোরদার করার দাবিতে সবাইকে সোচ্চার হতে হবে। সংস্থাটির বলছে, প্রতিটি শিশুরই সব জায়গায়– সমাজে, স্কুলে, ঘরে; এমনকি গণমাধ্যমে তাদের গল্প বা ছবি উপস্থাপনের ক্ষেত্রেও সুরক্ষা পাওয়ার পূর্ণ অধিকার রয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :
More News Of This Category