• রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৪৫ অপরাহ্ন

সমুদ্রের বুকে চীনের গোপন ঘাঁটি? স্যাটেলাইট ছবিতে নতুন চমক

Reporter Name / ১৯০ Time View
Update : শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ২০২৬

প্রভাত ডেস্ক: দক্ষিণ চীন সাগরের প্যারাসেল দ্বীপপুঞ্জের অ্যান্টিলোপ রিফে রানওয়ে নির্মাণের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। বিশ্লেষকদের ধারণা, ২০২৭ সালের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে রানওয়েটির নির্মাণ শেষ হতে পারে। এতে বিতর্কিত দক্ষিণ চীন সাগরে চীনের সামরিক নিয়ন্ত্রণ আরও জোরদার হবে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স শুক্রবার এ খবর জানিয়েছে। রয়টার্স পর্যালোচিত স্যাটেলাইট ছবিতে দেখা গেছে, রানওয়ে নির্মাণের জন্য মাটি সমতল করা, পাথর ও কংক্রিটের স্তূপ এবং মাটি চাপ দেওয়ার কাজে ব্যবহৃত ক্রেন কাজ করছে। সামরিক কর্মকর্তা ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, এটি ওই অঞ্চলে চীনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটিতে পরিণত হতে পারে।
চীনের হুমকির মধ্যেই তাইওয়ানের বহরে যুক্ত হলো নতুন দুই যুদ্ধবিমানচীনের হুমকির মধ্যেই তাইওয়ানের বহরে যুক্ত হলো নতুন দুই যুদ্ধবিমান
বাণিজ্যিক স্যাটেলাইট ছবি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ভ্যানটরের ২৫ সেপ্টেম্বরের ছবিতে একটি নতুন নির্মিত জেটির দিকে পাথরবোঝাই একটি বার্জকেও দেখা গেছে।
অ্যান্টিলোপ রিফে ঘাঁটির নির্মাণ শেষ হলে, এক দশকের মধ্যে দক্ষিণ চীন সাগরে চীনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সম্প্রসারণ হতে পারে এটি। এর মাধ্যমে চীনা নৌবাহিনীর জাহাজ ও সামরিক বিমানের কার্যক্রমের পরিধি বাড়বে। তাইওয়ানকে ঘিরে চীন, যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের মিত্রদের প্রতিযোগিতার কারণে দক্ষিণ চীন সাগর ক্রমেই সামরিক বাহিনীর উপস্থিতি বাড়ছে।
ওপেন সোর্স ডেটা প্ল্যাটফর্ম পিএলএট্র্যাকার-এর প্রতিষ্ঠাতা বেন লুইস বলেন, ২০১৫ সালে বিতর্কিত স্প্র্যাটলি দ্বীপপুঞ্জের ফিয়েরি ক্রস রিফে নির্মিত তিন কিলোমিটার রানওয়ের অভিজ্ঞতা বিবেচনায় নিলে অ্যান্টিলোপের রানওয়ে ২০২৭ সালের প্রথমার্ধে পাকা করার কাজ শেষ হতে পারে এবং ওই বছরের মাঝামাঝি প্রথম বিমান অবতরণ করতে পারে।
তাইওয়ানে চীনের আক্রমণ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বাভাসে কী বলা হয়েছেতাইওয়ানে চীনের আক্রমণ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বাভাসে কী বলা হয়েছে
তবে লুইস বলেন, সম্ভাব্য গোলাবারুদ ও জ্বালানি সংরক্ষণাগার নির্মাণের জন্য খননকাজের কোনও লক্ষণ এখনও তিনি দেখতে পাননি। তার মতে, এত বড় একটি ঘাঁটির জন্য এ ধরনের অবকাঠামো প্রয়োজন হবে।
এ বিষয়ে চীনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় রয়টার্সের মন্তব্যের অনুরোধে তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া দেয়নি। চীন এখনও নতুন সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের কথা স্বীকার করেনি। দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, অ্যান্টিলোপে আবহাওয়ার পূর্বাভাস, সামুদ্রিক ও বৈজ্ঞানিক গবেষণার মতো বেসামরিক কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
ভ্যানটরের স্যাটেলাইট বিশ্লেষক এবং ওপেন সোর্স গোয়েন্দা তথ্য পর্যবেক্ষক ড্যামিয়েন সাইমনও জানিয়েছেন, সেখানে থাকা ক্রেনগুলো পুনরুদ্ধার করা বা আলগা মাটিকে ভিত্তি তৈরির জন্য শক্তভাবে চাপ দেওয়ার কাজে ব্যবহৃত হয়। সাইমনই জানুয়ারির শুরুতে অ্যান্টিলোপ রিফে ড্রেজিংয়ের বিষয়টি প্রথম তুলে ধরেছিলেন।
দক্ষিণ চীন সাগরের উত্তরাঞ্চলে অ্যান্টিলোপে ভবিষ্যৎ ঘাঁটি তৈরি হলে চীনের বিভিন্ন ধরনের নৌযান ও সামরিক বিমানের মোতায়েনের পরিধি বাড়বে। একই সঙ্গে হাইনান দ্বীপের প্রবেশপথ সুরক্ষায়ও এটি ভূমিকা রাখতে পারে। হাইনানেই চীন পারমাণবিক অস্ত্র বহনে সক্ষম ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রবাহী সাবমেরিন রাখে।
রয়টার্স গত আগস্টে জানিয়েছিল, অ্যান্টিলোপের কাছে একটি ছোট দ্বীপে নতুন কিছু স্থাপনা দেখা গেছে। তবে ইয়াগং দ্বীপে তিনটি শাখার মতো করে নির্মাণকাজের সম্ভাব্য ব্যবহার কী হতে পারে, তা এখনও নিশ্চিত করতে পারেননি বিশ্লেষকেরা।


আপনার মতামত লিখুন :
More News Of This Category