প্রভাত সংবাদদাতা, পাবনা: ২০২৭ সালের জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যেই পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণ প্রকল্পের কাজ শুরু হবে বলে জানিয়েছেন পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি।রবিবার (২৫ অক্টোবর) দুপুর সাড়ে ১২টায় সুজানগরের সাতবাড়িয়া কাঞ্চন পার্ক এলাকার পদ্মাপাড়ে পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন শেষে কারিগরি বিষয়ে আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি একথা জানান।তিনি জানান, নির্বাচিত হওয়ার আড়াই মাসের মাথায় এরকম একটি সাহসী উদ্যোগ নিয়েছে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার। এটা একটা মাস্টারমাইন্ড প্রকল্প। এটা আমাদের জন্য একটা কঠিন চ্যালেঞ্জ।তিনি বলেন, এরই মধ্যে প্রথম পর্যায়ে এই প্রকল্পের টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৫ হাজার কোটি টাকা। দ্বিতীয় পর্যায়ে এই প্রকল্পটিকে শেষ করতে আমরা সর্বমোট এখন পর্যন্ত ধরে রেখেছি ৫০ থেকে ৫৫ হাজার কোটি টাকা। এরমধ্যে প্রকল্পটি আমাদেরকে শেষ করতে হবে।মন্ত্রী আরও বলেন, যিনি আমাদের প্রকল্প পরিচালক তার ব্যাখ্যা অনুযায়ী, দেশের তিন ভাগের এক ভাগ জনগোষ্ঠী অর্থাৎ বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের প্রায় ৭ কোটি মানুষ এই প্রকল্পের সম্পূর্ণ সুবিধা পাবে। এই অঞ্চলের সুবিধাবঞ্চিত ও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের আর্থসামাজিক উন্নয়ন ঘটবে।কারিগরি আলোচনার সময় প্রকল্প পরিচালক হাসান মাহমুদ বলেন, নদীর গভীরতা পরিবর্তনের কারণে পদ্মা ব্যারেজের ২০১৬ সালের যে নকশা করা হয়েছিল সেটিতে অবস্থানগত কিছুটা পরিবর্তন এসেছে। আগামী দেড় বছরে সকল সম্ভাব্যতা যাচাই সম্পন্ন করা হবে।তিনি বলেন, এই ব্যারেজের মাধ্যমে ব্যারেজের উজানে ১৬৫ কিলোমিটার নদীর অংশে পানি রিজার্ভ করা হবে। সংরক্ষণের ফলে পানির চাপ ও উচ্চতা বাড়বে। এক্ষেত্রে পাবনাসহ সংশ্লিষ্ট এলাকার শহররক্ষা বাঁধের উচ্চতা ও সক্ষমতা বাড়াতে হবে। সে বিষয়গুলোও এ প্রকল্পে বিবেচনায় রাখা হয়েছে। এছাড়া বর্ষায় ৭৮টি গেইটই খোলা থাকবে। ফলে বন্যার তেমন আশঙ্কা নেই।এসময় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শফিকুল হক মিলন, মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. একেএম শাহাবুদ্দিন, পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প পরিচালক হাসান মাহমুদ, পাবনা ৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, পাবনা সিরাজগঞ্জ সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আরেফা সুলতানা রুমা, জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলাম, পাবনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্ববধায়ক প্রকৌশলী সুধাংশু কুমার সরকার ও বেড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী জাহিদুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।