• রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১১:২৭ অপরাহ্ন
Headline
দু’দিনের সফরে কলকাতার ৫ জায়গায় থেকে ঘুরে আসুন সাবেক রাষ্ট্রদূতের স্ত্রী খুন: ছেলে কারাগারে, গৃহকর্মীর জবানবন্দি ছয় ঘণ্টা অচল ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক, বিজিবি মোতায়েন স্মৃতিশক্তি বাড়ানোর ১০ সহজ ও আনন্দদায়ক উপায় আগামী গ্রীষ্মে কিছুটা হলেও লোডশেডিং কম দিতে পারবো: বিদ্যুৎমন্ত্রী দুর্নীতির মামলায় সাজাপ্রাপ্ত, আত্মসমর্পণের পর কারাগারে শওকত আজিজ রাসেল দ্বিতীয় স্ত্রীর আত্মহত্যা: দায়রা আদালতেও জামিন পাননি এমপি নজরুল রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্র : সাবেক সেনা কর্মকর্তা হাফিজ ৪ দিনের রিমান্ডে সাইবার নিরাপত্তা আইন গণমাধ্যমের স্বাধীনতা খর্ব করার জন্য নয় : আইসিটি মন্ত্রী মিরপুরে শ্রমিকদের সঙ্গে সরকারবিরোধী চক্র যুক্ত থাকতে পারে: পুলিশ

সাবেক রাষ্ট্রদূতের স্ত্রী খুন: ছেলে কারাগারে, গৃহকর্মীর জবানবন্দি

Reporter Name / ১৮ Time View
Update : রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৬

প্রভাত রিপোর্ট: বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত প্রয়াত আবুল কাশেমের স্ত্রী আফিয়া আক্তারকে খুনের মামলায় ছেলে তাহসিন তারিক অর্ণবকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আর বাসার গৃহকর্মী নার্গিস বেগম সাক্ষী হিসেবে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ধানমন্ডি মডেল থানার এসআই মোহাম্মদ তৌহিদুর রহমান রবিবার (১ নভেম্বর) অর্ণব ও নার্গিস বেগমকে আদালতে হাজির করেন। অর্ণবকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন এবং সাক্ষী হিসেবে নার্গিস বেগমের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করার আবেদন করেন।
আবেদনের প্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাইদ তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। আরেক মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুব আলম নার্গিস বেগমের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করেন বলে জানিয়েছেন প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই শরিফুজ্জামান।
এদিকে আদালতে থাকাবস্থায় অর্ণব সাংবাদিকদের জানান,তিনি ইউআইইউ এর বিবিএ’র ছাত্র। ভোরে তিনি দেখতে পান তার মা ডাইনিং রুমে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছেন। তিনি বলেন, আমাদের বাসার নিচে একটি মসজিদ আছে। হুজুরকে ডেকে আনি। ৯৯৯ নম্বরে ফোন করি, কিন্তু তারা রেসপন্স করে না।’’ পরে ধানমন্ডি ইবনে সিনা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে যাওয়ার পথে পুলিশের টহল গাড়ি দেখে অর্ণব বিষয়টি তাদের জানান। এরপর পুলিশ তার সাথে বাসায় আসে। নিজে অসুস্থ দাবি করে অর্ণব জানান, তার মা হার্টের রোগী ছিলেন। এছাড়া তার ডায়াবেটিসেরও ছিল।
ধানমন্ডির ৯/এ নম্বর সড়কের একটি ফ্ল্যাটে আফিয়া আক্তারকে খুনের ঘটনায় চিকিৎসক মেয়ে নাহরিন নাশিদ স্বর্ণা ছোট ভাই অর্ণবকে আসামি করে মামলা করেন।
মামলায় অভিযোগ করেন, অর্ণব কোনো কাজকর্ম করতো না। সে প্রায় মায়ের কাছে টাকা চাইতো। টাকা না দিলে ঝগড়া করতো এবং মাকে মেরে ফেলার হুমকি দিতো। শনিবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে বাসার ম্যানেজার মাহবুব স্বর্ণাকে ফোন করে জানান, বাসার দারোয়ানের মাধ্যমে জানতে তিনি পেরেছেন তাদের বাসায় ঝামেলা হচ্ছে। তাৎক্ষণিকভাবে স্বর্ণা গৃহকর্মী নার্গিসকে ফোন করেন। নার্গিস স্বর্ণাকে জানান, অর্ণব আফিয়া আক্তারকে গলায় ছুরি দিয়ে আঘাত করে ডাইনিং রুমে ফেলে রেখেছে। স্বর্ণা মাহবুবকে ফোন করে তার মাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যেতে বলেন। আফিয়া আক্তারকে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
পরে স্বর্ণা গৃহকর্মী নার্গিসের সাথে কথা বলে জানতে পারেন, শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে আফিয়া আক্তার রাতের খাবার খেয়ে বেডরুমে ঘুমোতে যান। অর্ণব তার বেডরুমে ছিল। আফিয়া আক্তারের চিৎকার শুনে ভোর সাড়ে ৫টার দিকে নার্গিস বেগম ডাইনিং রুমে যান। সেখানে গিয়ে দেখতে পান, অর্ণব ছুরি হাতে দাড়িয়ে আছে, আর আফিয়া আক্তারকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। নার্গিস বেগম আফিয়া আক্তারকে ধরতে গেলে অর্ণব তাকেও ছুরি দেখিয়ে মেরে ফেলার হুমকি দেয় এবং বাসা থেকে বের করে দিয়ে দরজা বন্ধ করে দেয়। তারপর অর্ণব মায়ের মৃত্যু নিশ্চিত করে বাসা থেকে বের হয়ে যায়। মামলা দায়ের করার পর ধানমন্ডি এলাকা থেকে অর্ণবকে গ্রেফতার করার কথা জানায় পুলিশ।


আপনার মতামত লিখুন :
More News Of This Category