প্রভাত রিপোর্ট: বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তা ও ব্যাংকাররা বলছেন, আন্তঃব্যাংকে এ পরিমাণ ডলার লেনদেন ৫ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। আন্তঃব্যাংক বাজারে স্পটে ১৫৫ মিলিয়ন ও সোয়াপে ৫০ মিলিয়নের বেশি ডলার কেনাবেচা করেছে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো। প্রতি ডলার ১২৩.১০ টাকা থেকে ১২৩.২২ টাকা দরে ৩০টি বাণিজ্যিক ব্যাংক লেনদেন করেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, চলতি মাসের ৭ তারিখে আন্তঃব্যাংকে ১০১ মিলিয়ন ডলার ও ৬ তারিখে ৮২ মিলিয়ন ডলার লেনদেন হয়েছে।
আন্তঃব্যাংক হলো এমন একটি ব্যবস্থাকে, যেখানে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো নিজেদের মধ্যে সরাসরি অর্থ, স্বল্পমেয়াদি ঋণ কিংবা বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেন করে। সাধারণ গ্রাহক বা প্রতিষ্ঠান এই বাজারে সরাসরি অংশ নিতে পারে না।
বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন ঊর্ধতন কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে বলেন, বাজারে এখন ডলার সরবরাহ বেশি রয়েছে, তবে সে তুলনায় চাহিদা কম।
রেমিট্যান্স ও রপ্তানি আয়ের মাধ্যমে বাজারে যে পরিমাণ ডলার আসছে, তার তুলনায় মুদ্রাটির সামগ্রিক চাহিদা অনেকটা কমে যাওয়ার কারণে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
এ কারণে অনেক বাণিজ্যিক ব্যাংকের এনওপি (নেট ওপেন পজিশন) সর্বোচ্চ সীমার কাছাকাছি চলে যাচ্ছে। এনওপি হলো একটি ব্যাংকের মোট বৈদেশিক মুদ্রা সম্পদ ও মোট বৈদেশিক মুদ্রা দায়ের মধ্যকার ব্যবধান। সাধারণত এমন অবস্থা হলে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে অতিরিক্ত ডলার কেন্দ্রীয় ব্যাংকে কিংবা আন্তঃব্যাংকে বিক্রি করে দিতে হয়। তবে সাম্প্রতিক সময় বাংলাদেশ ব্যাংক বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ডলার কেনা বন্ধ রেখেছে। আবার আগামী সপ্তাহে সরকারি পেমেন্টও রয়েছে। এজন্য আন্তঃব্যাংকে ডলার লেনদেন বেশি হতে পারে।
ওই কর্মকর্তা বলেন, যেসব ব্যাংকের এনওপি সর্বোচ্চ সীমায় পৌঁছে গেছে, তারা আন্তঃব্যাংকে অন্য ব্যাংকের কাছে উদ্বৃত্ত ডলার বিক্রি করছে। আর যেসব ব্যাংকের ডলার চাহিদা রয়েছে, তারা আন্তঃব্যাংক থেকে ডলার কিনছে।
একটি বাণিজ্যিক ব্যাংকের একজন ঊর্ধতন কর্মকর্তা টিবিএসকে বলেন, চলতি মাসে সরকারি পেমেন্ট যাদের রয়েছে, সেসব ব্যাংক অন্য ব্যাংক থেকে ডলার কিনছে। এদের মধ্যে অনেক ব্যাংক ডলার কিনে এনওপি সর্বোচ্চ সীমায় নিয়ে গেছে, কারণ তারা ধারণা করছে চলতি মাসে রেমিট্যান্স কম আসতে পারে। তাই যেসব ব্যাংকের পেমেন্টের চাহিদা রয়েছে, সেসব ব্যাংক আন্তঃব্যাংক থেকে ডলার কিনছে।
সেপ্টেম্বরে ১১ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। এ মাসে ২.৭৬ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স পাঠান তারা।
বাণিজ্যিক ব্যাংকের একজন ঊর্ধতন কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে বলেন, মূলত এতদিন আন্তঃব্যাংক মার্কেট বাজার ‘লাভজনক’ (ভায়াবল) ছিল না। তবে ইদানীং এ বাজার কিছুটা লাভজনক হচ্ছে। ‘এটা একটা ইতিবাচক অগ্রগতি যে এ মার্কেটে একদিনে ২০০ মিলিয়ন ডলার লেনদেন হয়েছে,’ বলেন তিনি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে, রেমিট্যান্স প্রবাহে শক্তিশালী প্রবৃদ্ধির ওপর ভর করে চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে (জুলাই-আগস্ট) দেশের চলতি হিসাবের উদ্বৃত্ত প্রায় তিনগুণ বেড়েছে। আগের অর্থবছরের একই সময়ে যেখানে উদ্বৃত্ত ছিল ১৯৭ মিলিয়ন ডলার, এবার তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৯৯ মিলিয়ন ডলার। এ সময়ে বাংলাদেশ ৫.৮৩ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স পেয়েছে, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ২০ শতাংশ বেশি।
চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে বাজারে ডলারের দর কমতে থাকায় প্রায় তিন মাস পর বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো থেকে নিলামের মাধ্যমে ৫০ মিলিয়ন ডলার কিনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।