• বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬, ১০:১১ পূর্বাহ্ন
Headline
১৫০ হাজির লাগেজ কেটে চুরির দাবি সত্য নয়: বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স হরমুজে ৩ মাস আটকা ‘বাংলার জয়যাত্রা’; ক্লান্তি ও উৎকণ্ঠায় নাবিকদের বন্দী জীবন গৌরী স্প্র্যাটকেই বিয়ে করবেন আমির খান রাণীনগরে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিটে দুই ভাইয়ের বসতবাড়ি পুড়ে ছাই মায়ের মৃত্যু: যুগ্ম সচিব ছেলেকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার সোনার কলস পেয়ে অপু: অনেক চেষ্টা করে কান্না লুকিয়েছি আদাবরে ঢাবি শিক্ষার্থীকে অপহরণ, চক্রের ৯ সদস্য গ্রেপ্তার ঢাকাসহ ৪৫ জেলায় বইছে তাপপ্রবাহ, গরমে কাহিল মানুষ রিট খারিজ, বিসিবি নির্বাচনে বাধা নেই খলিলুর রহমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী থাকবেন কি না সিদ্ধান্ত নেবেন প্রধানমন্ত্রী: শামা ওবায়েদ

কৃষ্ণসাগরে ব্রিটিশ নজরদারি বিমানের পথ রোধ করেছে দুই রুশ যুদ্ধবিমান

Reporter Name / ১৩ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২৬

প্রভাত ডেস্ক: যুক্তরাজ্যের বিমানবাহিনী ব্রিটিশ রয়্যাল এয়ারফোর্সের (আরএএফ) একটি নজরদারি বিমানকে আন্তর্জাতিক আকাশসীমায় ‘একাধিকবার’ ও ‘বিপজ্জনকভাবে’ বাধা দিয়েছে রাশিয়ার দুটি যুদ্ধবিমান। গত মাসে কৃষ্ণসাগরে এ ঘটনা ঘটেছে। যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বুধবার এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, রাশিয়ার একটি সু-৩৫ যুদ্ধবিমান যুক্তরাজ্যের নজরদারি বিমান রিভেট জয়েন্টের খুব কাছে চলে আসে। এ সময় রুশ যুদ্ধবিমানটি এতটাই কাছাকাছি চলে এসেছিল যে ব্রিটিশ বিমানটির অটোপাইলট মোড বন্ধ হয়ে জরুরি সুরক্ষাব্যবস্থা সচল হয়ে যায়।
এ ছাড়া রাশিয়ার আরেকটি যুদ্ধবিমান সু-২৭ যুক্তরাজ্যের নজরদারি বিমানটির সামনে দিয়ে অন্তত ছয়বার চক্কর দেয়। একপর্যায়ে রুশ বিমানটি ব্রিটিশ বিমানের থেকে মাত্র ছয় মিটার (১৯ ফুট) দূরে অবস্থান করছিল।
রাশিয়ার যুদ্ধবিমানের এ আচরণকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে মন্তব্য করেছেন ব্রিটিশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী জন হিলি। সেই সঙ্গে এমন পরিস্থিতিতে ব্রিটিশ নজরদারি বিমানের ক্রুদের ‘অসাধারণ পেশাদারত্ব’ প্রদর্শনের প্রশংসাও করেন তিনি।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য, ২০২২ সালের পর এটিই যুক্তরাজ্যের বিরুদ্ধে রাশিয়ার সবচেয়ে বিপজ্জনক পদক্ষেপ। ওই বছর কৃষ্ণসাগরে একজন রুশ পাইলট একটি ব্রিটিশ নজরদারি বিমান লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছিলেন।
এ ঘটনার সময় ব্রিটিশ নজরদারি বিমানটি ন্যাটোর পূর্ব সীমান্তের নিরাপত্তা বাড়াতে আন্তর্জাতিক আকাশসীমায় নিয়মিত টহল দিচ্ছিল বলে জানায় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য, ২০২২ সালের পর এটিই যুক্তরাজ্যের বিরুদ্ধে রাশিয়ার সবচেয়ে বিপজ্জনক পদক্ষেপ। ওই বছর কৃষ্ণসাগরে একজন রুশ পাইলট একটি ব্রিটিশ নজরদারি বিমান লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছিলেন।
আকাশে এই বাধা সৃষ্টির নিন্দা জানিয়ে জন হিলি বলেন, ‘ঘটনাটি আন্তর্জাতিক আকাশসীমায় নিরস্ত্র একটি বিমানের প্রতি রুশ পাইলটদের বিপজ্জনক ও অগ্রহণযোগ্য আচরণের আরেকটি উদাহরণ।’
হিলি বলেন, ‘এ ধরনের কর্মকাণ্ড বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি করে এবং পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে যেতে পারে।’ হিলি আরও বলেন, ‘এই ঘটনা রুশ আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ন্যাটো, আমাদের মিত্রদের এবং আমাদের স্বার্থ রক্ষার ব্যাপারে যুক্তরাজ্যের অঙ্গীকারকে দুর্বল করতে পারবে না।’
লন্ডনে অবস্থিত রুশ দূতাবাসকে এই ঘটনায় নিন্দা জানানোর আহ্বান জানিয়েছে ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে, ওই অঞ্চলে রাশিয়ার ক্রমবর্ধমান উসকানিমূলক তৎপরতার প্রেক্ষাপটে এ ঘটনা ঘটেছে। এমনকি সম্প্রতি উত্তর সাগরে যুক্তরাজ্যের সমুদ্রতলের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর কাছেও রুশ সাবমেরিনের আনাগোনা দেখা গেছে। এর আগে ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে কৃষ্ণসাগরের ওপরেই ব্রিটিশ গোয়েন্দা বিমান লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার চেষ্টা করেছিলেন একজন রুশ পাইলট।
সে সময় রুশ পাইলট দুটি ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছিলেন। প্রথম ক্ষেপণাস্ত্রটি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়েছিল, যদিও সে সময় দাবি করা হয়েছিল, কারিগরি ত্রুটির কারণে সেটি অকেজো হয়ে গেছে। গত বছর সেপ্টেম্বরে রাশিয়া ওই ঘটনার পেছনে ‘কারিগরি ত্রুটির’ অজুহাত দিয়েছিল।
ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় তখন প্রকাশ্যে রাশিয়ার সেই ব্যাখ্যা মেনে নিলেও পরে পশ্চিমা প্রতিরক্ষা খাতের তিনজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বিবিসিকে ভিন্ন তথ্য দেন। তাঁরা বলেন, রুশ গ্রাউন্ড স্টেশন থেকে অস্পষ্ট নির্দেশ পেয়ে ওই পাইলট ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছিলেন। ব্রিটিশ বিমানবাহিনীর ৫১ নম্বর স্কোয়াড্রন আরসি-১৩৫ডব্লিউ রিভেট জয়েন্ট বিমান পরিচালনা করে। এটি সাধারণত লিংকনশায়ারের একটি ঘাঁটি থেকে উড্ডয়ন করে। এই বিমানে অত্যন্ত উন্নত সেন্সর রয়েছে। এটি বিভিন্ন সংকেত বিশ্লেষণ করে তাৎক্ষণিক কৌশলগত ও সামরিক গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ করতে পারে।


আপনার মতামত লিখুন :
More News Of This Category