• শনিবার, ২৩ মে ২০২৬, ১০:৩০ অপরাহ্ন

গাজীপুরের ২ মহাসড়কে যাত্রী ও যানবাহনের চাপ, এবারও তৈরি হতে পারে দীর্ঘ যানজট

Reporter Name / ৬ Time View
Update : শনিবার, ২৩ মে, ২০২৬

প্রভাত সংবাদদাতা, গাজীপুর: পবিত্র ঈদুল আজহার আর মাত্র চার দিন বাকি। শিল্পাঞ্চলখ্যাত গাজীপুরে এখনো অধিকাংশ কারখানায় ছুটি শুরু হয়নি। এরপরও ঢাকা-ময়মনসিংহ ও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে ইতিমধ্যে যাত্রী ও যানবাহনের চাপ বেড়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে যানজট নিরসনে নানা প্রস্তুতি নিলেও মহাসড়কের পাশে পশুর হাট, অবৈধ পার্কিং, ভাসমান দোকান ও শিল্পকারখানায় একযোগে ছুটির কারণে এবারও দীর্ঘ যানজট তৈরি হতে পারে।
হাইওয়ে পুলিশ ও এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রতি ঈদে গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকা থেকে লাখো মানুষ ঢাকা-ময়মনসিংহ ও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক ব্যবহার করে নিজ নিজ গন্তব্যে ফেরেন। কয়েক দিন মহাসড়কে যানবাহনের চাপ কয়েক গুণ বেড়ে যায়। একই সময়ে বিপুলসংখ্যক মানুষ বাড়ি ফেরায় দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়।
গাজীপুরের জেলা প্রশাসক নূরুল করিম ভূইয়া গণমাধ্যমকে বলেন, ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন রাখতে জেলার গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট গাজীপুর চৌরাস্তা, ভোগড়া, চন্দ্রাসহ বিভিন্ন এলাকায় মোট ১৮ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করা হয়েছে। তাঁদের সহায়তায় বিজিবি, আনসার ও পুলিশ সদস্যরা মাঠে কাজ করবেন। বিশেষ করে গাজীপুর চৌরাস্তার যানজট নিয়ন্ত্রণে ১০ সদস্যের বিজিবি দল সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করবে। এ ছাড়া পোশাক কারখানার শ্রমিক ও সাধারণ মানুষের যাতায়াত সহজ করতে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বিআরটিসির অতিরিক্ত ৬০টি দ্বিতল শীতাতপনিয়ন্ত্রিত বাস চালুর ব্যবস্থা করা হয়েছে।
ঈদ উপলক্ষে গাজীপুরে মোট ১১১টি পশুর হাট বসেছে। এর মধ্যে ১৭টি হাট নগরের মধ্যে। বেশ কয়েকটি হাট মহাসড়কের খুব কাছাকাছি হওয়ায় পশুবাহী ট্রাক ও পিকআপের চলাচল বাড়বে, যা যানজটের অন্যতম কারণ হয়ে উঠতে পারে।
গাজীপুর মহানগর পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের উপকমিশনার আশরাফুল আলম সাংবাদিকদের বলেন, ঈদযাত্রায় মহাসড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে যানজটমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে ট্রাফিক বিভাগের বিশেষ টিম মাঠে থাকবে। পশুর হাটের কারণে কোথাও যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পরিবহনচালক ও কাউন্টারের কর্মীরা জানান, ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে এখনো ভাসমান দোকান, অবৈধ স্ট্যান্ড ও সড়ক বিভাজকে পার্কিংয়ের প্রবণতা দেখা যায়। এসব কারণে সড়কের প্রস্থ কমে যায় এবং দ্রুত যানজট তৈরি হয়। বিশেষ করে বোর্ডবাজার, গাজীপুর চৌরাস্তা, মাওনা, সফিপুর, পল্লী বিদ্যুৎ ও চন্দ্রা এলাকায় মহাসড়কের পাশে গড়ে ওঠা ভাসমান দোকান ও উড়ালসড়কের নিচের অবৈধ স্থাপনা যান চলাচলে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে।
নাওজোর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সওগাতুল আলম গণমাধ্যমকে বলেন, সম্ভাব্য যানজট নিরসনে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। চন্দ্রা এলাকার ফুটপাত ও অবৈধ দখল উচ্ছেদ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। মহাসড়কের পাশে কোনো অবৈধ দোকান বা স্থাপনা রাখতে দেওয়া হবে না।
ঈদযাত্রায় গাজীপুরের চন্দ্রা এলাকা উত্তরবঙ্গগামী যাত্রীদের অন্যতম বড় দুর্ভোগের নাম। উত্তরবঙ্গের প্রায় সব জেলার মানুষ ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক ব্যবহার করে বাড়িতে ফেরেন। এতে চন্দ্রা ত্রিমোড় এলাকায় যানবাহনের চাপ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। সড়ক ব্যবস্থাপনায় সমন্বয়ের অভাব, যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামা, অবৈধ পার্কিং ও নির্ধারিত বাস টার্মিনালের অভাবে চন্দ্রায় প্রায় প্রতি ঈদেই দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়। এতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকতে হয় যাত্রী ও পরিবহনশ্রমিকদের।
চন্দ্রা এলাকায় চালক মাহমুদুল হাসান বলেন, ঈদের সময় চন্দ্রা পার হতে কয়েক ঘণ্টা লেগে যায়। অবৈধ পার্কিং আর যত্রতত্র গাড়ি দাঁড়ানোর কারণে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়।
বাসের যাত্রী হাফিজা বেগম বলেন, ঈদের আগে বাড়িতে ফেরার সময় সবচেয়ে বেশি ভোগান্তি হয় চন্দ্রা এলাকায়। যানজট হলে ছোট শিশু ও বয়স্কদের নিয়ে খুব কষ্টের মধ্যে পড়তে হয়।
গাজীপুরে প্রায় তিন হাজার ছোট-বড় শিল্পকারখানা আছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, অধিকাংশ কারখানা ২৫ ও ২৬ মে ঈদের ছুটি ঘোষণা করেছে। কিছু কারখানা ২৭ মে পর্যন্ত খোলা থাকবে। একযোগে বিপুলসংখ্যক শ্রমিক ছুটিতে বের হলে মহাসড়কে ঘরমুখী মানুষের চাপ কয়েক গুণ বেড়ে যায়। বিশেষ করে উত্তরবঙ্গগামী যাত্রীদের প্রধান প্রবেশমুখ গাজীপুর চৌরাস্তা ও চন্দ্রা ত্রিমোড় এলাকায় দীর্ঘ যানজটের আশঙ্কা আছে।
গাজীপুর শিল্প পুলিশের পুলিশ সুপার আমজাদ হোসেন বলেন, অধিকাংশ কারখানা ২৫ ও ২৬ মে ছুটি দেবে। কিছু কারখানা ২৭ মে ছুটি ঘোষণা করেছে। বর্তমানে ১০ থেকে ১২টি কারখানায় বেতন–ভাতাসংক্রান্ত সমস্যা আছে। মালিকপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত সমাধানের চেষ্টা চলছে।


আপনার মতামত লিখুন :
More News Of This Category