• বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ০৬:৩৪ অপরাহ্ন
Headline
আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় বললেন রোনালদো দুই দশক পর সরকার প্রধান বাগেরহাটে, নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন করে আগ্রহ ও উচ্ছ্বাস পরীক্ষা দিতে বেরিয়ে নিখোঁজ যুথি, দুইদিন পর বাড়ির পাশেই মিলল মরদেহ মুন্সীগঞ্জে মাজারে ঢুকে ঘুমন্ত ভক্তকে কুপিয়ে হত্যা কুমিল্লাজুড়ে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান, আটক ২৯৯ জন রাজশাহীতে পুলিশের অভিযানে ২৪ ঘণ্টায় গ্রেফতার ১৭৫ জয়পুরহাটে বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে তরুণ নিহত, বিক্ষুব্ধ জনতার আগুনে পুড়ল বাস মানিকগঞ্জে ট্রিপল মার্ডার মামলায় পাঁচ জনের মৃত্যুদণ্ড, ৮ জনের যাবজ্জীবন নারায়ণগঞ্জে সতর্ক পুলিশ, কাজে যোগ দিয়েছেন শ্রমিকরা দীর্ঘ বিরতি শেষে প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিনে, উচ্ছ্বসিত পর্যটকরা

দঙ্গল দিয়ে শুরু সানিয়া মালহোত্রা এখন অনেক সচেতন

Reporter Name / ১৬৪ Time View
Update : রবিবার, ৩ মে, ২০২৬

প্রভাত বিনোদন : বলিউডে এক দশক পার করেছেন সানিয়া মালহোত্রা। ২০১৬ সালে দঙ্গল দিয়ে শুরু হওয়া এই যাত্রায় তাঁর বড় অর্জন আত্মবিশ্বাস। সময়কে সঙ্গে নিয়ে নিজেকে নতুন করে গড়ে তুলেছেন তিনি। শিখেছেন নিজের অবস্থানে দৃঢ় থাকতে, সিদ্ধান্ত নিতে এবং প্রয়োজন হলে স্পষ্টভাবে ‘না’ বলতে। এখনকার সানিয়া অনেক বেশি সচেতন; নিজের পছন্দ-অপছন্দকে গুরুত্ব দেন, কাজ বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রেও আর আগের মতো দ্বিধায় ভোগেন না।
নেটফ্লিক্সের সিনেমা ‘টোস্টার’-এর প্রচারণায় সেই আত্মবিশ্বাসী সানিয়াকেই পাওয়া গেল। ১৫ এপ্রিল মুক্তি পাওয়া ছবিটির প্রচারণায় গিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপে বারবার ফিরে এসেছে তাঁর শুরুর দিনগুলোর লড়াইয়ের গল্প। সানিয়া জানালেন, ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে সুযোগ হারানোর আতঙ্ক তাঁকে সব সময় তাড়া করত। নতুন একজন অভিনেত্রীর কাছে প্রতিটি প্রস্তাবই তখন গুরুত্বপূর্ণ, ফলে ‘না’ বলা হয়ে উঠত প্রায় অসম্ভব। সানিয়ার ভাষ্যে, ‘না বলার আগে আমার প্যানিক অ্যাটাক হতো। মনে হতো, যদি কাজটাই হারিয়ে ফেলি!’
এই ভয় শুধু সিদ্ধান্তেই নয়, সানিয়ার মানসিক অবস্থাতেও প্রভাব ফেলত। তিনি জানান, অনেক সময় নিজের ইচ্ছার বিরুদ্ধে কাজ করতে হয়েছে, শুধু সুযোগ হারানোর আশঙ্কায়। ‘কোনোভাবে না বললেও পরে মাসের পর মাস সেটা নিয়ে ভাবতাম। মনে হতো, হয়তো ভুল করলাম,’ বলেছেন তিনি।
এই দ্বিধাগ্রস্ত সানিয়াই সময়ের সঙ্গে ধীরে ধীরে বদলে গেছেন। অভিজ্ঞতা তাঁকে শিখিয়েছে, সব কাজ গ্রহণ করাই সাফল্যের পথ নয়; বরং বেছে নেওয়াটাই গুরুত্বপূর্ণ। নিজের সিদ্ধান্তে এখন তিনি অনেক বেশি সচেতন। তাঁর কথায়, ‘না বলতে না পারলে শুধু অন্যের স্বপ্নই বাঁচানো হয়, নিজেরটা নয়।’
নতুন করে পর্দায় তাঁর স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি আবারও নজর কেড়েছে। বিশেষ করে কমেডি ঘরানায় তাঁর সহজ অভিনয় ‘টোস্টার’কে দিয়েছে আলাদা মাত্রা। ছবিতে তিনি রাজকুমার রাওয়ের বিপরীতে অভিনয় করেছেন সানিয়া। এক অতিমাত্রায় মিতব্যয়ী মানুষের জীবন আর দাম্পত্য সম্পর্কের ভেতরের সূক্ষ্ম হাস্যরস নিয়ে নির্মিত এই ছবিতে সানিয়ার চরিত্রে আছে মিশ্র আবেগ ও হালকা কমেডির আড়ালে লুকিয়ে থাকা বাস্তবতার ছাপ। সহশিল্পী রাজকুমার রাওও তাঁর প্রশংসায় পঞ্চমুখ, ‘কমেডিতে সানিয়া দারুণ। সেটে শান্ত থাকলেও পর্দায় সে একেবারে অন্য মানুষ।’
রাজকুমারের সঙ্গে সানিয়ার রসায়ন নতুন নয়। আগেও দুজনকে একসঙ্গে দেখা গেছে, তবে এবার তাঁদের উপস্থিতি আরও স্বাচ্ছন্দ্য। এই স্বাচ্ছন্দ্যই ছবির অন্যতম শক্তি। সানিয়া নিজেও বলেন, ‘রাজের সঙ্গে আবার কাজ করার সুযোগটা ঠিক সময়ে এসেছে। আমরা দুজনই একে অপরের কাজ বুঝতে পারি।’
‘লুডো’ ইত্যাদি ছবিতেও এর আগে ভিন্ন ধরনের চরিত্রে অভিনয় করে নিজের প্রতিভা দেখিয়েছেন সানিয়া। আর ‘মিসেস’ ছবিতে তাঁর সংযত, গভীর অভিনয় তাঁকে এনে দেয় সমালোচকদের প্রশংসা। তবে এই প্রশংসাকে তিনি চাপ হিসেবে নেন না; বরং এটিকে দেখেন অনুপ্রেরণা হিসেবে।
সানিয়ার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় পরিবর্তন তাঁর দৃষ্টিভঙ্গিতে এসেছে। আগে যেখানে কাজ হারানোর ভয় পেতেন, এখন সেখানে নিজের পছন্দ-অপছন্দকে গুরুত্ব দেন। পরিচালকের মাধ্যম হিসেবে সিনেমাকে দেখলেও নিজের অবস্থান জানানোর গুরুত্ব তিনি উপলব্ধি করেছেন। তাঁর বিশ্বাস, ‘নিজের কথা বলারও একটা সঠিক উপায় আছে। সেটা ঠিকভাবে বলতে পারলে কোনো সমস্যা হয় না।’


আপনার মতামত লিখুন :
More News Of This Category