• রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:১৮ পূর্বাহ্ন
Headline
হোমনায় ডাকাত সন্দেহে গ্রেপ্তার, মুক্তির দাবিতে সড়ক অবরোধ রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতিতে দেয়া কালি মুছে ভাইরাল রিকশাচালক সুপারিশকৃত বিচারকদের হবে ডোপ টেস্ট, বেঁধে দেয়া হলো সময় ভোটারের হাতের কালি শুকানোর আগেই ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়ন করা হয়েছে: শামা ওবায়েদ ‘কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালকে ১০০০ শয্যায় উন্নীত করা হবে’: কৃষিমন্ত্রী এসএসসিতে ফেল করা শিক্ষার্থীদের ৩–৬ মাসের মধ্যে পুনরায় পরীক্ষা নেয়া হবে: মাহদী আমিন সিটি করপোরেশনের ৭৫টি ওয়ার্ডে ডিএসসিসির বিশেষ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান দেশে চাহিদার তুলনায় পর্যাপ্ত খাদ্য মজুত রয়েছে : খাদ্যমন্ত্রী ক্ষতিকর উপাদানে তৈরি নকল ও ভেজাল পণ্যে বাজার সয়লাব শিক্ষার্থীদের ফলাফলের পাশাপাশি পাঠদানের কার্যকারিতাও মূল্যায়ন করতে হবে : ববি হাজ্জাজ

নেটফ্লিক্সের শীর্ষ থাকা সিরিজ ‘ইস্ট অব ইডেন’র চার দিনে ভিউ ৬৫ লাখ

Reporter Name / ৫ Time View
Update : শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬

প্রভাত বিনোদন : সাহিত্যের পাতায় যে গল্পের আবেদন কয়েক দশক পেরিয়েও ফুরায়নি, পর্দায় নতুন করে সেই গল্পই দর্শকের সামনে এনেছে নেটফ্লিক্স। মার্কিন লেখক জন স্টাইনবেকের কালজয়ী উপন্যাস ‘ইস্ট অব ইডেন’ অবলম্বনে নির্মিত সাত পর্বের সিরিজটি মুক্তির পর থেকেই আলোচনায়। এতে কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন ব্রিটিশ অভিনেত্রী ফ্লোরেন্স পিউ। তাঁর সঙ্গে আছেন ক্রিস্টোফার অ্যাবট, মাইক ফাইস্ট ও হুন লি। পারিবারিক দ্বন্দ্ব, মানুষের মনস্তত্ত্ব, স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা আর ভালো-মন্দের চিরন্তন লড়াই—সব মিলিয়ে সিরিজটি সমালোচকদেরও নজর কেড়েছে।
গত ১ অক্টোবর নেটফ্লিক্সে মুক্তি পায় সিরিজটি। ফোর্বসের ১ অক্টোবরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মুক্তির দিন রিভিউ সংগ্রহের ওয়েবসাইট রটেন টম্যাটোজে ২৭টি সমালোচনার ভিত্তিতে সিরিজটির স্কোর ছিল ৮৯ শতাংশ। পরে ভ্যারাইটি, দ্য হলিউড রিপোর্টারসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমেও সিরিজটির অভিনয় ও নির্মাণ নিয়ে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। নেটফ্লিক্সের বৈশ্বিক তালিকার শীর্ষে উঠে আসার পর দর্শকদের আগ্রহ আরও বেড়েছে। প্রথম চার দিনে ভিউ ৬৫ লাখ। সিরিজটির প্রথম চারটি পর্ব পরিচালনা করেছেন গার্থ ডেভিস। বাকি তিনটি পর্ব পরিচালনা করেছেন লর দ্য ক্লেরমোঁ-টোনের।
‘ইস্ট অব ইডেন’-এর পটভূমি বিশ শতকের শুরুর দিকের যুক্তরাষ্ট্র। ক্যালিফোর্নিয়ার কৃষিপ্রধান স্যালিনাস উপত্যকাকে ঘিরে আবর্তিত হয়েছে ট্রাস্ক পরিবারের কয়েক প্রজন্মের কাহিনি। এর কেন্দ্রে রয়েছেন ক্যাথি অ্যামস—স্বাধীনচেতা, রহস্যময় এবং নিজের লক্ষ্য পূরণে আপসহীন এক নারী।
ক্যাথির জীবনে প্রবেশ করেন দুই সৎভাই অ্যাডাম ও চার্লস ট্রাস্ক। তাঁদের বাবা সাইরাস ট্রাস্ক দুই ছেলের জীবনকে নিজের ইচ্ছেমতো গড়ে তুলতে চান। বাবার পক্ষপাত, প্রত্যাশা ও কঠোর মনোভাব দুই ভাইয়ের সম্পর্কের মধ্যে তৈরি করে দূরত্ব। এই পারিবারিক দ্বন্দ্বের সঙ্গে ক্যাথির উপস্থিতি যুক্ত হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।
অ্যাডাম চরিত্রটি বিশ্বাসপ্রবণ ও স্বপ্নবিলাসী। অন্যদিকে চার্লসের মধ্যে রয়েছে সন্দেহপ্রবণতা ও তীক্ষ্ণ বাস্তববোধ। ক্যাথির সঙ্গে তাঁদের সম্পর্কের ধরনও আলাদা। এই তিন চরিত্রের টানাপোড়েন থেকেই গল্পে জন্ম নেয় ভালোবাসা, প্রতারণা, ঈর্ষা ও ক্ষমতার লড়াই। তবে সিরিজটি কেবল একটি পরিবারের সম্পর্কের গল্প নয়। সময়ের সঙ্গে ক্যাথির জীবন বদলে যায়। শৈশবের অন্ধকার অভিজ্ঞতা, সমাজের বিধিনিষেধ এবং নিজের স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা তাঁকে এমন এক চরিত্রে পরিণত করে, যাঁকে সহজে ভালো বা মন্দ—কোনো একটি পরিচয়ে আটকে রাখা যায় না। একসময় নিজের পরিচয় বদলে নতুন জীবন শুরু করেন তিনি।
জন স্টাইনবেকের ইস্ট অব ইডেন প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৫২ সালে। আমেরিকান সাহিত্যের গুরুত্বপূর্ণ এই উপন্যাসে বাইবেলের কেইন ও অ্যাবেলের কাহিনির প্রতিধ্বনি রয়েছে। দুই ভাইয়ের দ্বন্দ্বের মধ্য দিয়ে লেখক অনুসন্ধান করেছেন ঈর্ষা, পাপ, পারিবারিক উত্তরাধিকার এবং মানুষের নিজের পথ বেছে নেওয়ার স্বাধীনতা।
উপন্যাসটির আগে থেকেই চলচ্চিত্রের ইতিহাসে একটি পরিচিত অধ্যায় রয়েছে। ১৯৫৫ সালে নির্মাতা এলিয়া কাজান একই নামে সিনেমা তৈরি করেন। সেই ছবিতে অভিনয় করেছিলেন জেমস ডিন। তবে সিনেমাটি উপন্যাসের পুরো কাহিনি তুলে ধরেনি; মূলত গল্পের শেষাংশের ওপর গুরুত্ব দিয়েছিল।
নতুন সিরিজটির নির্মাতা ও চিত্রনাট্যকার জো কাজান। তিনি এলিয়া কাজানের নাতনি। ফলে সাহিত্যকর্মটির সঙ্গে তাঁর পারিবারিক যোগসূত্রও রয়েছে। তবে নতুন সিরিজটি কেবল আগের সিনেমার পুনর্নির্মাণ নয়; বরং উপন্যাসের বিস্তৃত কাহিনি নতুনভাবে তুলে ধরার চেষ্টা। তবে চরিত্রটির অতীত ব্যাখ্যা করতে গিয়ে নির্মাতা কোথাও কোথাও মূল উপন্যাসের তুলনায় আলাদা পথ নিয়েছেন। এই পরিবর্তন নিয়ে সমালোচকদের মধ্যে মতভেদও রয়েছে। কেউ মনে করছেন, এতে চরিত্রটি আরও মানবিক হয়েছে; অন্যদের মতে, ব্যাখ্যার ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়ায় তার রহস্যময়তা কিছুটা কমেছে।
ক্যাথি অ্যামস চরিত্রে ফ্লোরেন্স পিউর অভিনয় সিরিজটির অন্যতম বড় আকর্ষণ। চরিত্রটির বয়স, অভিজ্ঞতা ও পরিস্থিতির পরিবর্তনের সঙ্গে তাঁর অভিব্যক্তি ও আচরণেও আসে ভিন্নতা। কখনো অসহায়, কখনো হিসাবি, আবার কখনো নির্মম—বিভিন্ন অবস্থায় ক্যাথিকে বিশ্বাসযোগ্য করে তোলার চেষ্টা করেছেন তিনি।
‘লিটল উইমেন, ‘মিডসামার’ ও ‘ডোন্ট ওরি ডার্লিং’-এর মতো কাজের মাধ্যমে পরিচিতি পাওয়া পিউ এখানে এমন একটি চরিত্র পেয়েছেন, যার ভেতরে রয়েছে বহুস্তরীয় দ্বন্দ্ব। ক্যাথির স্বাধীনচেতা মনোভাব যেমন দর্শককে আকর্ষণ করে, তেমনি তাঁর সিদ্ধান্তের নিষ্ঠুর পরিণতি অস্বস্তিও তৈরি করে।

আইএমডিবি, ভ্যারাইটি ও নেটফ্লিক্সডটকম অবলম্বনে


আপনার মতামত লিখুন :
More News Of This Category