• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৩৮ অপরাহ্ন
Headline
ইসরায়েলে সরকার গড়ার মতো সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাচ্ছে না কেউ, কে হবেন প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনে হেরে গোপনে ব্রাজিল ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রে গেলেন ফ্লাভিও বলসোনারো সরকার গড়ার মতো আসন না পেয়েও কি ক্ষমতায় থাকছেন নেতানিয়াহু পদুচেরি উপকূলে আঘাত হেনেছে ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’, পূর্ব ভারতে ভারী বৃষ্টি এতদিন ভুল করেছি, দর্শকদের কাছে ক্ষমা চাইল সার্বিয়ান টিভি আটক ৩৭ খনিশ্রমিকের মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে তদন্তে যা জানা গেলো পোশাক রপ্তানিতে মৌলিক ৩ পণ্যের আধিপত্য ৮০ শতাংশ কক্সবাজারে নকল ব্যান্ডরোলের সাড়ে ৪ লাখ সিগারেট জব্দ গ্লোবাল ফাইন্যান্সের সেরা ডিজিটাল ব্যাংক পুরস্কার পেয়েছে এমটিবি গ্যাসসংযোগ , বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও নিরাপত্তা সংকটে মুখ থুবড়ে পড়েছে সিলেট হাই-টেক পার্ক

পোশাক রপ্তানিতে মৌলিক ৩ পণ্যের আধিপত্য ৮০ শতাংশ

Reporter Name / ৪ Time View
Update : বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬

প্রভাত অর্থনীতি: চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানিতে ৬ দশমিক ১০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। এ সময়ে পোশাক রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ১ হাজার ৫৮ কোটি ডলার, যা গত অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ৯৯৭ কোটি ডলার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে রপ্তানি আয় বেড়েছে প্রায় ৬০ কোটি ৮০ লাখ ডলার। তবে রপ্তানি আয়ের এই প্রবৃদ্ধিতে প্রধান ভূমিকা রেখেছে বাংলাদেশের প্রচলিত ও মৌলিক ধরনের পোশাক পণ্য। বিশেষ করে প্যান্টসহ বিভিন্ন ধরনের বটমওয়্যার, সোয়েটার ও কার্ডিগান এবং টি-শার্ট ও ভেস্ট-এই তিন পণ্যের সম্মিলিত অবদান ছিল মোট প্রবৃদ্ধির প্রায় ৮০ শতাংশ। অন্যদিকে তুলনামূলক উচ্চমূল্য সংযোজনকারী উন্নত ধরনের পোশাকপণ্যের রপ্তানি বেড়েছে সামান্য; মোট রপ্তানিতে এ ধরনের পণ্যের অংশও কমেছে।
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্যের ভিত্তিতে বাংলাদেশ অ্যাপারেল ভয়েসের (বিএভি) সংকলিত উপাত্তে এসব চিত্র উঠে এসেছে।
প্রথম প্রান্তিকে মৌলিক ধরনের পোশাকপণ্যের (বেসিক গার্মেন্টস) রপ্তানি আয় দাঁড়িয়েছে ৮২৬ কোটি ডলার, যা গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৭ দশমিক ৪৫ শতাংশ বেশি। এই শ্রেণির পণ্য রপ্তানি থেকে আয় বেড়েছে ৫৭ কোটি ৩০ লাখ ডলার, যা সামগ্রিক পোশাক রপ্তানির প্রবৃদ্ধির প্রায় ৯৪ শতাংশ।
এ সময়ে মোট পোশাক রপ্তানিতে মৌলিক পণ্যের অংশ বেড়ে ৭৮ দশমিক ০৬ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। গত অর্থবছরের একই প্রান্তিকে এ হার ছিল ৭৭ দশমিক ০৮ শতাংশ। অর্থাৎ বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানির পণ্যভিত্তিক কাঠামো আরও বেশি মৌলিক পণ্যের দিকে ঝুঁকেছে।
পণ্যভিত্তিক হিসাবে বটমওয়্যারের রপ্তানি আয় বেড়েছে ২০ কোটি ১০ লাখ ডলার। সোয়েটার ও কার্ডিগানের ক্ষেত্রে বেড়েছে ১৭ কোটি ৮০ লাখ ডলার। আর টি-শার্ট ও ভেস্ট রপ্তানি থেকে আয় বেড়েছে ১০ কোটি ৪০ লাখ ডলার। এই তিন শ্রেণির পণ্যে সম্মিলিতভাবে রপ্তানি আয় বেড়েছে ৪৮ কোটি ৩০ লাখ ডলার। ফলে সামগ্রিক রপ্তানি আয় বৃদ্ধির বড় অংশই এসেছে এসব পণ্য থেকে। তবে প্রবৃদ্ধির হারে এগিয়ে ছিল শিশুদের পোশাক। এ শ্রেণির পণ্য রপ্তানি আয় বেড়েছে ১০ দশমিক ১৯ শতাংশ। যদিও রপ্তানির পরিমাণ তুলনামূলক কম; প্রথম প্রান্তিকে এর আয় ছিল ৩০ কোটি ডলার।
আধা-মৌলিক পোশাকপণ্যের শ্রেণিতে শার্ট ও ব্লাউজ অন্তর্ভুক্ত। প্রথম প্রান্তিকে এ শ্রেণির পণ্য রপ্তানি আয় বেড়েছে ১ দশমিক ৭৭ শতাংশ, দাঁড়িয়েছে ৮৪ কোটি ২০ লাখ ডলারে। তবে মোট পোশাক রপ্তানিতে এ ধরনের পণ্যের অংশ কমেছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে অংশ ছিল ৮ দশমিক ৩০ শতাংশ, যা এবার কমে ৭ দশমিক ৯৬ শতাংশ হয়েছে।
অর্থাৎ সামগ্রিক রপ্তানি বাড়লেও শার্ট ও ব্লাউজের মতো পণ্যের প্রবৃদ্ধি তুলনামূলক ধীর ছিল। ফলে মোট রপ্তানিতে এসব পণ্যের আপেক্ষিক গুরুত্ব কিছুটা কমেছে।
উন্নত ধরনের পোশাকপণ্যের (অ্যাডভান্সড প্রোডাক্টস) রপ্তানি আয় প্রথম প্রান্তিকে বেড়েছে মাত্র ১ দশমিক ৪২ শতাংশ। এ শ্রেণিতে আয় হয়েছে ১৪৮ কোটি ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ২ কোটি ১০ লাখ ডলার বেশি।
এ শ্রেণির মধ্যে আউটারওয়্যার বা বাইরের পোশাক রপ্তানি থেকে আয় বেড়েছে ৩ কোটি ৩০ লাখ ডলার। টেকনিক্যাল ওয়্যার বা বিশেষ কারিগরি বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন পোশাকের আয় বেড়েছে ১ কোটি ৮০ লাখ ডলার। তবে কয়েকটি পণ্যের রপ্তানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। এরমধ্যে ড্রেসের রপ্তানি আয় কমেছে ১০ দশমিক ৬৬ শতাংশ, স্পোর্টসওয়্যার ও অ্যাকটিভওয়্যারের ১১ দশমিক ২৪ শতাংশ এবং স্যুট ও এনসেম্বলসের ১৪ দশমিক ৪৮ শতাংশ। ফলে উন্নত ধরনের পোশাকপণ্যের মোট রপ্তানিতে অংশ কমে ১৩ দশমিক ৯৮ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। গত অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে এ হার ছিল ১৪ দশমিক ৬৩ শতাংশ। অর্থাৎ এ শ্রেণির রপ্তানি আয় সামান্য বাড়লেও সামগ্রিক পোশাক রপ্তানিতে এর অংশ কমেছে।
প্রথম প্রান্তিকের পরিসংখ্যান বলছে, বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি অব্যাহত থাকলেও তা মূলত প্রচলিত ও মৌলিক পণ্যের ওপর নির্ভরশীল। বটমওয়্যার, সোয়েটার ও টি-শার্টের মতো পণ্য রপ্তানি বৃদ্ধিতে বড় অবদান রাখছে। বিপরীতে তুলনামূলক উন্নত ধরনের কয়েকটি পোশাকপণ্যে রপ্তানি কমেছে, আর পুরো শ্রেণির প্রবৃদ্ধিও সীমিত রয়েছে। ফলে মোট রপ্তানি আয় বাড়লেও পণ্যভিত্তিক বৈচিত্র্য ও উচ্চমূল্য সংযোজনকারী পোশাকের অংশ বাড়ানোর ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে। রপ্তানি আয়ের প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি উন্নত ধরনের পোশাকপণ্যের বাজার সম্প্রসারণ এবং পণ্যের বৈচিত্র্য বাড়ানো বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।


আপনার মতামত লিখুন :
More News Of This Category