• রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ০৫:৪৪ অপরাহ্ন
Headline
‘সন্ধ্যার পর শিক্ষার্থীদের রাস্তায় পেলে গ্রেফতার করা হবে’ ‘স্যারের ভুলের জন্য আজ এমন হলো’ শেষ চিরকুটে এইচএসসি পরীক্ষার্থী নদী-খাল খননে ছয় মাসে কাজ শেষ, দাবি পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রীর আপত্তিকর ভিডিও প্রকাশ: শিবচরে সেই জামায়াত নেতার বাড়ি ভাঙচুর প্রথমদিন পর্যটকবাহী কোন জাহাজ সেন্টমার্টিনে যায়নি হাতে আঙুল নেই, পা দিয়ে লিখেই এইচএসসি জয় কলির আওয়ামী লীগ জনগণের ভোটে নির্বাচিত ছিল না: খায়রুল কবির খোকন আত্মসমর্পণ করলেন সিরাজগঞ্জ, পাবনা ও রাজবাড়ী জেলার ৬৫ চরমপন্থি সাজেকে অবরোধ শিথিলের দিনেই পাল্টা অবরোধ, ভোগান্তি পর্যটকদের টাঙ্গাইলে শিশুকে ধর্ষণচেষ্টা, আসামি গ্রেপ্তার

প্রথমদিন পর্যটকবাহী কোন জাহাজ সেন্টমার্টিনে যায়নি

Reporter Name / ৫ Time View
Update : রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৬

প্রভাত সংবাদদাতা,কক্সবাজার: সেন্টমার্টিনে ১ নভেম্বর থেকে পর্যটক যাওয়ার অনুমতি মেলায় শুরু হয়েছে যাত্রার সময়। পর্যটক বরণ ও সেবায় সবকিছু প্রস্তুত। কিন্তু প্রথমদিন পর্যটকবাহী কোন জাহাজ প্রবালদ্বীপ সেন্টমার্টিনের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়নি। কেননা জাহাজগুলো এখনো দ্বীপে যাবার অনুমতি পায়নি। ফলে সেন্টমার্টিনবাসী, ব্যবসায়ী ও জাহাজ মালিক এবং পর্যটক সবার মাঝে ক্ষোভ বিারজ করছে।
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের আন্তঃমন্ত্রণালয়ের বৈঠকের সিদ্ধান্ত মতে, ১ নভেম্বর থেকে ১৫ মার্চ পর্যন্ত সেন্টমার্টিনে যাতায়াতের পাশাপাশি রাত যাপন করা যাবে। তবে, দ্বীপের পরিবেশ সংরক্ষণে প্রতি পর্যটক থেকে ১০০ টাকা ফি নেয়ার কথা উল্লেখ করেছে আন্তঃমন্ত্রণালয় সংক্রান্ত কমিটির সভার সিদ্ধান্তে।
পর্যটন মৌসুম শুরুর একমাস তিন দিনের মাথায় সেন্টমার্টিন ভ্রমণের জন্য উন্মুক্ত হয়েছে জেনে দ্বীপবাসী ও পর্যটকদের মাঝে আনন্দ বিরাজ করছিল। দীর্ঘ আটমাসের বেশি সময় পর্যটক শূন্য দ্বীপের আবাসন, রেস্তোরাঁ ও পরিবহন ব্যবসায়ীরা পর্যটন সেবার অনুষঙ্গ ধোঁয়া-মুছে প্রস্তুতি নেয়। আর দ্বীপে যেতে জাহাজের টিকিট, রাত্রিযাপনে হোটেল-রিসোর্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেন ভ্রমণপ্রেমীরা।
কিন্তু সবকিছু প্রস্তুত হলেও ১ নভেম্বর সেন্টমার্টিনের উদ্দেশ্যে কক্সবাজার বা টেকনাফ থেকে পর্যটকবাহী কোন জাহাজ ছাড়েনি। কবে থেকে পর্যটকবাহী জাহাজ যাতায়ত শুরু করবে না তাও কেউ বলতে পারছেন না। টিকিটের জন্য পর্যটন বোর্ডের কিউআরকোড সচল না হওয়া, জাহাজ চলাচলে মন্ত্রণালয়, জেলা প্রশাসন এবং অন্য সরকারি সংস্থা হতে অনুমতি পেতে বিলম্বের কারণেই এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে অভিমত সংশ্লিষ্টদের।
দ্বীপের ব্যবসায়ী, পর্যটক, জাহাজ মালিকদের মতে- যাত্রার নির্ধারিত সময় শুরু হয়েছে। কিন্তু পর্যটকহীন দিনগুলো চলে যাওয়া মানে পর্যটন সংশ্লিষ্ট সবার ক্ষতি।
সী ক্রুজ অপারেটর ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (স্কোয়াব) সাধারণ সম্পাদক হোসাইন ইসলাম বাহাদুর জানান, সেন্টমার্টিনে পর্যটকবাহী এমবি কর্ণফুলি, বার আউলিয়া, এমবি টেকনাফ সেন্টমার্টিন নৌরুটে পর্যটক পরিবহনের পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র পেয়েছে। তিনটি জাহাজের ধারণ ক্ষমতা দুই হাজার তিনশ। বৃহস্পতিবার সকালে পরিবেশের ছাড়পত্র মিললেও নৌ-পরিবহন অধিদপ্তরের ভয়েস লাইসেন্স, বিআইডব্লিউটিএ- রুট পারমিট এবং কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের স্থানীয় অনুমোদন হয়নি। ফলে প্রস্তুতি থাকার পরও ১ নভেম্বর পর্যটক পরিবহণে ব্যর্থ হয়েছি।
তার মতে, সেন্টমার্টিনগামী পর্যটকদের টিকিট বুকিং দিতে হবে ট্যুরিজম বোর্ডের সফটওয়্যার থেকে। এখনও সফটওয়্যার ওপেন হয়নি। ১ নভেম্বর অফিস খুলেছে- আমরা সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগোযোগ করছি। ওয়ানস্টপ সার্ভিস চালু হলে, এতটা ভোগান্তিতে পড়তাম না। একেক বিভাগ একেক জায়গায় হওয়ায় ভোগান্তির মাত্রা বেড়েছে। তবে অনুমোদন পাওয়া মাত্র জানানো হবে।
কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) তাসনীম জাহান বলেন, সেন্টমার্টিন দ্বীপে পর্যটকবাহী জাহাজগুলো চলতে সংশ্লিষ্ট বেশ কয়েকটি বিভাগ থেকে অনুমতি লাগে। সেসব অনুমতি উপস্থাপনের বিপরীতে স্থানীয় অথরিটি হিসেবে জেলা প্রশাসন সর্বশেষ অনুমতি দিয়ে থাকে। এখনো জাহাজ মালিকরা প্রপার ডকুমেন্টসসহ যোগাযোগ করেনি। যথাযথভাবে এলে দ্রুতই অনুমতি সম্পন্ন করবো।
বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের প্রধান নির্বাহী (সিইও) ব্যারিস্টার মুতাসিম বিল্লাহ ফারুকী বলেন, এবারও ট্রাভেল পাস নিয়ে পর্যটকদের দ্বীপে যেতে হবে। এ বিষয়ে কারিগরি প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। দুয়েকদিনে মধ্যে জাহাজ সংশ্লিষ্ট এবং অন্য সহযোগী সংস্থার কর্তাদের সঙ্গে বোর্ড বৈঠক করে সব কিছু সম্পন্ন করবে।
সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ফয়জুল ইসলাম বলেন, দ্বীপে পর্যটক যাত্রার খবর শুনে আনন্দ হলেও দিনক্ষণ শুরুর পরও পর্যটকবাহী জাহাজ না যাওয়ায় শুরুতেই হতাশ দ্বীপবাসী। স্থানীয় মানুষের আয়-রোজগারের সুযোগ সৃষ্টির দিনগুলো পর্যটকহীন থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করছেন সংশ্লিষ্টরা। এরপরও সকল হোটেল, রিসোর্ট, রেস্তোরাঁসহ বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান মুখিয়ে আছে পর্যটক সেবায়।
টেকনাফ উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম অনীক চৌধুরী বলেন, পর্যটকদের নিরাপত্তার নিশ্চিতে কোস্টগার্ড, বিজিবি, নৌবাহিনী, পুলিশ সতর্ক অবস্থান নিশ্চিত করছে। সেখানের হোটেল রোস্তারাঁ মালিকদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :
More News Of This Category