• বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬, ০৮:৪০ অপরাহ্ন

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি আবার পর্যালোচনা করা দরকার: মোস্তাফিজুর রহমান

Reporter Name / ৩ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬

প্রভাত রিপোর্ট: যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে করা বাণিজ্যচুক্তি (শুল্কসংক্রান্ত চুক্তি) আবার পর্যালোচনা করা দরকার বলে মন্তব্য করেছেন বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান।
মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে ১০ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করলে জোরপূর্বক শ্রম সমস্যার সমাধান হবে না। তাতে আরও বেশি জোরপূর্বক শ্রম বা ‘ফোর্সড লেবার’ বাড়তে পারে।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর ধানমন্ডিতে সিপিডি কার্যালয়ে ‘২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ অর্থনীতি: উত্তরণকালীন সময়ে বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জ’ বিষয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন মোস্তাফিজুর রহমান।
গত মঙ্গলবার মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধির কার্যালয় বা ইউএসটিআর জোরপূর্বক শ্রমে তৈরি পণ্য আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপে ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে বাংলাদেশসহ ৬০টি দেশের পণ্যে অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের প্রস্তাব দেয়। এসব দেশের পণ্যে আরও ১০ থেকে সাড়ে ১২ শতাংশ শুল্ক আরোপ করতে চায় যুক্তরাষ্ট্র।
এ প্রসঙ্গে সংবাদ সম্মেলনে জানতে চান সাংবাদিকেরা। জবাবে সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘অনেক সময় যুক্তরাষ্ট্র তাদের লেন্স দিয়ে দেখার কারণে আমাদের দেশের বাস্তবতাকে হয়তো ঠিকভাবে নেয় না। আমাদের ইটভাটা ও অন্যান্য জায়গায় শিশুশ্রম আছে। বাস্তবতা হলো অনেক সময় পরিবারের প্রয়োজনে শিশুরা কাজে যায়।’ আবার বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) হিসাবে দেশে ৩২ লাখ পথশিশু আছে। এখন শিশুশ্রম কমাতে সহায়তা তহবিল না দিয়ে উল্টো রপ্তানির ওপর অতিরিক্ত ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করলে এর উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়।
মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র পাল্টা শুল্ক বসিয়েছিল ৬০টি দেশের ওপর। মাত্র ৯টি দেশ তাদের সঙ্গে চুক্তি করেছে। মার্কিন বাজারে বাংলাদেশের গড় শুল্ক ১৫ শতাংশ। তার ওপর অতিরিক্ত ১৯ শতাংশসহ মোট ৩৪ শতাংশ শুল্ক বসবে। এ নিয়ে আমরা চুক্তি করেছি। এর সঙ্গে ১০ শতাংশ নতুন শুল্ক যোগ হলে মোট শুল্ক দাঁড়াবে ৪৪ শতাংশ।’ অন্যদিকে যারা চুক্তি করেনি, তাদের কিন্তু ১৯ শতাংশ নেই। তাহলে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতার সক্ষমতা কোথায় দাঁড়াবে, সেটি বিবেচনায় নিতে হবে।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মার্কিন শুল্ক চুক্তিটি পর্যালোচনা করা প্রয়োজন বলে জানান মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি বলেন, এই চুক্তি অবশ্যই এখন আবার আলোচনা করা দরকার। ১০ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করে এটার সমাধান হবে না। তাতে আরও বেশি ফোর্সড লেবার বাড়তে পারে।
সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন পে-স্কেল বা বেতন কাঠামো নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ২০১৫ সালের পর দীর্ঘ ১১ বছর পর নতুন একটি পে-স্কেল কার্যকর হতে যাচ্ছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় এ–সংক্রান্ত একটি কমিশন করা হয়েছিল। এটি বাস্তবায়নে সরকারের বড় অঙ্কের তহবিল লাগবে, যা হয়তো একবারে সম্ভব নয়। আসন্ন বাজেটে একটি পথরেখা দিয়ে ধাপে ধাপে এটি বাস্তবায়ন করা যেতে পারে।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের বিদ্যমান অর্থনৈতিক সংকট থেকে পুনরুদ্ধার ও টেকসই প্রতিরোধক্ষমতা (রেজিলিয়েন্স) গড়ে তোলার জন্য প্রাতিষ্ঠানিক শক্তিশালীকরণ, প্রাতিষ্ঠানিক বিশ্বাসযোগ্যতা, জবাবদিহি ও সুশাসন নিশ্চিত করা অপরিহার্য পূর্বশর্ত।
তবে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার পাশাপাশি প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারটাও অপরিহার্য বলে জানান ফাহমিদা খাতুন। তিনি বলেন, জবাবদিহি ছাড়া নীতিগত সহায়তা কেবল সমস্যার সমাধানকে পিছিয়ে দিতে পারে।


আপনার মতামত লিখুন :
More News Of This Category