• রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৫৬ পূর্বাহ্ন
Headline
হোমনায় ডাকাত সন্দেহে গ্রেপ্তার, মুক্তির দাবিতে সড়ক অবরোধ রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতিতে দেয়া কালি মুছে ভাইরাল রিকশাচালক সুপারিশকৃত বিচারকদের হবে ডোপ টেস্ট, বেঁধে দেয়া হলো সময় ভোটারের হাতের কালি শুকানোর আগেই ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়ন করা হয়েছে: শামা ওবায়েদ ‘কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালকে ১০০০ শয্যায় উন্নীত করা হবে’: কৃষিমন্ত্রী এসএসসিতে ফেল করা শিক্ষার্থীদের ৩–৬ মাসের মধ্যে পুনরায় পরীক্ষা নেয়া হবে: মাহদী আমিন সিটি করপোরেশনের ৭৫টি ওয়ার্ডে ডিএসসিসির বিশেষ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান দেশে চাহিদার তুলনায় পর্যাপ্ত খাদ্য মজুত রয়েছে : খাদ্যমন্ত্রী ক্ষতিকর উপাদানে তৈরি নকল ও ভেজাল পণ্যে বাজার সয়লাব শিক্ষার্থীদের ফলাফলের পাশাপাশি পাঠদানের কার্যকারিতাও মূল্যায়ন করতে হবে : ববি হাজ্জাজ

রিকশাচালক-মুচিরাও লেনদেন করতে পারবেন বাংলা কিউআর দিয়ে: গভর্নর

Reporter Name / ৩ Time View
Update : শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬

প্রভাত অর্থনীতি: রিকশাচালক থেকে মুচি কিংবা ছোট-বড় সব শ্রেণিপেশার মানুষকে ডিজিটাল লেনদেনের আওতায় আনতে চায় বাংলাদেশ ব্যাংক। এ লক্ষ্যে আগামী নভেম্বর থেকে বাংলা কিউআরের মাধ্যমে ব্যক্তি থেকে ব্যক্তির লেনদেনের সুযোগ চালু হচ্ছে। এতে রিকশাচালক-মুচিসহ যে কেউ নিজস্ব কিউআর কোডের মাধ্যমে লেনদেন করতে পারবেন বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান। শনিবার (১০ অক্টোবর) বেলা ১১টায় বাংলা কিউআর কোড দিয়ে ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি পরিশোধ কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা জানান। ওয়ান ব্যাংক পিএলসি ও ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির যৌথ উদ্যোগে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
গভর্নর বলেন, বাংলা কিউআরের বাস্তবায়ন চারটি ধাপে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এর প্রথম ধাপ ছিল নিয়ন্ত্রক নির্দেশনা কার্যকর করা। ১ জুলাই থেকে সবার জন্য বাংলা কিউআর বাধ্যতামূলক করা হয়। চালুর পর দ্বিতীয় ধাপে এর কার্যক্ষমতা যাচাই করা হয়। এ ধরনের আন্তঃসংযোগভিত্তিক লেনদেনব্যবস্থায় একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক লেনদেন সামাল দেওয়ার সক্ষমতা নিশ্চিত করা জরুরি ছিল। কেননা মাস্টারকার্ডের ব্যবস্থা প্রতি সেকেন্ডে এক হাজার লেনদেন সম্পন্ন করতে পারলেও দেশের ন্যাশনাল পেমেন্ট সুইচ বাংলাদেশ (এনপিএসবি) ব্যবস্থায় সর্বোচ্চ প্রতি সেকেন্ডে ৩০০টি লেনদেনের সক্ষমতা পরীক্ষা করা হয়েছিল। তিনি বলেন, একসঙ্গে প্রায় ১০০টি সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানকে এ আন্তঃসংযোগভিত্তিক প্ল্যাটফর্মে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছিল। ফলে হঠাৎ করে বাংলা কিউআর সবার জন্য বাধ্যতামূলক করলে ব্যবস্থাটির কার্যক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ ছিল। তবে প্রায় দেড়-দুই মাসের মধ্যে এর কার্যক্ষমতা নিয়ে সন্তুষ্ট হওয়ার মতো অগ্রগতি দেখা যায়। এরপর বাংলা কিউআরের প্রচার ও প্রসারের লক্ষ্যে গত ১ অক্টোবর থেকে এ উদ্যোগ শুরু হয়েছে। একইসঙ্গে আন্তঃসংযোগের মাধ্যমে এক প্রতিষ্ঠান থেকে অন্য প্রতিষ্ঠানে লেনদেনের ক্ষেত্রে যে চার্জ ছিল, তা শূন্য করা হয়েছে। শুধু দুই হাজার টাকা নয়, পাঁচ হাজার, এক লাখ কিংবা দুই লাখ টাকা; যেকোনো অংকের লেনদেনের ক্ষেত্রেই এ চার্জ প্রযোজ্য হবে না।
আগামী নভেম্বর থেকে বাংলা কিউআরের চতুর্থ ধাপ শুরু হবে জানিয়ে মোস্তাকুর রহমান বলেন, এ পর্যায়ে ব্যক্তি থেকে ব্যক্তির মধ্যে লেনদেনের সুযোগ চালু করা হবে। তখন একজন ব্যক্তি অন্য যেকোনো ব্যক্তিকে বাংলা কিউআরের মাধ্যমে টাকা পাঠাতে পারবেন। এ ব্যবস্থায় রিকশাচালক, মুচি থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ; সবার নিজস্ব কিউআর কোড থাকবে।
বাংলা কিউআরের অগ্রগতি তুলে ধরে গভর্নর বলেন, জুনের প্রথম সপ্তাহে এ ব্যবস্থায় প্রতি সপ্তাহের দৈনিক গড় লেনদেনের পরিমাণ ছিল ৩৭ কোটি টাকা। সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহে তা বেড়ে প্রায় ১৮০ কোটি টাকায় পৌঁছায়। অর্থাৎ এ সময়ে লেনদেনের পরিমাণ চার গুণের বেশি বেড়েছে। তবে এ অগ্রগতিকে চূড়ান্ত সাফল্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। কারণ বাংলা কিউআরের যাত্রায় এখনও সামান্য পথ অতিক্রম করা হয়েছে। দৈনিক প্রায় তিন হাজার কোটি টাকা লেনদেন হলে এ ব্যবস্থাকে একটি যুক্তিসংগত অবস্থানে পৌঁছেছে বলে বিবেচনা করা যাবে।
বাংলা কিউআরের পাশাপাশি সরকারের ডিজিটাল জনপরিকাঠামো উদ্যোগের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ডিজিটাল জনপরিকাঠামোর তিনটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ রয়েছে। প্রথমটি ডিজিটাল পরিচয়, দ্বিতীয়টি ডিজিটাল লেনদেন এবং তৃতীয়টি তথ্য বিনিময়। ডিজিটাল পরিচয় মানে জন্মের পর একজন মানুষের যে পরিচয় তৈরি হবে, তা মৃত্যুর আগপর্যন্ত বহাল থাকবে। আর তথ্য বিনিময়ের ব্যবস্থা চালু হলে ব্যাংক হিসাব খোলা, ঋণ নেওয়া কিংবা বিভিন্ন দাপ্তরিক কাজে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে ছোটাছুটি করতে হবে না। পরিচয় নম্বরের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সনদ ও তথ্য যাচাই করা সম্ভব হবে। এরই মধ্যে ডিজিটাল জনপরিকাঠামো নিয়ে কাজ শুরু হয়েছে। পাশাপাশি তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি উপদেষ্টার ঘোষণার পর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক একটি উদ্যোগ নিয়েও কাজ চলছে।
বাংলা কিউআরকে জনপ্রিয় করার ক্ষেত্রে গণমাধ্যমকর্মীদের অবদানের কথা উল্লেখ করে গভর্নর মোস্তাকুর বলেন, এ উদ্যোগের যাত্রায় গণমাধ্যম অনেক সহযোগিতা করেছে। ফলে এ নিয়ে এখন শুধু দেশেই নয়, বিদেশেও আগ্রহ তৈরি হয়েছে। গুগল, মেটা ও হুয়াওয়ের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে আলোচনার সময়ও বাংলা কিউআর সম্পর্কে জানতে চাওয়া হয়েছে। আর এ উদ্যোগকে জনপ্রিয় করার পেছনে গণমাধ্যমের অবদানের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।


আপনার মতামত লিখুন :
More News Of This Category